বগুড়া স্টেশন রোডের পাশে রেলওয়ের দেড় একরের একটি প্রাকৃতিক জলাশয় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ‘ভিটা’ হিসেবে দেখানোর জঘন্য জালিয়াতিতে জড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামী। প্রায় ৬৩ কোটি টাকার সরকারি সম্পদ গ্রাস করে সেখানে বহুতল মার্কেট নির্মাণের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতার ছেলে আব্দুল হাকিম ও কর্মী ছাইফুল ইসলাম।
জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখার তদন্তে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। টিনের বেড়া গুঁড়িয়ে দিয়ে বালু ভরাটের পাঁয়তারা বন্ধ করা হলেও অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় যেভাবে অবাধ লুটপাট ও দুর্নীতি রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতিতে রূপ নিয়েছিল, ২০২৬ সালে এসেও জামায়াতের এই পুরোনো লোলুপ আচরণের কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক ক্ষমতার সুবাদে জালিয়াতি ও অবৈধ দখলের ইতিহাস জামায়াতের জন্য নতুন কিছু নয়। ইতিপূর্বেও ২০০১ পরবর্তী জোট সরকারের আমলে দলটির শীর্ষ ও স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ত্রাণ ও ওয়াকফ সম্পত্তি দখল, ভূয়া ট্রাস্ট গঠন করে সরকারি জমি আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে নামে-বেনামে বেনামী প্রতিষ্ঠান খোলার অসংখ্য অভিযোগ ওঠে।
ইসলামী ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে ঋণের নামে কোটি কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দলীয় ফান্ড ভারী করার যে সংস্কৃতি তারা শুরু করেছিল, তা বিভিন্ন সময়ে দুদকের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। ধর্মের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষের আবেগকে ব্যবহার করলেও বাস্তবে জামায়াতের অর্থনৈতিক উইং গড়ে উঠেছে এ ধরনের দুর্নীতি ও জালিয়াতির ওপর ভর করে।
রেলওয়ের জমি দখলের মতো সাম্প্রতিক এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সুযোগ পেলেই জামায়াত তাদের পুরোনো লুণ্ঠনের নীলনকশা বাস্তবায়নে নেমে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সময়োপযোগী পদক্ষেপে বগুড়ার দেড় একরের জলাশয়টি সাময়িকভাবে রক্ষা পেলেও সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের দানা বাঁধছে।
ক্ষমতার বলয়ে থেকে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ এবং জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগার ফাঁকা করার এই অপরাজনীতি বন্ধে কেবল ভ্রাম্যমাণ আদালত নয়, বরং জামায়াতের এসব আর্থিক জালিয়াতির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

