সেনাকর্মকর্তাদের সূক্ষ্ম চালে যেভাবে দিল্লি পাঠানো হয় শেখ হাসিনাকে

গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি ‘সূক্ষ্ম কৌশলের’ মাধ্যমে প্রথমে নিজেদের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল করে তুলেছিলেন শীর্ষ সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এরপর তাঁকে একটি ‘বেষ্টনীর’ মধ্যে ফেলে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘নর্থইস্ট নিউজ’-এ সাংবাদিক এনায়েত কবিরের লেখা ‘বাংলাদেশের মুখোশ উন্মোচন: পর্ব ৭’ (আনমাস্কিং বাংলাদেশ) শীর্ষক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার সুযোগ থাকলেও, সামরিক বাহিনীর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করাই ছিল শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এই ভুলের মাশুল দিয়েই তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ৫ আগস্ট বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গন্তব্য নিয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) কর্মকর্তাদের কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তবে ক্ষমতা ছাড়ার প্রায় এক ঘণ্টা আগেই হাসিনা বুঝে গিয়েছিলেন যে তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। তিনি জানতে পারেন, আর্টিলারি ডিভিশনের তৎকালীন কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার রফিকের নির্দেশে উত্তরা এলাকার প্রবেশমুখে বসানো ‘কারফিউর ব্যারিকেড’ হঠাৎ তুলে নেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় উত্তরায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্যরা মাইকে ঘোষণা করতে শুরু করেন, “কোনো কারফিউ নেই, আপনারা ঢাকার দিকে যেতে পারেন।” মূলত এই ব্যারিকেড সরানোর মধ্য দিয়েই ঢাকায় জনস্রোত ঢোকার পথ উন্মুক্ত হয় এবং সরকারের পতন নিশ্চিত হয়ে যায়। এরপর ঢাকা সেনানিবাস থেকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার ঘোষণা আসে, যা ছিল সরকার পরিবর্তনের একটি পরিষ্কার ইঙ্গিত।

নর্থইস্ট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে মূলত দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। সম্প্রতি এক বার্তায় শেখ হাসিনা নিজেও দাবি করেছেন, তিনি ভেবেছিলেন নিরাপত্তার কারণে তাঁকে টুঙ্গিপাড়ায় নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কুর্মিটোলার বাশার ঘাঁটিতে পৌঁছে তিনি বুঝতে পারেন, ক্ষমতা আর তাঁর হাতে নেই।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ৫ আগস্ট সকালেই জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ভারতের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গে কথা বলেন এবং বাংলাদেশি সামরিক বিমানের ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি নিয়ে রাখেন। দেশ ছাড়ার বিষয়ে শেখ হাসিনা অনিচ্ছুক থাকলেও, ভারতের এক শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তার সময়োচিত হস্তক্ষেপে তাঁকে এবং তাঁর বোন শেখ রেহানাকে সামরিক বিমানে করে দিল্লিতে নেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলা হয়, ৫ আগস্ট গণভবনে ভিড়ের মাধ্যমে হাসিনাকে হত্যা করে দেশে একটি ‘যুদ্ধপরিস্থিতি’ তৈরির পরিকল্পনা ছিল, যাতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের হস্তক্ষেপকে ন্যায্যতা দেওয়া যায়। কিন্তু ভারতীয় ওই কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে সে পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা রাজনৈতিকভাবে তা সমাধানের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শেখ রেহানা ও সালমান এফ রহমানের মাধ্যমে সেনাপ্রধান, ডিজিএফআই ও এনএসআই প্রধানরা হাসিনাকে ‘সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল’ হতে রাজি করান।

নর্থইস্ট নিউজ বলছে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর শেখ হাসিনাকে ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল করে তোলা হয়। তাঁর চারপাশে একটি ‘চট্টগ্রাম বলয়’ গড়ে উঠেছিল। প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি হিসেবে মোহাম্মদ কায়কোবাদ, এনএসআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসাইন আল মোর্শেদ এবং ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে মেজর জেনারেল হামিদুল হককে নিয়োগ দেওয়া হয়। সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবির আহমেদ এবং প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খানও এই বলয়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া জাতিসংঘের তৎকালীন আবাসিক প্রতিনিধি গুইন লুইস এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তিনি রামু সেনানিবাসকে স্থায়ী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ঘাঁটিতে রূপান্তর ও রাখাইন অঞ্চলে একটি সামরিক করিডোর তৈরির বিতর্কিত প্রস্তাবও দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

নর্থইস্ট নিউজের দাবি, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই থেকেই ডিজিএফআই ও এনএসআই সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নেয় এবং আন্দোলনকে সশস্ত্র সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়। ৬ জন ছাত্রনেতাকে (সমন্বয়ক) আটকে রেখে জোরপূর্বক আন্দোলন প্রত্যাহারের বিবৃতিতে স্বাক্ষর করানোর ঘটনাটি ছিল আত্মঘাতী। এটি সরকারের পতনে বড় ভূমিকা রাখে। তবে এই বুদ্ধি কে দিয়েছিল, তা জানা যায়নি।

শেখ হাসিনার আকস্মিক প্রস্থানে সরকারের অনেক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা বিপাকে পড়েন। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ অরাজক শক্তির হাতে চলে যায়। বিচারকদের জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। সামরিক বাহিনীর ‘ইচ্ছাকৃত ও বাছাই করা নিষ্ক্রিয়তা’ ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার পতনের পর আইএসপিআর বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া ৬২৭ জনের তালিকা প্রকাশ করে। তবে অনেককে নিরাপত্তা দিয়ে দেশ ছাড়তে সহায়তা করা হলেও, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের মতো অনেককে সেনানিবাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যশোর সেনানিবাসের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ভারতে চলে যান। ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আকবর হোসাইন তাঁকে সহায়তা করতে দেশে ফিরেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়, সরকার পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান ফলাফল ছিল জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক পুনর্বাসন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কিছু সেনানিবাসে নিষিদ্ধ জামায়াত নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে প্রশাসন ও রাজনীতিতে তাদের প্রভাব বাড়তে থাকে। সেনাবাহিনী বিচার বিভাগকে রক্ষা না করে, কেবল রাষ্ট্রপতির সুরক্ষায় মনোযোগ দিয়েছিল বলেও এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি ‘সূক্ষ্ম কৌশলের’ মাধ্যমে প্রথমে নিজেদের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল করে তুলেছিলেন শীর্ষ সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এরপর তাঁকে একটি ‘বেষ্টনীর’ মধ্যে ফেলে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘নর্থইস্ট নিউজ’-এ সাংবাদিক এনায়েত কবিরের লেখা ‘বাংলাদেশের মুখোশ উন্মোচন: পর্ব ৭’ (আনমাস্কিং বাংলাদেশ) শীর্ষক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার সুযোগ থাকলেও, সামরিক বাহিনীর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করাই ছিল শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এই ভুলের মাশুল দিয়েই তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ৫ আগস্ট বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গন্তব্য নিয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) কর্মকর্তাদের কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তবে ক্ষমতা ছাড়ার প্রায় এক ঘণ্টা আগেই হাসিনা বুঝে গিয়েছিলেন যে তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। তিনি জানতে পারেন, আর্টিলারি ডিভিশনের তৎকালীন কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার রফিকের নির্দেশে উত্তরা এলাকার প্রবেশমুখে বসানো ‘কারফিউর ব্যারিকেড’ হঠাৎ তুলে নেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় উত্তরায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্যরা মাইকে ঘোষণা করতে শুরু করেন, “কোনো কারফিউ নেই, আপনারা ঢাকার দিকে যেতে পারেন।” মূলত এই ব্যারিকেড সরানোর মধ্য দিয়েই ঢাকায় জনস্রোত ঢোকার পথ উন্মুক্ত হয় এবং সরকারের পতন নিশ্চিত হয়ে যায়। এরপর ঢাকা সেনানিবাস থেকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার ঘোষণা আসে, যা ছিল সরকার পরিবর্তনের একটি পরিষ্কার ইঙ্গিত।

নর্থইস্ট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে মূলত দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। সম্প্রতি এক বার্তায় শেখ হাসিনা নিজেও দাবি করেছেন, তিনি ভেবেছিলেন নিরাপত্তার কারণে তাঁকে টুঙ্গিপাড়ায় নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কুর্মিটোলার বাশার ঘাঁটিতে পৌঁছে তিনি বুঝতে পারেন, ক্ষমতা আর তাঁর হাতে নেই।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ৫ আগস্ট সকালেই জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ভারতের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গে কথা বলেন এবং বাংলাদেশি সামরিক বিমানের ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি নিয়ে রাখেন। দেশ ছাড়ার বিষয়ে শেখ হাসিনা অনিচ্ছুক থাকলেও, ভারতের এক শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তার সময়োচিত হস্তক্ষেপে তাঁকে এবং তাঁর বোন শেখ রেহানাকে সামরিক বিমানে করে দিল্লিতে নেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলা হয়, ৫ আগস্ট গণভবনে ভিড়ের মাধ্যমে হাসিনাকে হত্যা করে দেশে একটি ‘যুদ্ধপরিস্থিতি’ তৈরির পরিকল্পনা ছিল, যাতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের হস্তক্ষেপকে ন্যায্যতা দেওয়া যায়। কিন্তু ভারতীয় ওই কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে সে পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা রাজনৈতিকভাবে তা সমাধানের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শেখ রেহানা ও সালমান এফ রহমানের মাধ্যমে সেনাপ্রধান, ডিজিএফআই ও এনএসআই প্রধানরা হাসিনাকে ‘সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল’ হতে রাজি করান।

নর্থইস্ট নিউজ বলছে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর শেখ হাসিনাকে ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল করে তোলা হয়। তাঁর চারপাশে একটি ‘চট্টগ্রাম বলয়’ গড়ে উঠেছিল। প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি হিসেবে মোহাম্মদ কায়কোবাদ, এনএসআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসাইন আল মোর্শেদ এবং ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে মেজর জেনারেল হামিদুল হককে নিয়োগ দেওয়া হয়। সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবির আহমেদ এবং প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খানও এই বলয়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া জাতিসংঘের তৎকালীন আবাসিক প্রতিনিধি গুইন লুইস এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তিনি রামু সেনানিবাসকে স্থায়ী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ঘাঁটিতে রূপান্তর ও রাখাইন অঞ্চলে একটি সামরিক করিডোর তৈরির বিতর্কিত প্রস্তাবও দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

নর্থইস্ট নিউজের দাবি, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই থেকেই ডিজিএফআই ও এনএসআই সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নেয় এবং আন্দোলনকে সশস্ত্র সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়। ৬ জন ছাত্রনেতাকে (সমন্বয়ক) আটকে রেখে জোরপূর্বক আন্দোলন প্রত্যাহারের বিবৃতিতে স্বাক্ষর করানোর ঘটনাটি ছিল আত্মঘাতী। এটি সরকারের পতনে বড় ভূমিকা রাখে। তবে এই বুদ্ধি কে দিয়েছিল, তা জানা যায়নি।

শেখ হাসিনার আকস্মিক প্রস্থানে সরকারের অনেক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা বিপাকে পড়েন। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ অরাজক শক্তির হাতে চলে যায়। বিচারকদের জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। সামরিক বাহিনীর ‘ইচ্ছাকৃত ও বাছাই করা নিষ্ক্রিয়তা’ ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার পতনের পর আইএসপিআর বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া ৬২৭ জনের তালিকা প্রকাশ করে। তবে অনেককে নিরাপত্তা দিয়ে দেশ ছাড়তে সহায়তা করা হলেও, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের মতো অনেককে সেনানিবাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যশোর সেনানিবাসের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ভারতে চলে যান। ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আকবর হোসাইন তাঁকে সহায়তা করতে দেশে ফিরেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়, সরকার পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান ফলাফল ছিল জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক পুনর্বাসন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কিছু সেনানিবাসে নিষিদ্ধ জামায়াত নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে প্রশাসন ও রাজনীতিতে তাদের প্রভাব বাড়তে থাকে। সেনাবাহিনী বিচার বিভাগকে রক্ষা না করে, কেবল রাষ্ট্রপতির সুরক্ষায় মনোযোগ দিয়েছিল বলেও এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ