ভোটের আগে বিএনপি বলেছিল এক কোটি কর্মসংস্থান দেবে। ছয় মাস না যেতেই গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়ায় কারখানার পর কারখানা তালাবন্ধ, হাজার হাজার শ্রমিক রাস্তায়। ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ডায়িংয়ের আঠারো শ শ্রমিক এখনো বকেয়া বেতনটুকুও পাননি। সরকার আছে, শিল্প মন্ত্রণালয় আছে, শ্রম মন্ত্রণালয় আছে, কিন্তু এই শ্রমিকদের পাশে কেউ নেই।
সবচেয়ে ভয়ংকর দিকটা হলো, যেসব শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন করার সাহস দেখাচ্ছেন, তাঁদেরই বেশি ছাঁটাই করা হচ্ছে বলে সাবেক শ্রমিক নেতারা নিজেরাই বলছেন। অর্থাৎ সংগঠিত হওয়ার অধিকারটাই এখন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটা কাকতালীয় নয়। ২০০১-০৬ সালেও এই জোটের আমলে শ্রমিক আন্দোলন আর ট্রেড ইউনিয়নের প্রতি যে মনোভাব দেখা গিয়েছিল, ২০২৬ সালে এসেও সেই একই ছায়া স্পষ্ট।
মালিকপক্ষ অবশ্য বলছে ক্রয়াদেশ কমেছে, ব্যাংকের কড়াকড়িতে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না, তাই কারখানা বন্ধ হচ্ছে। কিন্তু রপ্তানি তো মাত্র সাড়ে তিন শতাংশ কমেছে, বিশ হাজার চাকরি খোয়ানোর মতো ধস তো হয়নি। তাহলে কার স্বার্থে বন্ধ হচ্ছে কারখানা, কার স্বার্থে বৈধ ছাঁটাইয়ের আড়ালে অবৈধ ছাঁটাই চলছে, সেই তদন্তটাই বা কে করবে, যে সরকার নিজেই এই মালিকদের ঘনিষ্ঠ বলয়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

