২০ মাসে বদলেছে কেবল মুখ, বদলায়নি তরিকুলদের কপাল

তরিকুল ইসলাম সকাল সাতটায় লাইনে দাঁড়িয়েছেন। বেলা সাড়ে তিনটা পার হয়ে গেছে, তেল পাননি। পেটের চিন্তায় মাথা ঘুরছে। বাবা-মায়ের ওষুধ কিনবেন নাকি সংসারের বাজার করবেন, এই হিসাব মেলাতে পারছেন না। ৯ বছর ধরে রাইডশেয়ার করে সংসার চালান, এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার টাকা ঋণ হয়ে গেছে। শুধু তেল পাচ্ছেন না বলে।

এদিকে বিএনপির প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সাংবাদিকদের সামনে বসে বলছে, গত দুই মাসে বাংলাদেশের মানুষ অনেক সুখে-শান্তিতে বসবাস করছেন! এই দুটো বাস্তবতা একসাথে মাথায় রাখলে হাসবেন না কাঁদবেন, বুঝতে পারবেন না।

ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে যে নির্বাচন হয়েছে, সেটাকে নির্বাচন বলতে রাজি হননি দেশের-বিদেশের কেউই। সাধারণ মানুষের বড় একটা অংশ ভোটকেন্দ্রে যাননি। এই ভোটে যারা ভোট চুরি করে জিতেছেন, তারা ক্ষমতা দখল করেই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। সেই কাঁধে এখন তেলের সংকট, বাজারের আগুন, ওষুধের দাম আর সাধারণ মানুষের না বলা যন্ত্রণা।

বিএনপি একটা দল হিসেবে জন্মই নিয়েছে সেনানিবাসে। জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক দল খুলেছেন সামরিক ছাউনির ভেতর থেকে, সেটা ইতিহাস। সেই দলের ডিএনএতে গণতন্ত্রের চেয়ে ক্ষমতার গন্ধ বেশি, এটাও মানুষ বারবার দেখেছে। দুর্নীতির মামলা, সন্ত্রাসের অভিযোগ, হাওয়া ভবনের স্মৃতি, এসব তো আর মানুষ ভুলে যায়নি। কিন্তু ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

এই সরকারের মন্ত্রীরা টেলিভিশনে আসেন, কথা বলেন, আশ্বাস দেন। তেলের সংকট নিয়ে বললে বলেন সমাধান হয়ে যাবে। বাজারের দাম নিয়ে বললে বলেন নিয়ন্ত্রণে আসছে। মানুষের কষ্টের কথা তুললে বলেন আগের সরকার এর জন্য দায়ী। এই মন্ত্রিসভার কেউ একবারও বলেননি, আমার দায়িত্ব ছিল, আমি পারিনি।

পরিবাগের মেঘনা ফিলিং স্টেশনে বিকেল চারটায় ৭৭০টি মোটরসাইকেল আর ২৯৩টি প্রাইভেট গাড়ি লাইনে দাঁড়িয়ে। মতিঝিলের স্টেশনে সকালেই ৪০৯টি মোটরসাইকেল। এই সংখ্যাগুলো শুধু যানবাহনের সংখ্যা না, এগুলো মানুষের সংখ্যা। প্রতিটা গাড়ির পেছনে একটা সংসার, একটা পরিবার, একটা মাসের হিসাব।

বিল্লাল হোসেন চাকরি ছেড়ে কিস্তিতে বাইক কিনেছেন। এখন ঋণ করে কিস্তি দিচ্ছেন। কারণ ভাড়া নেই, তেল নেই, আয় নেই। কিন্তু কিস্তির তারিখ আছে, বাড়িভাড়ার তারিখ আছে, পরিবারের খিদে আছে।

একসময় বিএনপি আর তাদের সঙ্গীরা মাঠে নেমেছিলেন মাংসের দাম বেশি বলে। সেটা ছিল বিরোধী দলের রাজনীতির অংশ, মানুষকে ক্ষেপানোর হাতিয়ার। মাংসের দাম নিয়ে আন্দোলন করা সেই নেতারা এখন ক্ষমতায়। এখন মানুষ মাংস না, ভাত আর ওষুধের কথা ভাবছে। সেই মাংসের স্বাধীনতার দাবিদাররা এখন ভাতের স্বাধীনতা দিতে পারছেন না।

সরকারের প্রেস উইং বলছে সুখ-শান্তিতে আছে দেশ। তরিকুল বলছেন বাজারই হবে না আজ। কার কথা বিশ্বাস করবেন? যার পেট ভরা, সে সুখের খবর দেয়। যার পেট খালি, সে সত্যিটা বলে।

তরিকুল ইসলাম সকাল সাতটায় লাইনে দাঁড়িয়েছেন। বেলা সাড়ে তিনটা পার হয়ে গেছে, তেল পাননি। পেটের চিন্তায় মাথা ঘুরছে। বাবা-মায়ের ওষুধ কিনবেন নাকি সংসারের বাজার করবেন, এই হিসাব মেলাতে পারছেন না। ৯ বছর ধরে রাইডশেয়ার করে সংসার চালান, এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার টাকা ঋণ হয়ে গেছে। শুধু তেল পাচ্ছেন না বলে।

এদিকে বিএনপির প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সাংবাদিকদের সামনে বসে বলছে, গত দুই মাসে বাংলাদেশের মানুষ অনেক সুখে-শান্তিতে বসবাস করছেন! এই দুটো বাস্তবতা একসাথে মাথায় রাখলে হাসবেন না কাঁদবেন, বুঝতে পারবেন না।

ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে যে নির্বাচন হয়েছে, সেটাকে নির্বাচন বলতে রাজি হননি দেশের-বিদেশের কেউই। সাধারণ মানুষের বড় একটা অংশ ভোটকেন্দ্রে যাননি। এই ভোটে যারা ভোট চুরি করে জিতেছেন, তারা ক্ষমতা দখল করেই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। সেই কাঁধে এখন তেলের সংকট, বাজারের আগুন, ওষুধের দাম আর সাধারণ মানুষের না বলা যন্ত্রণা।

বিএনপি একটা দল হিসেবে জন্মই নিয়েছে সেনানিবাসে। জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক দল খুলেছেন সামরিক ছাউনির ভেতর থেকে, সেটা ইতিহাস। সেই দলের ডিএনএতে গণতন্ত্রের চেয়ে ক্ষমতার গন্ধ বেশি, এটাও মানুষ বারবার দেখেছে। দুর্নীতির মামলা, সন্ত্রাসের অভিযোগ, হাওয়া ভবনের স্মৃতি, এসব তো আর মানুষ ভুলে যায়নি। কিন্তু ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

এই সরকারের মন্ত্রীরা টেলিভিশনে আসেন, কথা বলেন, আশ্বাস দেন। তেলের সংকট নিয়ে বললে বলেন সমাধান হয়ে যাবে। বাজারের দাম নিয়ে বললে বলেন নিয়ন্ত্রণে আসছে। মানুষের কষ্টের কথা তুললে বলেন আগের সরকার এর জন্য দায়ী। এই মন্ত্রিসভার কেউ একবারও বলেননি, আমার দায়িত্ব ছিল, আমি পারিনি।

পরিবাগের মেঘনা ফিলিং স্টেশনে বিকেল চারটায় ৭৭০টি মোটরসাইকেল আর ২৯৩টি প্রাইভেট গাড়ি লাইনে দাঁড়িয়ে। মতিঝিলের স্টেশনে সকালেই ৪০৯টি মোটরসাইকেল। এই সংখ্যাগুলো শুধু যানবাহনের সংখ্যা না, এগুলো মানুষের সংখ্যা। প্রতিটা গাড়ির পেছনে একটা সংসার, একটা পরিবার, একটা মাসের হিসাব।

বিল্লাল হোসেন চাকরি ছেড়ে কিস্তিতে বাইক কিনেছেন। এখন ঋণ করে কিস্তি দিচ্ছেন। কারণ ভাড়া নেই, তেল নেই, আয় নেই। কিন্তু কিস্তির তারিখ আছে, বাড়িভাড়ার তারিখ আছে, পরিবারের খিদে আছে।

একসময় বিএনপি আর তাদের সঙ্গীরা মাঠে নেমেছিলেন মাংসের দাম বেশি বলে। সেটা ছিল বিরোধী দলের রাজনীতির অংশ, মানুষকে ক্ষেপানোর হাতিয়ার। মাংসের দাম নিয়ে আন্দোলন করা সেই নেতারা এখন ক্ষমতায়। এখন মানুষ মাংস না, ভাত আর ওষুধের কথা ভাবছে। সেই মাংসের স্বাধীনতার দাবিদাররা এখন ভাতের স্বাধীনতা দিতে পারছেন না।

সরকারের প্রেস উইং বলছে সুখ-শান্তিতে আছে দেশ। তরিকুল বলছেন বাজারই হবে না আজ। কার কথা বিশ্বাস করবেন? যার পেট ভরা, সে সুখের খবর দেয়। যার পেট খালি, সে সত্যিটা বলে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ