বাস কেনার নামে সাড়ে চারশ কোটি টাকা লুটের ছক। অথচ কোনো টেন্ডার নেই, নেই কোনো প্রতিযোগিতা। সোজা বাংলায় এই রাষ্ট্রীয় চুক্তির অর্থ সিংহভাগ পাচার হবে তারেক সাহেবের বিদেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে, বাকিটা যাবে দলীয় তহবিলে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনার এই অনুমোদন দিয়েছে। তার আগে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় সড়ক পরিবহন বিভাগ। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন ১০০ থেকে হঠাৎ বাসের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ২০০ হলো। এই অতিরিক্ত একশ বাসের জন্য জনগণের আরও কয়েকশ কোটি টাকা গচ্চা যাবে সেটা নিশ্চিত, কিন্তু প্রশ্ন জাগে অনুমোদন কার স্বার্থে।
রাষ্ট্রীয় ক্রয়ে টেন্ডার উন্মুক্ত রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেটাকে একেবারে বাতিল করা হয়েছে। এটি কোনো সাধারণ অনিয়ম নয়, এটা পূর্বপরিকল্পিত আর্থিক কেলেঙ্কারি। কারণ বাংলাদেশে ইলেকট্রিক বাসের উপযোগিতা নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ ফিজিবিলিটি স্টাডি বা পাইলট প্রকল্পের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। চার্জিং স্টেশন অবকাঠামো নিয়ে বিআরটিসির নিজস্ব কোনো প্রযুক্তিগত দক্ষতা নেই বললেই চলে। তার উপর এই বাস কিনতে গেলে প্রতিটি ইলেকট্রিক বাসের পেছনে ব্যাটারি রিপ্লেসমেন্ট, বিদ্যুৎ খরচ ও ডিপো মেইনটেন্যান্স মিলিয়ে বছরে কোটি টাকা খরচ হবে। এই টাকার বোঝা বয়ে বেড়াবে জনগণই।
সবচেয়ে হাস্যকর ব্যাপার হলো বিআরটিসি নিজেই জানিয়েছে এই প্রকল্প তাদের আর্থিক সক্ষমতার বাইরে। উন্নয়ন প্রকল্প নিলে ঋণের বোঝা বাড়ে এই যুক্তি দেখিয়ে তারা সরাসরি ৪০০ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছে। তার মানে প্রতিষ্ঠানটি যেই প্রজেক্টের খরচ নিজে চালাতে পারবে না, সেই প্রজেক্টই তাকে উপহার দিচ্ছে সরকার। এর একমাত্র ব্যাখ্যা দাঁড়ায় কমিশনভিত্তিক একটি সিন্ডিকেট আগে থেকেই চুক্তি সেরে রেখেছে, এখন শুধু সরকারি ফাইলে স্বাক্ষর নেওয়ার পালা।
মনে করার চেষ্টা করুন ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপির কুশাসনের সময়ের কথা। ঠিক একই প্যাটার্নে তখন প্রতিটি বড় ক্রয়ে টেন্ডারবিহীন চুক্তি হতো, কমিশন যেত হাওয়া ভবনে। এরপর সেটা ফানেল হয়ে জমা পড়ত বিদেশি অ্যাকাউন্টে। এই মডেল একবর্ণও বদলায়নি। এখন হাওয়া ভবনের জায়গা নিয়েছেন তারেক রহমান, আর কমিশনের গন্তব্য একটুও নাড়েনি। আজকে ৪০০ কোটির যে জোগাড় হচ্ছে, কাল সেটা হাজার কোটিতে গড়াবে, পরশু পাচার হবে রাষ্ট্রীয় রিজার্ভ থেকে ব্যক্তিগত পকেটে।
পরিবেশবান্ধব পরিবহনের নামে যে প্রতারণা শুরু হয়েছে তার ভুক্তভোগী হতে যাচ্ছে সাধারণ করদাতা। কারণ এই পুরো প্রকল্পের থোক বরাদ্দ চলে যাওয়ার পর বিআরটিসি যখন ঘাটতি দেখাবে, ঠিক তখনই ভাড়া বাড়ানো হবে, ভর্তুকি চেয়ে ফের সরকারের দ্বারস্থ হবে প্রতিষ্ঠানটি। শেষমেষ দায় চাপবে জনগণের ঘাড়ে। আর মাঝখানে কমিশন খেয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিস্তব্ধ থাকবে কেবল দেশি গণমাধ্যমে নিজেদের সাফল্যের সংবাদ ফলাও করে প্রচার করার জন্য।

