২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গুলশানে আবুজর শেখ নামের চব্বিশ বছরের একজন তরুণ গুলিবিদ্ধ হন, পরে ২৭ জুলাই মারা যান। তার মায়ের করা মামলায় পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে। কিন্তু এই চার্জশিটের আইনি ভিত্তি কতটা মজবুত, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ আছে।
চার্জশিটে পেনাল কোডের যে ধারাগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, তার মধ্যে ১১৪ ধারাটা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এই ধারায় অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে দেখাতে হবে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে প্ররোচনা দিয়েছেন। চার্জশিটেও সেই দাবি করা হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো, ২৫ জন অভিযুক্তের মধ্যে বেশিরভাগই সেদিন সন্ধ্যায় গুলশানের ওই নির্দিষ্ট জায়গায় শারীরিকভাবে উপস্থিত ছিলেন কিনা, চার্জশিটে সেই সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কতটা আছে, সেটা জানা যায়নি।
৩৪ ধারা অর্থাৎ সাধারণ উদ্দেশ্যের ধারাটাও এই মামলায় বেশ ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ধারার মাধ্যমে একটা সংগঠিত অপরাধে সবাইকে দায়ী করা যায়, কিন্তু আদালতে প্রমাণ করতে হয় যে প্রতিটি অভিযুক্ত ওই সাধারণ উদ্দেশ্যে অংশ নিয়েছিলেন। শুধু একটা রাজনৈতিক দলের নেতৃস্থানীয় পদে থাকাটা এই ধারায় দায় প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।
আন্তর্জাতিক আইনের দিক থেকে দেখলে, বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্র পরিচালনাকালীন সিদ্ধান্তের জন্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিচার হয়েছে। কিন্তু সেসব ক্ষেত্রে সাধারণত সরাসরি আদেশের প্রমাণ বা স্পষ্ট কমান্ড চেইন দেখানো হয়। শুধু পদমর্যাদার ভিত্তিতে ফৌজদারি দায় আরোপ করা আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ডে কঠিন।
তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে এন্টি টেররিজম ইউনিটের নির্বাচনটাও একটা প্রশ্ন তুলে দেয়। এটা সাধারণ হত্যা মামলা, সন্ত্রাসবাদ নয়। এই ইউনিট কেন তদন্ত করল, সেটার ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
এই মামলার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা মানে এই নয় যে ঘটনাটা ঘটেনি বা কেউ দায়ী নয়। আবুজর শেখের মৃত্যু হয়েছে এবং দায়ীদের বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু বিচার তখনই অর্থবহ হয় যখন সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। ঢালাওভাবে অনেকজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিলে বরং আসল দায়ীরা পার পেয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি এখনো হয়নি। তবে এই ভাড়াখাটা আদালতে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলবে বলে আশা করা যায় না।

