আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ওয়াশিংটনে চলমান বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর ফলে জুনে প্রত্যাশিত ১৩০ কোটি ডলারের কিস্তি পাওয়া এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংস্থাটির মতে, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে বাংলাদেশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
অর্থনৈতিক এই সংকটের নেপথ্যে অনেকেই ২০০১-২০০৬ সালের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির স্মৃতি স্মরণ করছেন। বর্তমান সংস্কারহীনতা এবং নীতিগত দ্বিধাকে সেই সময়ের ‘হাওয়া ভবন’ কেন্দ্রিক অপশাসনের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে তৎকালীন সময়ে গড়ে ওঠা দুর্নীতির কাঠামো বাংলাদেশকে টানা পাঁচবার ‘দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন’ করেছিল। নাইকো দুর্নীতি মামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো ঘটনায় রাষ্ট্রীয় যন্ত্রকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, তার প্রভাব আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ২০০১-০৬ সময়ে পদ্মা সেতু বা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্পগুলো বন্ধ করে দিয়ে দেশকে উন্নয়নের পথ থেকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং রিজার্ভের সংকটের মধ্যে আইএমএফের এই সিদ্ধান্ত সরকারকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, অতীতের সেই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসে কঠোর সংস্কার বাস্তবায়ন না করলে আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের মতো সংস্থাগুলোর আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল এখন আইএমএফকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে সংস্থাটি এখন কথার চেয়ে কাজের প্রমাণ বা ‘কনক্রিট অ্যাকশন’ দেখতে বেশি আগ্রহী।

