কুয়ালালামপুরে যে বৈঠকের কথা রেকর্ডে নেই, সেই বৈঠকই বলে দিচ্ছে বিএনপির আসল চরিত্র

গত জুন মাসের এক দুপুরে কুয়ালালামপুরের রাজপ্রাসাদে একটা অতি গোপন মিটিংয়ের একটা ছবিও তোলা হয়নি, কিন্তু হলে সেটা হতো বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বেমানান ছবিগুলোর একটা। একদিকে তারেক রহমান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, চীন যাওয়ার আগে থামলেন মালয়েশিয়ায়। অন্যদিকে আমিনুল ইসলাম, যাকে ২০২৪ সালে খোদ বাংলাদেশ পুলিশই প্রত্যর্পণ চেয়ে মালয়েশিয়ার কাছে আবেদন করেছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি এমন এক সিস্টেম রান করেছেন যা শ্রমিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করত। সেই লোকের সাথেই বৈঠক, আর মজার বিষয় হলো, বৈঠকে তার উপস্থিতি কোনো সরকারি নথিতে লেখা নেই। মানে যা ঘটেছে তা ঘটেছে, কিন্তু কাগজে কলমে যেন কিছুই ঘটেনি।

এখানেই আসল সমস্যা। তারেক রহমানের মুখপাত্র যখন এই সাক্ষাতের কথা স্বীকার করলেন, তখন তিনি বললেন প্রাসাদে উপস্থিত বেশ কয়েকজনের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে মাত্র। আমিনুলের নাম একবারও উচ্চারণ করলেন না। এই এড়িয়ে যাওয়াটা কাকতালীয় না। যে লোকটার নাম বাংলাদেশ সরকার নিজেই একসময় প্রত্যর্পণের তালিকায় তুলেছিল, তার নাম হঠাৎ মুখে আনতে অস্বস্তি হওয়ারই কথা। কিন্তু অস্বস্তি হলে বৈঠকটাই এড়ানো যেত। তা না করে বৈঠক করে এসে নাম গোপন করাটা বরং প্রমাণ করে, সমস্যাটা তারা নিজেরাও বোঝেন।

এবার হিসাবটা মেলানো যাক। আমিনুলের কোম্পানি বেস্টিনেট মালয়েশিয়ার বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের পুরো সফটওয়্যার সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করে। গত জানুয়ারিতে ব্লুমবার্গের অনুসন্ধানে এই সিস্টেমের ভেতরের দুর্নীতি বিস্তারিত উঠে এসেছিল। এপ্রিলে জানা যায়, মালয়েশিয়া নতুন একটা প্ল্যাটফর্ম আনছে, নাম তুরাপ, যেটাও তৈরি করেছে বেস্টিনেট। এই প্ল্যাটফর্মের মানবসম্পদমন্ত্রী রামানান রামাকৃষ্ণান এপ্রিলেই বলেছিলেন, বেস্টিনেটকে সিস্টেম ডেভেলপার রাখায় তার কোনো আপত্তি নেই। অথচ তার পূর্বসূরি স্টিভেন সিম ঠিক এই কারণেই তুরাপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, বলেছিলেন এতে আমিনুলের হাতে আরও ক্ষমতা চলে যাবে। মালয়েশিয়ার নিজের সরকারি জোটের সাতজন এমপি জুনের ২৯ তারিখে যৌথ বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, সংস্কারের নামে একগাদা মধ্যস্বত্বভোগীর বদলে একটামাত্র প্রভাবশালী একচেটিয়া প্রতিষ্ঠান বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর সেই রামানানই ছিলেন তারেক রহমান আর আমিনুলের প্রাসাদ বৈঠকে উপস্থিত তৃতীয় ব্যক্তি।

মালয়েশিয়ার নিজের সংসদ সদস্যরা যখন প্রকাশ্যে বলছেন এই সিস্টেম একজন ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করছে, তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ঠিক সেই ব্যক্তির সাথেই বসে হাসিমুখে খোশগল্প করছেন, অথচ সরকারিভাবে সেই সাক্ষাতের কথা স্বীকারও করতে চাইছেন না পুরোপুরি। এই একই সফরে তারেক রহমান আবার মালয়েশিয়ার কাছে আকুতি জানিয়েছেন, বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বাজার যেন দ্রুত খুলে দেওয়া হয়। শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষার কথা বলছেন, অথচ যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে সেই শ্রমিকদেরই পকেট কাটার অভিযোগ, তার সাথেই গোপন সখ্যতা। এই দুটো জিনিস একসাথে চলতে পারে না, অন্তত সততার সাথে চলতে পারে না।

আর এখানেই মিলে যায় ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সেই পুরনো ছবি। তখনও ক্ষমতার আশেপাশে থাকা বিতর্কিত ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে ঢুকে পড়তেন, প্রশ্ন উঠলে জবাব আসত অস্পষ্ট বিবৃতিতে, নাম গোপন রেখে। এখন শুধু সময়টা পাল্টেছে, প্রেক্ষাপট পাল্টেছে বিদেশের মাটিতে, কিন্তু প্যাটার্নটা অবিকল সেই একই। যে সরকার সংস্কারের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছে, তার প্রধান নিজেই যখন বিতর্কিত ব্যক্তিদের সাথে অঘোষিত সাক্ষাৎ করেন আর তা লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন, তখন সংস্কারের প্রতিশ্রুতিটা কতটা ফাঁপা সেটা বোঝা কঠিন কিছু না।

গত জুন মাসের এক দুপুরে কুয়ালালামপুরের রাজপ্রাসাদে একটা অতি গোপন মিটিংয়ের একটা ছবিও তোলা হয়নি, কিন্তু হলে সেটা হতো বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বেমানান ছবিগুলোর একটা। একদিকে তারেক রহমান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, চীন যাওয়ার আগে থামলেন মালয়েশিয়ায়। অন্যদিকে আমিনুল ইসলাম, যাকে ২০২৪ সালে খোদ বাংলাদেশ পুলিশই প্রত্যর্পণ চেয়ে মালয়েশিয়ার কাছে আবেদন করেছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি এমন এক সিস্টেম রান করেছেন যা শ্রমিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করত। সেই লোকের সাথেই বৈঠক, আর মজার বিষয় হলো, বৈঠকে তার উপস্থিতি কোনো সরকারি নথিতে লেখা নেই। মানে যা ঘটেছে তা ঘটেছে, কিন্তু কাগজে কলমে যেন কিছুই ঘটেনি।

এখানেই আসল সমস্যা। তারেক রহমানের মুখপাত্র যখন এই সাক্ষাতের কথা স্বীকার করলেন, তখন তিনি বললেন প্রাসাদে উপস্থিত বেশ কয়েকজনের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে মাত্র। আমিনুলের নাম একবারও উচ্চারণ করলেন না। এই এড়িয়ে যাওয়াটা কাকতালীয় না। যে লোকটার নাম বাংলাদেশ সরকার নিজেই একসময় প্রত্যর্পণের তালিকায় তুলেছিল, তার নাম হঠাৎ মুখে আনতে অস্বস্তি হওয়ারই কথা। কিন্তু অস্বস্তি হলে বৈঠকটাই এড়ানো যেত। তা না করে বৈঠক করে এসে নাম গোপন করাটা বরং প্রমাণ করে, সমস্যাটা তারা নিজেরাও বোঝেন।

এবার হিসাবটা মেলানো যাক। আমিনুলের কোম্পানি বেস্টিনেট মালয়েশিয়ার বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের পুরো সফটওয়্যার সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করে। গত জানুয়ারিতে ব্লুমবার্গের অনুসন্ধানে এই সিস্টেমের ভেতরের দুর্নীতি বিস্তারিত উঠে এসেছিল। এপ্রিলে জানা যায়, মালয়েশিয়া নতুন একটা প্ল্যাটফর্ম আনছে, নাম তুরাপ, যেটাও তৈরি করেছে বেস্টিনেট। এই প্ল্যাটফর্মের মানবসম্পদমন্ত্রী রামানান রামাকৃষ্ণান এপ্রিলেই বলেছিলেন, বেস্টিনেটকে সিস্টেম ডেভেলপার রাখায় তার কোনো আপত্তি নেই। অথচ তার পূর্বসূরি স্টিভেন সিম ঠিক এই কারণেই তুরাপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, বলেছিলেন এতে আমিনুলের হাতে আরও ক্ষমতা চলে যাবে। মালয়েশিয়ার নিজের সরকারি জোটের সাতজন এমপি জুনের ২৯ তারিখে যৌথ বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, সংস্কারের নামে একগাদা মধ্যস্বত্বভোগীর বদলে একটামাত্র প্রভাবশালী একচেটিয়া প্রতিষ্ঠান বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর সেই রামানানই ছিলেন তারেক রহমান আর আমিনুলের প্রাসাদ বৈঠকে উপস্থিত তৃতীয় ব্যক্তি।

মালয়েশিয়ার নিজের সংসদ সদস্যরা যখন প্রকাশ্যে বলছেন এই সিস্টেম একজন ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করছে, তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ঠিক সেই ব্যক্তির সাথেই বসে হাসিমুখে খোশগল্প করছেন, অথচ সরকারিভাবে সেই সাক্ষাতের কথা স্বীকারও করতে চাইছেন না পুরোপুরি। এই একই সফরে তারেক রহমান আবার মালয়েশিয়ার কাছে আকুতি জানিয়েছেন, বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বাজার যেন দ্রুত খুলে দেওয়া হয়। শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষার কথা বলছেন, অথচ যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে সেই শ্রমিকদেরই পকেট কাটার অভিযোগ, তার সাথেই গোপন সখ্যতা। এই দুটো জিনিস একসাথে চলতে পারে না, অন্তত সততার সাথে চলতে পারে না।

আর এখানেই মিলে যায় ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সেই পুরনো ছবি। তখনও ক্ষমতার আশেপাশে থাকা বিতর্কিত ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে ঢুকে পড়তেন, প্রশ্ন উঠলে জবাব আসত অস্পষ্ট বিবৃতিতে, নাম গোপন রেখে। এখন শুধু সময়টা পাল্টেছে, প্রেক্ষাপট পাল্টেছে বিদেশের মাটিতে, কিন্তু প্যাটার্নটা অবিকল সেই একই। যে সরকার সংস্কারের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছে, তার প্রধান নিজেই যখন বিতর্কিত ব্যক্তিদের সাথে অঘোষিত সাক্ষাৎ করেন আর তা লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন, তখন সংস্কারের প্রতিশ্রুতিটা কতটা ফাঁপা সেটা বোঝা কঠিন কিছু না।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ