টেন্ডার হওয়ার আগেই নান্দিয়ার বিলে শুরু হয়েছে বিএনপির লুট

নান্দিয়ার বিলের গল্পটা আসলে একটা ছোট্ট কেস স্টাডি, বিএনপি ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রের সিস্টেমটাকে ঠিক কীভাবে ব্যবহার করে তার নমুনা। ঘটনাক্রমটা লক্ষ্য করা যাক। ২৬ জুন মাছ ছাড়া হলো, প্রকাশ্যে, ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে, বিএনপির উপজেলা নেতা নিজেই ঘোষণা দিলেন। অথচ জেলা প্রশাসক তখনো বলছেন টেন্ডারই হয়নি।

ইউএনও বলছেন হয়েছে। একই সরকারি কাঠামোর দুইজন কর্মকর্তা দুই কথা বলছেন, আর এই বিভ্রান্তির মধ্যেই তিন-চারশ মণ মাছ নেমে গেছে বিলে। এই প্যাটার্নটা কাকতালীয় না। যখন প্রশাসন নিশ্চিত না কে ইজারা পেল, তখনই বাস্তবে দখল সম্পূর্ণ হয়ে যায়, কারণ কাগজ পরে ম্যানেজ করা যায়, মাটির দখলটাই আসল কথা।

এবার টাকার হিসাবটা করা যাক। জিকু নিজে বলছেন তিনি শুধু স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে গিয়েছিলেন। অথচ ঝাউদিয়া বিএনপির সভাপতি নিজেই বলছেন জিকু ইজারা নিয়েছেন এবং দুই ইউনিয়ন বিএনপিকে ২৫ শতাংশ করে মোট ৫০ শতাংশ ভাগ দিয়েছেন। পাটিকাবাড়ি বিএনপির সভাপতি আরেক ধাপ এগিয়ে বলেই দিলেন, এটা দুই-তিন কোটি টাকার খেলা, ২৫ শতাংশ শেয়ারের দাম ৭০-৮০ লাখ টাকা। তিনজন নেতার তিন রকম বক্তব্য একসাথে রাখলে যা দাঁড়ায় তা হলো, একজন অস্বীকার করছেন মালিকানা, বাকি দুইজন প্রকাশ্যে হিসাব দিচ্ছেন কে কত শতাংশের মালিক। অস্বীকারটাই আসলে সবচেয়ে বড় প্রমাণ, কারণ নির্দোষ কেউ এভাবে নিজের ভাগ লুকায় না, লুকানোর দরকার পড়ে তখনই যখন লুকানোর মতো কিছু থাকে।

রাষ্ট্রের ক্ষতিটাও প্রকাশ্য দিবালোকের মতো স্পষ্ট। জেলা প্রশাসক নিজেই বলেছেন এই বিল থেকে বছরে ১৫-২০ লাখ টাকা রাজস্ব আসত, গত দুই বছর তা বন্ধ। অথচ প্রকাশ্য টেন্ডার ছাড়াই, শুধু ইউএনওর সঙ্গে মৌখিক কথায় ভর করে একটা গোষ্ঠী পুরো বিল দখলে নিয়ে নিলো। সরকারি দর প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা, সব বাদ দিয়ে সরাসরি ক্ষমতার প্রভাবে সম্পদ হাতবদল, এটাই তো পুরনো লুটপাটের সংজ্ঞা।

আর সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হচ্ছে মানুষের। গত দুই বছর বিল উন্মুক্ত ছিল বলেই মাছপাড়া গ্রামের মুনিব মণ্ডলের মতো মানুষ সন্ধ্যায় দুটো মাছ ধরে সংসার চালাতে পারতেন। মন্ত্রী পর্যায় থেকে সরকার বলছে উন্মুক্ত জলাশয় প্রকৃত জেলেদের জন্যই রাখা হবে, অথচ মাঠপর্যায়ে ঠিক তার উল্টোটা ঘটছে। কেন্দ্রের নীতি আর স্থানীয় নেতাদের বাস্তবতা যে এক জিনিস না, নান্দিয়ার বিল তারই প্রমাণ।

বিএনপির চেয়ারপারসন বদলেছে, চুরি-চামারির কায়দাটা বদলায়নি। ২০০১-০৬ সালে যে জলমহাল, বালুমহাল দখলের গল্প শোনা যেত, সেই একই গল্প এখন নতুন নামে, নতুন মুখে ফিরে এসেছে। শুধু স্লোগান খালেদার বদলে হয়েছে তারেক, লুটপাটের কাঠামোটা অক্ষতই আছে একদম হাওয়া ভবনের ঐতিহ্যেই।

নান্দিয়ার বিলের গল্পটা আসলে একটা ছোট্ট কেস স্টাডি, বিএনপি ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রের সিস্টেমটাকে ঠিক কীভাবে ব্যবহার করে তার নমুনা। ঘটনাক্রমটা লক্ষ্য করা যাক। ২৬ জুন মাছ ছাড়া হলো, প্রকাশ্যে, ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে, বিএনপির উপজেলা নেতা নিজেই ঘোষণা দিলেন। অথচ জেলা প্রশাসক তখনো বলছেন টেন্ডারই হয়নি।

ইউএনও বলছেন হয়েছে। একই সরকারি কাঠামোর দুইজন কর্মকর্তা দুই কথা বলছেন, আর এই বিভ্রান্তির মধ্যেই তিন-চারশ মণ মাছ নেমে গেছে বিলে। এই প্যাটার্নটা কাকতালীয় না। যখন প্রশাসন নিশ্চিত না কে ইজারা পেল, তখনই বাস্তবে দখল সম্পূর্ণ হয়ে যায়, কারণ কাগজ পরে ম্যানেজ করা যায়, মাটির দখলটাই আসল কথা।

এবার টাকার হিসাবটা করা যাক। জিকু নিজে বলছেন তিনি শুধু স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে গিয়েছিলেন। অথচ ঝাউদিয়া বিএনপির সভাপতি নিজেই বলছেন জিকু ইজারা নিয়েছেন এবং দুই ইউনিয়ন বিএনপিকে ২৫ শতাংশ করে মোট ৫০ শতাংশ ভাগ দিয়েছেন। পাটিকাবাড়ি বিএনপির সভাপতি আরেক ধাপ এগিয়ে বলেই দিলেন, এটা দুই-তিন কোটি টাকার খেলা, ২৫ শতাংশ শেয়ারের দাম ৭০-৮০ লাখ টাকা। তিনজন নেতার তিন রকম বক্তব্য একসাথে রাখলে যা দাঁড়ায় তা হলো, একজন অস্বীকার করছেন মালিকানা, বাকি দুইজন প্রকাশ্যে হিসাব দিচ্ছেন কে কত শতাংশের মালিক। অস্বীকারটাই আসলে সবচেয়ে বড় প্রমাণ, কারণ নির্দোষ কেউ এভাবে নিজের ভাগ লুকায় না, লুকানোর দরকার পড়ে তখনই যখন লুকানোর মতো কিছু থাকে।

রাষ্ট্রের ক্ষতিটাও প্রকাশ্য দিবালোকের মতো স্পষ্ট। জেলা প্রশাসক নিজেই বলেছেন এই বিল থেকে বছরে ১৫-২০ লাখ টাকা রাজস্ব আসত, গত দুই বছর তা বন্ধ। অথচ প্রকাশ্য টেন্ডার ছাড়াই, শুধু ইউএনওর সঙ্গে মৌখিক কথায় ভর করে একটা গোষ্ঠী পুরো বিল দখলে নিয়ে নিলো। সরকারি দর প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা, সব বাদ দিয়ে সরাসরি ক্ষমতার প্রভাবে সম্পদ হাতবদল, এটাই তো পুরনো লুটপাটের সংজ্ঞা।

আর সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হচ্ছে মানুষের। গত দুই বছর বিল উন্মুক্ত ছিল বলেই মাছপাড়া গ্রামের মুনিব মণ্ডলের মতো মানুষ সন্ধ্যায় দুটো মাছ ধরে সংসার চালাতে পারতেন। মন্ত্রী পর্যায় থেকে সরকার বলছে উন্মুক্ত জলাশয় প্রকৃত জেলেদের জন্যই রাখা হবে, অথচ মাঠপর্যায়ে ঠিক তার উল্টোটা ঘটছে। কেন্দ্রের নীতি আর স্থানীয় নেতাদের বাস্তবতা যে এক জিনিস না, নান্দিয়ার বিল তারই প্রমাণ।

বিএনপির চেয়ারপারসন বদলেছে, চুরি-চামারির কায়দাটা বদলায়নি। ২০০১-০৬ সালে যে জলমহাল, বালুমহাল দখলের গল্প শোনা যেত, সেই একই গল্প এখন নতুন নামে, নতুন মুখে ফিরে এসেছে। শুধু স্লোগান খালেদার বদলে হয়েছে তারেক, লুটপাটের কাঠামোটা অক্ষতই আছে একদম হাওয়া ভবনের ঐতিহ্যেই।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ