জনগণের রক্তে রঞ্জিত পথ বেয়ে, ঋণের পাহাড় আর দুর্নীতির সিন্ডিকেট নিয়ে আবারও বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেছে সেই বিএনপি। যে দলের জন্মই হয়েছে সেনানিবাসের ছত্রছায়ায়, যে দলের রাজনৈতিক দর্শনই হলো ক্ষমতা দখল আর লুটপাট, সেই দলটিই ২০২৬ সালের তথাকথিত নির্বাচন নামক প্রহসনের মাধ্যমে আবারও দেশের ভাগ্য নির্ধারণের আসনে। এ যেন এক বিভীষিকাময় ডেজা ভু। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি জোট সরকার যে নারকীয় দুঃশাসন, সন্ত্রাস আর দুর্নীতির মহোৎসব বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছিল, তারই প্রতিচ্ছায়া দেখছি ২০২৬ সালের এই বাজেট নথিতে।
যে তথাকথিত নির্বাচনে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে অংশগ্রহণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল, যে ভোট জনগণ সম্পূর্ণভাবে বয়কট করেছিল, যে নির্বাচন ছিল একদলীয় শাসনের অবৈধ অভিষেক অনুষ্ঠান, সেই নির্বাচনের মাধ্যমেই জিয়াউর রহমানের সৃষ্টি করা রাজনৈতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি বিএনপি আবারও ক্ষমতার ভোগ্যপণ্যে পরিণত হয়েছে। আর এই দলের নেতৃত্বে এখন সেই ব্যক্তি, যার নাম দুর্নীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যিনি নিজেই আইনের চোখে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। তারেক রহমানের মতো একজন ব্যক্তি যখন দেশের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেন, তখন বোঝাই যায় যে দেশ নামছে কোন অন্ধকার গহ্বরে।
এবারের বাজেটকে ঘিরে বিএনপি সরকার যে মহাপরিকল্পনা সাজিয়েছে, তা মোটেও জনকল্যাণের জন্য নয়। বরং এটা হলো তাদের নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার অর্থনৈতিক ফন্দি। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেটের কথা বলা হচ্ছে, তার পুরোটাই দাঁড়িয়ে আছে ঋণ আর করের মেরুদণ্ডে। অর্থাৎ দেশের সাধারণ মানুষকে চাপিয়ে দেওয়া হবে আরো করের বোঝা, আর দেশকে ডুবিয়ে রাখা হবে আরো ঋণের সাগরে। এটা কোনো বাজেট নয়, এটা জনগণের পকেট কাটার এক সুবিশাল নীলনকশা।
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা। অথচ বাস্তবতা কী বলছে? ব্যবসা বাণিজ্য ভেঙে পড়েছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা তলানিতে, বিনিয়োগ বলতে কিছু নেই। তার ওপর মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়ছে সাধারণ মানুষ। এই বাস্তবতায় এত বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় কিভাবে সম্ভব হবে? খুবই সহজ। আরো বেশি করে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপানো হবে। করদাতাদের তালিকা বাড়বে না, বরং যারা আগে থেকেই কর দিচ্ছেন তাদের ঘাড়েই ভাঙা হবে আরো বাড়তি করের কশাঘাত। আর যারা লুটপাট করে সম্পদ কুক্ষিগত করছেন, সেই দুর্নীতিবাজরা থাকবেন সম্পূর্ণ নিরাপদে। কারণ এটাই তো বিএনপির সংস্কৃতি।
ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা দেশের বেসরকারি খাতের জন্য এক ভয়ংকর সংকেত। এর অর্থ দাঁড়াবে, বেসরকারি উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে ঋণ পাবেন না। ফলে ব্যবসা বাণিজ্য আরো সংকুচিত হবে, কর্মসংস্থান কমে যাবে, বেড়ে যাবে বেকারত্বের স্রোত। অথচ এই বিএনপিই ব্যবসাবান্ধব সরকারের মিথ্যে স্লোগান দিয়ে থাকে।
যে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কথা বলা হচ্ছে, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড এসবের নাম করে যে মায়াকান্না শুরু হয়েছে, তার বাস্তবতাও নেহাতই ভাঁওতা। কারণ বাস্তবায়নের সামর্থ্যই যখন নেই, তখন এসবকিছু কেবল নির্বাচনী প্রতারণার হাতিয়ার মাত্র। এই একই কৌশল তো বিএনপি এর আগেও খেলেছে। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেও কত শত প্রকল্পের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে কী হয়েছিল? অপসংস্কৃতি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি আর সম্পদ লুটপাট। সেই একই গল্প আবার নতুন করে সাজানো হচ্ছে মাত্র।
এবারের বাজেটে ডিরেগুলেশন বা বিনিয়ন্ত্রণের নামে যে প্রহসন শুরু করতে চায় বিএনপি সরকার, তার অর্থই হলো দুর্নীতির রাস্তা আরো প্রশস্ত করা। কারণ যখন নিয়ন্ত্রণ শিথিল হবে, তখনই তো অবৈধ অর্থপাচার, কারসাজি আর দুর্নীতির সুযোগ আরো বেড়ে যাবে। এটা আসলে দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেওয়ারই আরেক নামান্তর। ব্যাংক খাত থেকে শুরু করে পুঁজিবাজার, রাজস্ব বোর্ড, সব জায়গাতেই স্বাধীনতার নামে অনিয়ম আর লুটপাটের দরজা খুলে দেওয়া হবে।
যে অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের কথা শুনিয়ে জনগণকে ভোলানো হচ্ছে, তার বাস্তবতা হলো অর্থনীতির পুরো কাঠামোটাই একটি বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া। আর এ কাজে সবচেয়ে কার্যকরী হবে বিএনপির এই বাজেট। ইতিহাস সাক্ষী, যখনই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, তখনই দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। ঋণের বোঝা বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়েছে, দুর্নীতি রেকর্ড ছাড়িয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সে ধারাই আবার ফিরে এসেছে।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় এসেও বিএনপির মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারা এখনো মনে করে রাষ্ট্র হলো তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি, জনগণ হলো তাদের করদাতা দাস আর বিরোধী দল হলো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার প্রতিপক্ষ। এই একই মনোভাব তো দেখা গিয়েছিল ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। তখনো বিরোধী দলকে নির্মূল করতে নামানো হয়েছিল সন্ত্রাসী বাহিনী, তখনো দেশকে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঋণের ভারে, তখনো সাধারণ মানুষের রক্তে ভেসে গিয়েছিল রাজপথ।
আজ সেই একই চিত্র আবার ফিরে এসেছে। এবার শুধু পার্থক্য হলো নেতৃত্বের নাম বদলেছে। খালেদা জিয়ার স্থলে এখন তারেক রহমান। আর এই তারেক রহমান তো সেই ব্যক্তি, যিনি দুর্নীতির কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত, যিনি দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হতে ভয় পান। এমন একজন পলাতক আসামী যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী হন, তখন দেশের আইন, সংবিধান ও বিচার ব্যবস্থা যে কতটা বিপর্যস্ত তা সহজেই অনুমেয়।
বাজেটের যে পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে, তার প্রতিটি অঙ্কই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। ৬.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা, তা নেহাতই বাতাসে তোলা এক কল্পনা। কারণ যে বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি হওয়ার কথা, তা তো দূরের কথা, বরং অনিশ্চয়তা আর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে ব্যবসায়ী মহলে। আর মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার যে প্রতিশ্রুতি, তাও পুরোটাই মিথ্যে। কারণ বাস্তবতা হলো এই সরকার কখনোই বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। কারণ তাদের পুরো অর্থনৈতিক নীতি নির্ভর করে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার ওপর, সাধারণ মানুষের নয়।
সৃজনশীল অর্থনীতি, স্টার্টআপ, ডিজিটাল কনটেন্ট, জ্ঞানভিত্তিক শিল্প এসব সুন্দর সুন্দর পরিভাষা শুনলে মনে হতে পারে বিএনপি নাকি আধুনিক অর্থনীতি গড়তে চায়। কিন্তু বাস্তবে এসব কেবল কাগজের কালি মাত্র। কারণ এই বিএনপির জন্মই হয়েছে সেনানিবাসে, তাদের রাজনীতির ভিত্তিই হলো সামন্তবাদী মানসিকতা আর ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন। তারা কখনোই উদ্ভাবন বা সৃজনশীলতাকে সমর্থন করবে না। কারণ এসবের জন্য প্রয়োজন মুক্তচিন্তা আর গণতান্ত্রিক পরিবেশ, যা বিএনপির স্বভাবে নেই।
বিদেশি ঋণের যে ফাঁদ পাতা হয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে। কারণ এর আগে যখনই বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, বিদেশি ঋণের বোঝা বেড়েছে কয়েক গুণ। আর সেই ঋণের অর্থ গিয়েছে মূলত দলীয় নেতাকর্মী ও ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর পকেটে। এবারো একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকারের মূল উদ্দেশ্যই হলো দ্রুত সম্পদ আহরণ করা, দেশ গড়া নয়।
দুর্নীতির যে সংস্কৃতি বিএনপি গত দুই দশক ধরে লালন করে আসছে, তা এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে যাচ্ছে। বিনিয়ন্ত্রণের নামে যখন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার কথা বলা হচ্ছে, তখন তার প্রকৃত অর্থ দাঁড়ায় সেসব প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের লোক দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া। বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সব জায়গাতেই বসবে দলীয় লেজুড়বৃত্তিকরা। ফলে দুর্নীতি হবে অবাধ, লুটপাট হবে নির্বিঘ্ন।
মানুষের যে চরম দুর্দশা চলছে, তার প্রতিফলন এই বাজেটে নেই বললেই চলে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তার ওপর এই বাজেট আরো করের বোঝা চাপিয়ে মানুষের জীবনকে আরো দুর্বিষহ করে তুলবে। অথচ সরকার বলছে তারা নাকি জনকল্যাণমুখী। এই যে চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংসসহ ৬০টি পণ্যে কর কমানোর ঘোষণা, তাও পুরোটাই চোখে ধুলো দেওয়ার কৌশল। কারণ সাপ্লাই চেইন ও বাজার ব্যবস্থা যখনই একটি বিশেষ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তখন কর কমিয়েও দাম কমানো যাবে না।
সবচেয়ে মর্মান্তিক সত্য হলো, এই বাজেটের মাধ্যমে বিএনপি সরকার যে অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করতে যাচ্ছে, তা আগামী কয়েক দশকের জন্য বাংলাদেশকে পঙ্গু করে দেবে। ঋণের ফাঁদ, দুর্নীতির সংস্কৃতি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, বেসরকারি খাতের বিনাশ, মূল্যস্ফীতির লাগামহীন উত্থান, বৈষম্যের বিস্তৃতি, সব মিলিয়ে এটি হবে একটি দেশ ধ্বংসের মহাপরিকল্পনা। আর এই ধ্বংসযজ্ঞের নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন সেই তারেক রহমান, যিনি নিজেই আইনের চোখে অপরাধী, যিনি দেশের মাটিতে পা রাখতে ভয় পান, যিনি কখনো জনগণের মুখোমুখি হতে সাহস পাননি।
২০০১ থেকে ২০০৬ সালের অন্ধকার অধ্যায় বাংলাদেশ ভুলে যায়নি। সেই সন্ত্রাস, সেই দুর্নীতি, সেই লুটপাট, সেই নারী নির্যাতন, সেই সংখ্যালঘু নিপীড়ন, সেই বিরোধী দল নির্মূলের রাজনীতি, সবই আবার ফিরে এসেছে নতুন মোড়কে। খালেদা জিয়ার পরিবর্তে তারেক রহমান শুধু নাম বদলেছেন, কিন্তু অপশাসনের চরিত্র বিন্দুমাত্র বদলায়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরো নৃশংস, আরো পরিকল্পিত, আরো ধূর্ত হয়ে উঠেছে।
দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য এই সরকার হুমকি। দেশের গণতন্ত্রের জন্য এই সরকার বিপর্যয়। দেশের সাধারণ মানুষের জন্য এই সরকার এক বিভীষিকা। অথচ কোনো বৈধতা না থাকা সত্ত্বেও, জনগণের সমর্থন না থাকা সত্ত্বেও এই সরকার নিজেদের টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর এই টিকে থাকার লড়াইয়ের খেসারত দিচ্ছে দেশ ও দেশের মানুষ।
এখন প্রশ্ন হলো, এই অপশাসনের বিরুদ্ধে করণীয় কী? ইতিহাস বলে, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে নীরব থাকা মানে অপরাধীর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করা। যে দেশ তার স্বাধীনতার জন্য লাখো শহীদের রক্ত দিয়েছে, সেই দেশে একটি পলাতক আসামীর নেতৃত্বে অপশাসন চলবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। বাজেট নামক এই অর্থনৈতিক প্রতারণার নথি জনগণের সামনে উন্মোচিত হয়েছে। এখন প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য, প্রয়োজন সচেতনতা, প্রয়োজন এই অপশাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন।
বাংলাদেশ আবারও সেই ২০০১-০৬ সালের ভয়াবহ দিনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বাজেটের প্রতিটি অঙ্ক যেন সেই অন্ধকার সময়েরই প্রতিচ্ছবি। ঋণের ফাঁদ, করের বোঝা, দুর্নীতির পরিকল্পনা, প্রাতিষ্ঠানিক ধ্বংস, সবই ইঙ্গিত দেয় এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকে। এখনো সময় আছে। এখনো জাতি ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। এখনো এই অপশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। কিন্তু যদি সেই সাহস না জাগে, যদি বিভ্রান্তি আর আত্মতুষ্টির ঘোর কাটানো না যায়, তাহলে ইতিহাস ক্ষমাহীন হবে। আর সেই ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে একদিন এ প্রজন্মকেও বলতে হবে, আমরা দেখেও দেখিনি, জেনেও মানিনি।

