রাজধানীর আরামবাগ, শাহবাগ, তেজগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেট্রোল পাম্পের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছে মানুষ। কেউ ১৭ ঘণ্টা অপেক্ষার পর তেল পাচ্ছেন, কেউ পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। রাইড শেয়ার চালকের আয় কমেছে, চাকরিজীবীর কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, কোথাও কোথাও সিরিয়াল ভাঙা নিয়ে হাতাহাতি পর্যন্ত হচ্ছে। এই যখন মাঠের চিত্র, তখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শন করে ঘোষণা দিচ্ছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বেশি জ্বালানি মজুত আর কখনো ছিল না।
এই বৈপরীত্য নতুন কিছু না। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে এই ধরনের ঘোষণা আর বাস্তবতার ফারাক নিয়মিত ঘটনা হয়ে যায়। ২০০১ থেকে ২০০৬, সেই পাঁচ বছরের কথা যাদের মনে আছে, তারা জানেন কীভাবে দেশ চলে যখন বিএনপি ক্ষমতায় থাকে। লোডশেডিং, জ্বালানি সংকট, সিন্ডিকেটের হাতে বাজার জিম্মি। সেই পুরনো চেহারাটাই ফিরে এসেছে, শুধু সালটা বদলেছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, তিন গাড়ি তেলের চাহিদায় মিলছে এক গাড়ি। ডিপো থেকে বরাদ্দ এত কম যে সার্বক্ষণিক তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মাঠের এই তথ্য আর প্রতিমন্ত্রীর দাবির মধ্যে যে বিশাল ফাঁক, সেটা নিয়ে সরকারের কোনো জবাবদিহি নেই। ফুয়েল পাশ চালু হয়েছে বটে, কিন্তু কার্যকর হয়নি। এটা সমাধানের নামে আরেকটি ভাঁওতা।
এখন যে সরকার ক্ষমতায়, তারা এসেছে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর একটি নির্বাচনের মাধ্যমে, যেখানে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নেয়নি। জনগণের একটি বড় অংশ সেই নির্বাচনকে বয়কট করেছে। যে দলের জন্ম সেনানিবাসে, যার রাজনৈতিক ইতিহাস দুর্নীতি আর সন্ত্রাসে ঠাসা, সেই বিএনপি সেই নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় বসে এখন দেশ চালাচ্ছে। এবং দেশ চালানোর নমুনা দেখা যাচ্ছে পাম্পের সামনের লম্বা লাইনে।
জ্বালানি সংকটের ভার কিন্তু শুধু যানবাহনের উপর পড়ছে না। কৃষিতে সেচ, পরিবহন খরচ, ছোট ব্যবসা, সবখানে এই সংকটের ঢেউ লাগছে। মানুষের দৈনন্দিন জীবন ক্রমশ কষ্টের হয়ে উঠছে। আর এই সময়ে সরকারের প্রতিমন্ত্রী “ইতিহাসের সর্বোচ্চ মজুত” এর তথ্য দিয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন।
মজুত থাকলে পাম্পে তেল নেই কেন? সেই প্রশ্নের উত্তর কেউ দিচ্ছে না। বিতরণ ব্যবস্থায় কোথায় সমস্যা, সিন্ডিকেট কোথায় কাজ করছে, কারা এই সংকট তৈরি করে রাখছে, এসব নিয়ে সরকারের তরফে কোনো স্বচ্ছ তথ্য নেই। যে সরকার জবাবদিহি করতে আগ্রহী না, তার কাছে সমাধান আশা করাটাও বোকামি।

