রাজনীতির ময়দানে যারা নিজেদের রাষ্ট্র বাঁচানোর ঠিকাদার ভাবেন, তারাই আজ দেশের অর্থনীতিকে মিডল ট্র্যাপে ফেলে সাঁতার কাটছেন। সোমবার বিবিএসের প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপি তথ্য যেন ঠিক সেই দুঃস্বপ্নেরই প্রতিধ্বনি যেটা আমরা একবিংশ শতাব্দীর শুরুতেও দেখেছিলাম। আবারও সেই গুমোট জুলাই, আবারও সেই বেকারত্বের কশাঘাত।
তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি মাত্র ২.২২ শতাংশ। গত বছরের ৪.৫৩ থেকে এই ধস কোনো স্বাভাবিক ওঠানামা নয়, এটা একেবারে খাদের কিনারায় পৌঁছে যাওয়া। অথচ ক্ষমতার মসনদে বসা বিএনপি-জামাত জোটের নীতিনির্ধারকরা হয়তো এখনো তাসের আড্ডায় ব্যস্ত। শিল্পখাত গভীর অন্ধকারে, প্রবৃদ্ধি মাইনাস ০.২৮ শতাংশ। কলকারখানা স্তব্ধ, বিনিয়োগ শূন্য, আর তারা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের গল্প ফেঁদে সময়ক্ষেপণ করছেন।
সেবাখাতের চিত্রও ভয়ংকর, ৭.৩২ থেকে ৩.৫২ শতাংশে নেমে আসা মানে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত। হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে পরিবহন, সবখানেই চাপা হাহাকার। অথচ গতবার যখন তারেক রহমানের হাওয়া ভবনের নীতি দেশকে দেউলিয়া করেছিল, তখনো এই একই উপসর্গ ছিল। দেখে মনে হচ্ছে, ইতিহাসের সেই অন্ধকার অধ্যায় বিবিএসের রিপোর্টের ভেতর দিয়ে আবারও জ্যান্ত হয়ে উঠেছে।
কৃষিতে ১.৭৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি মানে গ্রামের মানুষ এখন পুরোপুরি নিঃস্ব। আগামী মাসগুলোতে দ্রব্যমূল্যের যে উল্লম্ফন ঘটবে, তার জন্য এখন থেকেই থলি সেলাই করে রাখুন। ২০০৬ সালের পর দলের নাম বদলেছে বটে, কিন্তু লুটপাটের ন্যারেটিভ বদলায়নি। এই জুলাই মাসে দাঁড়িয়ে অন্তত একবার বলুন তো, অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া এই শাসকদের কাছ থেকে দেশের কী লাভ হলো? উন্নয়নের মহাসড়ক ছেড়ে আবারও আমরা সেই ২০০১-০৬ সালের অপশাসনের কলঙ্কিত বৃত্তে আটকা পড়লাম।

