একটা মেয়ে মারা গেছে দেড় বছর আগে। এলিফ্যান্ট রোডের একটা ছাত্রীনিবাসে লাশ পাওয়া গিয়েছিল তার। নাম আনিকা মেহেরুন্নেসা সাহির। মৃত্যুর পরও তাকে শান্তিতে থাকতে দেয়নি জামাত-শিবির। তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর চুরি করে “খালিদ ইবনে আল-ওয়ালিদ” নামে একটা ভুয়া আইডি মাসের পর মাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ফেসবুক গ্রুপে শিবিরের পক্ষে প্রচার চালিয়ে গেছে। ধরা পড়েছে শুধু কারণ এক এডমিন সন্দেহ করে যাচাই করতে গিয়েছিলেন।
জামায়াত-শিবির দশকের পর দশক নিজেদের “নীতির রাজনীতির দল” বলে প্রচার চালায়, অথচ মাঠপর্যায়ে তাদের ছাত্র সংগঠনের অস্ত্র বরাবরই একই : ভুয়া পরিচয়, সংগঠিত বট নেটওয়ার্ক, তথ্য বিকৃতি। একজন মৃত মানুষের পরিচয়ও তাদের কাছে প্রচারণার উপকরণ, এর চেয়ে খারাপ উদাহরণ আর কী হতে পারে।
আর বিএনপি? দুই হাজার এক থেকে ছয় সালে হাওয়া ভবনকে সমান্তরাল ক্ষমতাকেন্দ্র বানিয়ে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার মতো ঘটনা যেখান থেকে বেরিয়েছিল, সেই দলটাই আবার ক্ষমতায়। ২০২৫ সালে খোদ তাদের ছাত্র ও যুব সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হত্যার অভিযোগ উঠেছিল, যা দলের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা দিয়েছিল। তাদের অঙ্গসংগঠনগুলো বারবার চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২০২৫ সালের একটি প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড ছাত্র ও যুব সংগঠনের সাথে যুক্ত। ক্ষমতায় বসেই পুরোনো অভ্যাস ফিরে আসছে, শুধু প্রতিপক্ষ বদলেছে।
একটা মৃত মেয়ের নাম দিয়ে রাজনীতি চালানো, আর ক্ষমতার আশেপাশে সহিংসতা-চাঁদাবাজির পুরোনো নেটওয়ার্ক ফিরে আসা, এই দুটো আলাদা ঘটনা মনে হলেও আসলে একই রাজনৈতিক সংস্কৃতির লক্ষণ। জবাবদিহিতা ছাড়া ক্ষমতা যা তৈরি করে, সেটাই এখন আবার দেখা যাচ্ছে।

