ইতিহাস ঘুরে ফেরত এসেছে, সানজিদারা আবার একা

সানজিদার বয়স ছিল এগারো। বাবা নেই, মা নেই, নানীর হাতে বড় হওয়া একটা মেয়ে পাশের বাড়িতে খেলতে গিয়ে আর ফেরেনি। পরদিন তাকে পাওয়া গেছে প্রতিবেশীর টয়লেটে, লাশ হয়ে। অভিযুক্ত বিল্লাল নিজেই ফোনে জানিয়েছে সে মেয়েটাকে মেরে ওখানে রেখে গেছে। এর চেয়ে নির্মম স্বীকারোক্তি আর কী হতে পারে।

এই ঘটনাটা ঘটেছে ২০২৬ সালের মে মাসে। অর্থাৎ বিএনপি ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মাথায়। ফেব্রুয়ারির সেই নির্বাচনের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই, যেখানে আওয়ামী লীগসহ দেশের প্রধান প্রধান দলগুলো অংশ নেয়নি, সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায়নি, আর বিএনপি সেই শূন্য মাঠে একা খেলে নিজেরাই জিতে ক্ষমতায় বসেছে। সেই সরকারের আমলে শেরপুরের একটা এগারো বছরের মেয়ে ধর্ষিত হয়ে খুন হলো, এটা কি শুধুই কাকতাল?

২০০১ থেকে ২০০৬, বিএনপির শেষবারের শাসনামলে নারী ও শিশু নির্যাতনের যে রেকর্ড এই দল রেখে গেছে, সেটা বাংলাদেশের ইতিহাসে কালো অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে। সংখ্যালঘু নারীদের উপর সংঘবদ্ধ নির্যাতন, হিন্দু পরিবারে আগুন, ভিটেমাটি দখল, ধর্ষণ আর হত্যা, এগুলো ওই পাঁচ বছরের নিয়মিত সংবাদ ছিল। সিরাজগঞ্জে, নোয়াখালীতে, বাগেরহাটে যা ঘটেছিল সেসব ঘটনার বিচার হয়নি, অভিযুক্তরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দলীয় ছত্রছায়ায় পার পেয়ে গেছে। কারণ রাষ্ট্রের পুরো মেশিনারি তখন একটাই কাজ করত, দলের লোককে বাঁচানো।

বিএনপির জন্মটা মনে রাখা দরকার। জিয়াউর রহমান এই দল বানিয়েছিলেন সেনানিবাসে বসে, রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক যে বিবর্তন হয় জনগণের ভেতর থেকে, মাঠ থেকে, সেটার ধার দিয়েও যাননি। শুরু থেকেই এটা একটা উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া কাঠামো, যেখানে ক্ষমতাই আসল কথা, জনগণ একটা উপলক্ষ মাত্র। সেই ধারাটা এখনও বজায় আছে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এর প্রমাণ আবার মিলল। যে নির্বাচনে জনগণ নেই, প্রতিযোগিতা নেই, সেটা নির্বাচন না, সেটা ক্ষমতা দখলের একটা আনুষ্ঠানিকতা।

এই সরকারের মন্ত্রীরা সানজিদার মৃত্যুর পর কী বলেছেন? বিচার হবে, তদন্ত চলছে, দোষীদের ছাড় দেওয়া হবে না, এই গতানুগতিক কথাগুলো ছাড়া কিছু কি বলেছেন? বলেননি। কারণ এই ধরনের ঘটনায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে বিচার হয় না, এটা বাংলাদেশের মানুষ বহুবার দেখেছে। আর বিএনপির সদিচ্ছার প্রশ্নে তাদের নিজেদের ইতিহাসই সবচেয়ে বড় সাক্ষী।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে মামলার যে পাহাড় জমে আছে, তার একটা বড় অংশ বছরের পর বছর ঝুলে থাকে কারণ রাজনৈতিক প্রভাব বিচারিক প্রক্রিয়াকে আচ্ছন্ন করে রাখে। অভিযুক্ত যদি ক্ষমতাসীন দলের সাথে কোনোভাবে যুক্ত থাকে, কিংবা স্থানীয় নেতার আশীর্বাদপুষ্ট থাকে, তাহলে মামলা দুর্বল হয়ে যায়, সাক্ষী সরে যায়, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। এটা কোনো অনুমান না, এটা বাংলাদেশের আদালতপাড়ার পরিচিত বাস্তবতা।

সানজিদার ঘটনায় অভিযুক্ত বিল্লাল এখনও ধরা পড়েনি। তার বাবা, মা, বোনকে থানায় নেওয়া হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। এখন দেখার বিষয় এই তদন্ত কোন দিকে যায়। বিচার হয় কিনা, হলে কত বছর লাগে, আর শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত শাস্তি পায় কিনা। বিএনপির আমলে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ইতিহাস আগেই দিয়ে রেখেছে।

সানজিদার বয়স ছিল এগারো। বাবা নেই, মা নেই, নানীর হাতে বড় হওয়া একটা মেয়ে পাশের বাড়িতে খেলতে গিয়ে আর ফেরেনি। পরদিন তাকে পাওয়া গেছে প্রতিবেশীর টয়লেটে, লাশ হয়ে। অভিযুক্ত বিল্লাল নিজেই ফোনে জানিয়েছে সে মেয়েটাকে মেরে ওখানে রেখে গেছে। এর চেয়ে নির্মম স্বীকারোক্তি আর কী হতে পারে।

এই ঘটনাটা ঘটেছে ২০২৬ সালের মে মাসে। অর্থাৎ বিএনপি ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মাথায়। ফেব্রুয়ারির সেই নির্বাচনের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই, যেখানে আওয়ামী লীগসহ দেশের প্রধান প্রধান দলগুলো অংশ নেয়নি, সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায়নি, আর বিএনপি সেই শূন্য মাঠে একা খেলে নিজেরাই জিতে ক্ষমতায় বসেছে। সেই সরকারের আমলে শেরপুরের একটা এগারো বছরের মেয়ে ধর্ষিত হয়ে খুন হলো, এটা কি শুধুই কাকতাল?

২০০১ থেকে ২০০৬, বিএনপির শেষবারের শাসনামলে নারী ও শিশু নির্যাতনের যে রেকর্ড এই দল রেখে গেছে, সেটা বাংলাদেশের ইতিহাসে কালো অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে। সংখ্যালঘু নারীদের উপর সংঘবদ্ধ নির্যাতন, হিন্দু পরিবারে আগুন, ভিটেমাটি দখল, ধর্ষণ আর হত্যা, এগুলো ওই পাঁচ বছরের নিয়মিত সংবাদ ছিল। সিরাজগঞ্জে, নোয়াখালীতে, বাগেরহাটে যা ঘটেছিল সেসব ঘটনার বিচার হয়নি, অভিযুক্তরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দলীয় ছত্রছায়ায় পার পেয়ে গেছে। কারণ রাষ্ট্রের পুরো মেশিনারি তখন একটাই কাজ করত, দলের লোককে বাঁচানো।

বিএনপির জন্মটা মনে রাখা দরকার। জিয়াউর রহমান এই দল বানিয়েছিলেন সেনানিবাসে বসে, রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক যে বিবর্তন হয় জনগণের ভেতর থেকে, মাঠ থেকে, সেটার ধার দিয়েও যাননি। শুরু থেকেই এটা একটা উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া কাঠামো, যেখানে ক্ষমতাই আসল কথা, জনগণ একটা উপলক্ষ মাত্র। সেই ধারাটা এখনও বজায় আছে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এর প্রমাণ আবার মিলল। যে নির্বাচনে জনগণ নেই, প্রতিযোগিতা নেই, সেটা নির্বাচন না, সেটা ক্ষমতা দখলের একটা আনুষ্ঠানিকতা।

এই সরকারের মন্ত্রীরা সানজিদার মৃত্যুর পর কী বলেছেন? বিচার হবে, তদন্ত চলছে, দোষীদের ছাড় দেওয়া হবে না, এই গতানুগতিক কথাগুলো ছাড়া কিছু কি বলেছেন? বলেননি। কারণ এই ধরনের ঘটনায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে বিচার হয় না, এটা বাংলাদেশের মানুষ বহুবার দেখেছে। আর বিএনপির সদিচ্ছার প্রশ্নে তাদের নিজেদের ইতিহাসই সবচেয়ে বড় সাক্ষী।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে মামলার যে পাহাড় জমে আছে, তার একটা বড় অংশ বছরের পর বছর ঝুলে থাকে কারণ রাজনৈতিক প্রভাব বিচারিক প্রক্রিয়াকে আচ্ছন্ন করে রাখে। অভিযুক্ত যদি ক্ষমতাসীন দলের সাথে কোনোভাবে যুক্ত থাকে, কিংবা স্থানীয় নেতার আশীর্বাদপুষ্ট থাকে, তাহলে মামলা দুর্বল হয়ে যায়, সাক্ষী সরে যায়, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। এটা কোনো অনুমান না, এটা বাংলাদেশের আদালতপাড়ার পরিচিত বাস্তবতা।

সানজিদার ঘটনায় অভিযুক্ত বিল্লাল এখনও ধরা পড়েনি। তার বাবা, মা, বোনকে থানায় নেওয়া হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। এখন দেখার বিষয় এই তদন্ত কোন দিকে যায়। বিচার হয় কিনা, হলে কত বছর লাগে, আর শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত শাস্তি পায় কিনা। বিএনপির আমলে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ইতিহাস আগেই দিয়ে রেখেছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ