শেয়ারবাজারে এই স্থবিরতা কি শুধুই কাকতালীয়?

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। সূচক পড়ছে, বিনিয়োগকারীরা বাজার ছেড়ে সরে যাচ্ছেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। এই যে একটা ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি, এটা কিন্তু হঠাৎ আকাশ থেকে এসে পড়েনি। এর পেছনে একটা রাজনৈতিক বাস্তবতা আছে, যেটা নিয়ে খোলামেলা কথা বলার সময় এসেছে।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি যা হয়েছে সেটাকে কোনো বিবেকবান মানুষ নির্বাচন বলতে পারবেন না। দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বাইরে রেখে, জনগণের বড় একটা অংশ যখন ভোট বর্জন করেছেন, তখন যে ফলাফল বেরিয়েছে সেটা আসলে একটা নাটকের পরিণতি মাত্র। বিএনপি সেই নাটকের সুবিধাভোগী হিসেবে ক্ষমতায় বসেছে। আর এই দলটির ইতিহাস যারা একটু মনে করতে পারেন, তারা জানেন এই পরিচিত গল্পটা কোথায় গিয়ে শেষ হয়।

জিয়াউর রহমান যে দলটি তৈরি করেছিলেন সেনানিবাসের ছায়ায়, সেটি শুরু থেকেই গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলে ক্ষমতার রাজনীতি করে এসেছে। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসনামলে দেশের মানুষ কী দেখেছিলেন সেটা ভুলে যাওয়ার কথা না। হাওয়া ভবন নামের একটি ছায়া সরকার চলত, যেখান থেকে দেশের প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য, টেন্ডার, থানা সব কিছু নিয়ন্ত্রিত হতো। দুর্নীতিতে বাংলাদেশ তখন বিশ্বে শীর্ষে উঠেছিল, পরপর পাঁচবার। সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজি তখন এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল যে মানুষ প্রায় মেনেই নিয়েছিলেন।

সেই দলটি আবার ক্ষমতায়। আর ক্ষমতায় আসার পর থেকে অর্থনীতির যে চিত্র দেখা যাচ্ছে সেটা পরিচিত লাগছে। বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাচ্ছেন, তারল্য সংকট বাড়ছে, ব্যাংকিং খাতে চাপ তৈরি হচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। শেয়ারবাজারে লেনদেন কমে যাওয়াটা শুধু একটা অর্থনৈতিক সংকেত না, এটা আসলে একটা রাজনৈতিক অবিশ্বাসের প্রতিফলন।

বিএনপির এই তথাকথিত মন্ত্রিসভার দিকে তাকালে যা চোখে পড়ে সেটা হলো পরিচিত মুখের ভিড়। যারা আগেও ক্ষমতায় ছিলেন, যারা আগেও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন, তারাই আবার ফিরে এসেছেন নতুন পরিচয়ে। এই মন্ত্রিসভা দেশের অর্থনীতি নিয়ে যে কথা বলছেন সেগুলো শুনতে সুন্দর, কিন্তু মাঠের বাস্তবতার সাথে তার কোনো মিল নেই। শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা বাস্তববাদী মানুষ, তারা কথায় না, কাজে বিশ্বাস রাখেন। আর কাজ দেখতে না পেয়েই তারা সরে যাচ্ছেন।

৭৬৭ কোটি টাকার লেনদেন, যা কিনা এক মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম, এই সংখ্যাটা শুধু একটা পরিসংখ্যান না। এর পেছনে কয়েক লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারীর হতাশা আছে, যারা বারবার বাজারে এসে লোকসান গুনে ঘরে ফিরেছেন। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বাজারে আসতে চাইছেন না, কারণ তারা দেখছেন যে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো স্থিতিশীলতা নেই, কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ইঙ্গিত নেই।

২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপি শাসনের যে ক্ষত দেশ বহন করেছে, সেটা সারতে বছরের পর বছর লেগেছিল। এখন ২০২৬ সালে এসে সেই একই পথে হাঁটার লক্ষণ স্পষ্ট। ভিন্নমতের দলগুলোকে বাইরে রেখে, জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া ক্ষমতায় বসে, অর্থনীতির রাশ যারা ধরেছেন, তাদের কাছ থেকে সুশাসন আশা করাটাই একটা বিলাসিতা। ইতিহাস সাক্ষী, বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই দেশের সম্পদ লুটপাটের একটা মৌসুম এসেছে। এবারও সেই শঙ্কার কারণ কমছে না, বরং বাড়ছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। সূচক পড়ছে, বিনিয়োগকারীরা বাজার ছেড়ে সরে যাচ্ছেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। এই যে একটা ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি, এটা কিন্তু হঠাৎ আকাশ থেকে এসে পড়েনি। এর পেছনে একটা রাজনৈতিক বাস্তবতা আছে, যেটা নিয়ে খোলামেলা কথা বলার সময় এসেছে।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি যা হয়েছে সেটাকে কোনো বিবেকবান মানুষ নির্বাচন বলতে পারবেন না। দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বাইরে রেখে, জনগণের বড় একটা অংশ যখন ভোট বর্জন করেছেন, তখন যে ফলাফল বেরিয়েছে সেটা আসলে একটা নাটকের পরিণতি মাত্র। বিএনপি সেই নাটকের সুবিধাভোগী হিসেবে ক্ষমতায় বসেছে। আর এই দলটির ইতিহাস যারা একটু মনে করতে পারেন, তারা জানেন এই পরিচিত গল্পটা কোথায় গিয়ে শেষ হয়।

জিয়াউর রহমান যে দলটি তৈরি করেছিলেন সেনানিবাসের ছায়ায়, সেটি শুরু থেকেই গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলে ক্ষমতার রাজনীতি করে এসেছে। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসনামলে দেশের মানুষ কী দেখেছিলেন সেটা ভুলে যাওয়ার কথা না। হাওয়া ভবন নামের একটি ছায়া সরকার চলত, যেখান থেকে দেশের প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য, টেন্ডার, থানা সব কিছু নিয়ন্ত্রিত হতো। দুর্নীতিতে বাংলাদেশ তখন বিশ্বে শীর্ষে উঠেছিল, পরপর পাঁচবার। সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজি তখন এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল যে মানুষ প্রায় মেনেই নিয়েছিলেন।

সেই দলটি আবার ক্ষমতায়। আর ক্ষমতায় আসার পর থেকে অর্থনীতির যে চিত্র দেখা যাচ্ছে সেটা পরিচিত লাগছে। বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাচ্ছেন, তারল্য সংকট বাড়ছে, ব্যাংকিং খাতে চাপ তৈরি হচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। শেয়ারবাজারে লেনদেন কমে যাওয়াটা শুধু একটা অর্থনৈতিক সংকেত না, এটা আসলে একটা রাজনৈতিক অবিশ্বাসের প্রতিফলন।

বিএনপির এই তথাকথিত মন্ত্রিসভার দিকে তাকালে যা চোখে পড়ে সেটা হলো পরিচিত মুখের ভিড়। যারা আগেও ক্ষমতায় ছিলেন, যারা আগেও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন, তারাই আবার ফিরে এসেছেন নতুন পরিচয়ে। এই মন্ত্রিসভা দেশের অর্থনীতি নিয়ে যে কথা বলছেন সেগুলো শুনতে সুন্দর, কিন্তু মাঠের বাস্তবতার সাথে তার কোনো মিল নেই। শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা বাস্তববাদী মানুষ, তারা কথায় না, কাজে বিশ্বাস রাখেন। আর কাজ দেখতে না পেয়েই তারা সরে যাচ্ছেন।

৭৬৭ কোটি টাকার লেনদেন, যা কিনা এক মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম, এই সংখ্যাটা শুধু একটা পরিসংখ্যান না। এর পেছনে কয়েক লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারীর হতাশা আছে, যারা বারবার বাজারে এসে লোকসান গুনে ঘরে ফিরেছেন। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বাজারে আসতে চাইছেন না, কারণ তারা দেখছেন যে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো স্থিতিশীলতা নেই, কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ইঙ্গিত নেই।

২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপি শাসনের যে ক্ষত দেশ বহন করেছে, সেটা সারতে বছরের পর বছর লেগেছিল। এখন ২০২৬ সালে এসে সেই একই পথে হাঁটার লক্ষণ স্পষ্ট। ভিন্নমতের দলগুলোকে বাইরে রেখে, জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া ক্ষমতায় বসে, অর্থনীতির রাশ যারা ধরেছেন, তাদের কাছ থেকে সুশাসন আশা করাটাই একটা বিলাসিতা। ইতিহাস সাক্ষী, বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই দেশের সম্পদ লুটপাটের একটা মৌসুম এসেছে। এবারও সেই শঙ্কার কারণ কমছে না, বরং বাড়ছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ