দুই দশক পর আবারও ফিরল সেই চেনা অন্ধকার!

বরিশালের মানুষ এখন দিনে মাত্র চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। আর রাতে? সেটাও নিশ্চিত নয়। বিভাগের ছয়টি জেলায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ৫৫০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট, পাওয়া যাচ্ছে ৪০০। ঘাটতি ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। বরিশাল নগরের এক বিতরণ বিভাগে চাহিদা ৯০ মেগাওয়াট, সরবরাহ ৫০। অন্যটায় চাহিদা ৪০ মেগাওয়াট, পাচ্ছে ২০ থেকে ২২। এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান না, এগুলো কোটি মানুষের ভোগান্তির হিসাব।

গ্রামে পরিস্থিতি আরও খারাপ। বরগুনার কালীবাড়িতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। পাথরঘাটা পৌর এলাকায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা থাকে না। বাকেরগঞ্জের বিহারীপুরে দিনের বেশির ভাগ সময়ই অন্ধকার। ছোট শিশু আর বয়স্ক মানুষ এই গরম আর লোডশেডিংয়ের সংযোগে কী কষ্টে আছেন, সেটা যারা এই মৌসুমে দক্ষিণের বাড়িতে থেকেছেন তারা বলতে পারবেন। বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলে কেউ ধরেন না, কিন্তু মাস শেষে বিল ঠিকই চলে আসে।

এরই মধ্যে ইলিশ মৌসুম শুরু হয়েছে। ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। লক্ষ লক্ষ জেলে সমুদ্রে যাওয়ার জন্য তৈরি। কিন্তু যেতে পারছেন না, কারণ বরফ নেই। একটা বরফের ব্লক তৈরি করতে টানা ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ লাগে। সেই বিদ্যুৎ নেই বলে পানি জমাট বাঁধছে না, উৎপাদন ব্যয় দ্বিগুণ হয়েছে, বরফের মানও পড়ে গেছে। পাথরঘাটার প্রায় ৯০টি বরফকল এবং মহিপুর-আলীপুরের ৪০টি কল মিলিয়ে চাহিদার ৩০ শতাংশ বরফও দেওয়া যাচ্ছে না। পাথরঘাটার মৎস্যবন্দরে ট্রলার নিয়ে বসে আছেন আফজাল হোসেন আর হাবিবুর রহমান, বরফের অপেক্ষায়। কবে পাবেন জানেন না। ইলিশ মৌসুমের একটা দিনও নষ্ট হওয়া মানে এই মানুষগুলোর সংসারে আসল ক্ষতি।

বিদ্যুৎ না থাকলে শুধু ঘর গরম হয় না, পুরো অর্থনীতি থমকে যায়। বরিশালের বিসিক শিল্প এলাকায় উৎপাদন ধসে পড়েছে। পোলট্রি খাত বিপাকে আছে। আউটসোর্সিং আর ফ্রিল্যান্সিংয়ে যারা কাজ করেন, তাদের আয় কমেছে। মেরামতের দোকান বন্ধ থাকছে। শিক্ষার্থীরা পড়তে পারছেন না। এটা শুধু লোডশেডিংয়ের সমস্যা না, এটা বিএনপি-জামাতের অবৈধ, দখলদার সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার পূর্ণাঙ্গ একটি চিত্র।

২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামাত জোটের শাসনে এই দেশে লোডশেডিং ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। বিদ্যুৎ খাত ছিল অবহেলিত, দুর্নীতিগ্রস্ত, পরিকল্পনাহীন। সেই বছরগুলোর স্মৃতি যাদের আছে, তারা জানেন মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করা আর গরমে পাখার জন্য অপেক্ষা করার মানে কী। ২০২৬ সালে এসে দেখা যাচ্ছে, সেই অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি শুরু হয়েছে। চেহারা বদলেছে, সময় বদলেছে, কিন্তু দক্ষিণের মানুষের ভাগ্যটা বদলায়নি।

জামাত-ই-ইসলামির ব্যাপারে বলতে হলে একটা কথাই বলার আছে। এই দলটি যখনই সরকারের অংশ হয়েছে, তখন সাধারণ মানুষের জীবনের চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক সম্প্রসারণকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের মতো মৌলিক সমস্যায় তাদের কোনো সক্রিয় ভূমিকা বা চাপ দেওয়ার নজির নেই। বরং এই ধরনের সংকটকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ঘাঁটি আরও মজবুত করাটাই তাদের পুরনো কৌশল।

বরিশালের আমির কুটির এলাকার আর আমিন বলছেন, দিনরাত মিলিয়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, সব কাজ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল, আয় কমে গেছে। বাকেরগঞ্জের বাদল মৃধা বলছেন, বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলে কেউ ধরে না, অথচ বিল দিতে হচ্ছে ঠিকঠাক। এই দুইজনের কথাতেই পুরো দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের অসহায়ত্বটা ধরা পড়েছে নির্মোহভাবেই।

বরিশালের মানুষ এখন দিনে মাত্র চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। আর রাতে? সেটাও নিশ্চিত নয়। বিভাগের ছয়টি জেলায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ৫৫০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট, পাওয়া যাচ্ছে ৪০০। ঘাটতি ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। বরিশাল নগরের এক বিতরণ বিভাগে চাহিদা ৯০ মেগাওয়াট, সরবরাহ ৫০। অন্যটায় চাহিদা ৪০ মেগাওয়াট, পাচ্ছে ২০ থেকে ২২। এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান না, এগুলো কোটি মানুষের ভোগান্তির হিসাব।

গ্রামে পরিস্থিতি আরও খারাপ। বরগুনার কালীবাড়িতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। পাথরঘাটা পৌর এলাকায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা থাকে না। বাকেরগঞ্জের বিহারীপুরে দিনের বেশির ভাগ সময়ই অন্ধকার। ছোট শিশু আর বয়স্ক মানুষ এই গরম আর লোডশেডিংয়ের সংযোগে কী কষ্টে আছেন, সেটা যারা এই মৌসুমে দক্ষিণের বাড়িতে থেকেছেন তারা বলতে পারবেন। বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলে কেউ ধরেন না, কিন্তু মাস শেষে বিল ঠিকই চলে আসে।

এরই মধ্যে ইলিশ মৌসুম শুরু হয়েছে। ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। লক্ষ লক্ষ জেলে সমুদ্রে যাওয়ার জন্য তৈরি। কিন্তু যেতে পারছেন না, কারণ বরফ নেই। একটা বরফের ব্লক তৈরি করতে টানা ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ লাগে। সেই বিদ্যুৎ নেই বলে পানি জমাট বাঁধছে না, উৎপাদন ব্যয় দ্বিগুণ হয়েছে, বরফের মানও পড়ে গেছে। পাথরঘাটার প্রায় ৯০টি বরফকল এবং মহিপুর-আলীপুরের ৪০টি কল মিলিয়ে চাহিদার ৩০ শতাংশ বরফও দেওয়া যাচ্ছে না। পাথরঘাটার মৎস্যবন্দরে ট্রলার নিয়ে বসে আছেন আফজাল হোসেন আর হাবিবুর রহমান, বরফের অপেক্ষায়। কবে পাবেন জানেন না। ইলিশ মৌসুমের একটা দিনও নষ্ট হওয়া মানে এই মানুষগুলোর সংসারে আসল ক্ষতি।

বিদ্যুৎ না থাকলে শুধু ঘর গরম হয় না, পুরো অর্থনীতি থমকে যায়। বরিশালের বিসিক শিল্প এলাকায় উৎপাদন ধসে পড়েছে। পোলট্রি খাত বিপাকে আছে। আউটসোর্সিং আর ফ্রিল্যান্সিংয়ে যারা কাজ করেন, তাদের আয় কমেছে। মেরামতের দোকান বন্ধ থাকছে। শিক্ষার্থীরা পড়তে পারছেন না। এটা শুধু লোডশেডিংয়ের সমস্যা না, এটা বিএনপি-জামাতের অবৈধ, দখলদার সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার পূর্ণাঙ্গ একটি চিত্র।

২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামাত জোটের শাসনে এই দেশে লোডশেডিং ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। বিদ্যুৎ খাত ছিল অবহেলিত, দুর্নীতিগ্রস্ত, পরিকল্পনাহীন। সেই বছরগুলোর স্মৃতি যাদের আছে, তারা জানেন মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করা আর গরমে পাখার জন্য অপেক্ষা করার মানে কী। ২০২৬ সালে এসে দেখা যাচ্ছে, সেই অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি শুরু হয়েছে। চেহারা বদলেছে, সময় বদলেছে, কিন্তু দক্ষিণের মানুষের ভাগ্যটা বদলায়নি।

জামাত-ই-ইসলামির ব্যাপারে বলতে হলে একটা কথাই বলার আছে। এই দলটি যখনই সরকারের অংশ হয়েছে, তখন সাধারণ মানুষের জীবনের চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক সম্প্রসারণকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের মতো মৌলিক সমস্যায় তাদের কোনো সক্রিয় ভূমিকা বা চাপ দেওয়ার নজির নেই। বরং এই ধরনের সংকটকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ঘাঁটি আরও মজবুত করাটাই তাদের পুরনো কৌশল।

বরিশালের আমির কুটির এলাকার আর আমিন বলছেন, দিনরাত মিলিয়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, সব কাজ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল, আয় কমে গেছে। বাকেরগঞ্জের বাদল মৃধা বলছেন, বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলে কেউ ধরে না, অথচ বিল দিতে হচ্ছে ঠিকঠাক। এই দুইজনের কথাতেই পুরো দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের অসহায়ত্বটা ধরা পড়েছে নির্মোহভাবেই।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ