রামুর আগুন নেভেনি, নিভতে দেয় না বিএনপি-জামাত

চৌদ্দ বছর কম সময় নয়। একটা শিশু জন্ম নিয়ে কিশোর হয়ে যায়, একটা প্রজন্ম বদলে যায়। অথচ রামুর পোড়া বিহারের ছাই এখনো ঠান্ডা হয়নি, আর বিচারের ফাইল ধুলো জমে পড়ে আছে কোনো আলমারির কোণে। যাঁরা এখন ক্ষমতায়, তাঁরা আদৌ এই বিচার চান তো?

বিএনপি এখন সরকারে। জামায়াতে ইসলামী সংসদে ক্ষমতার ভাগ নিয়ে বসে আছে। দুই দলের এই জুটির সঙ্গে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের পরিচয় নতুন নয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের স্মৃতি যাঁদের মনে আছে, তাঁরা জানেন পুরো শাসনামল জুড়ে গ্রামে গ্রামে কী নেমে এসেছিল। ঘরছাড়া হিন্দু পরিবার, লুট হওয়া দোকান, রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যাওয়া মানুষ। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সেই পুরোনো চেনা ছবিটাই আবার ফিরে আসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, শুধু ক্যালেন্ডারের সালটা বদলেছে, এই যা।

রামুর ঘটনাতেই ফেরত আসি। একটা ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে রাতারাতি জড়ো হলো হাজার হাজার মানুষ। অভিযোগ ছিল ধর্ম অবমাননার, কিন্তু পরে ওঠা প্রশ্ন ছিল অন্য জায়গায়। পোস্টটা আদৌ কে করেছিল, কীভাবে করা হয়েছিল, আর সেই আগুনে কারা কারা ঘি ঢেলেছিল। স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের নাম এই আলোচনায় বারবার এসেছে। যে মামলার কথা শুনলে মনে হয় এ বিচার হবেই, সেটাই আজও ঝুলে আছে।

আর এখন তো সেই অভিযুক্তদের দলই ক্ষমতায়। যে দলের স্থানীয় নেতাদের নাম নিয়ে প্রশ্ন, সেই দল সরকার চালালে বিচারের তাড়া কার থাকবে? এখানে হিসাবটা তো খুবই সহজ। খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু বা উপজাতিদের ভোটব্যাংক বড় নয়, তাই তাদের কান্নার দাম কম। আর যাদের ভোটে জেতা যায়, তাদের চটানোর ঝুঁকি কেউ নিতে চায় না। ভোটের অঙ্কে বিচার হারিয়ে যায়, এটাই বাস্তবতা দিনশেষে।

ইসলাম অবমাননার কথা উঠলেই সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে, এই শিক্ষা কি সত্যিই ধর্মের কোনো আলেম কখনো দিয়েছেন? তাহলে এই উন্মত্ত ভিড় জোটে কীভাবে, কারা জোটায়, আর কার ইশারায় থামে? যদি কেউ আইডি হ্যাক করে বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে কটূক্তির নাটক সাজায়, তাহলে সেই নাট্যকারদের খুঁজে বের করা কার দায়িত্ব? সরকারের, নিশ্চয়ই। কিন্তু সরকার যদি ওই নাট্যকারদের ঘরের লোক হয়, তাহলে খোঁজার ইচ্ছাটা আসবে কোত্থেকে?

জন্মের পর থেকে আজকের ক্ষমতার ভাগ হাতে পাওয়ার পর জামাতে ইসলাম কি সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা নিয়ে একটা বাক্যও বলেছে যা মনে রাখার মতো? যাদের ইতিহাস নিয়েই বিতর্ক, তারা ক্ষমতার ভাগ পেয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে। আর বিএনপি তাদের থামাবে কীভাবে, যখন তাদেরই কাঁধে ভর দিয়ে চলতে হচ্ছে?

সবচেয়ে বড় তামাশা হলো, এই সরকারের মুখে সংস্কারের কথা, গণতন্ত্রের কথা, নতুন বাংলাদেশের কথা। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা এই সিনেমা আগেও দেখেছে, ক্লাইম্যাক্সও জানা আছে তাঁদের।

রামুর বিচার হয়নি। সেটা এখন আর শুধু বিচারব্যবস্থার ব্যর্থতার গল্প নয়। এটা ক্ষমতাসীনদের পছন্দ-অপছন্দের গল্প, যেখানে কিছু মানুষের জীবন আর উপাসনালয়ের মূল্য নির্ধারিত হয় ভোটের হিসাবে। তাই কেউ কাঠগড়ায় নেই। আজ যাঁরা সরকারে, তাঁদের কাছে এই নীরবতার জবাব চাওয়ার অধিকার সবারই আছে।

চৌদ্দ বছর কম সময় নয়। একটা শিশু জন্ম নিয়ে কিশোর হয়ে যায়, একটা প্রজন্ম বদলে যায়। অথচ রামুর পোড়া বিহারের ছাই এখনো ঠান্ডা হয়নি, আর বিচারের ফাইল ধুলো জমে পড়ে আছে কোনো আলমারির কোণে। যাঁরা এখন ক্ষমতায়, তাঁরা আদৌ এই বিচার চান তো?

বিএনপি এখন সরকারে। জামায়াতে ইসলামী সংসদে ক্ষমতার ভাগ নিয়ে বসে আছে। দুই দলের এই জুটির সঙ্গে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের পরিচয় নতুন নয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের স্মৃতি যাঁদের মনে আছে, তাঁরা জানেন পুরো শাসনামল জুড়ে গ্রামে গ্রামে কী নেমে এসেছিল। ঘরছাড়া হিন্দু পরিবার, লুট হওয়া দোকান, রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যাওয়া মানুষ। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সেই পুরোনো চেনা ছবিটাই আবার ফিরে আসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, শুধু ক্যালেন্ডারের সালটা বদলেছে, এই যা।

রামুর ঘটনাতেই ফেরত আসি। একটা ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে রাতারাতি জড়ো হলো হাজার হাজার মানুষ। অভিযোগ ছিল ধর্ম অবমাননার, কিন্তু পরে ওঠা প্রশ্ন ছিল অন্য জায়গায়। পোস্টটা আদৌ কে করেছিল, কীভাবে করা হয়েছিল, আর সেই আগুনে কারা কারা ঘি ঢেলেছিল। স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের নাম এই আলোচনায় বারবার এসেছে। যে মামলার কথা শুনলে মনে হয় এ বিচার হবেই, সেটাই আজও ঝুলে আছে।

আর এখন তো সেই অভিযুক্তদের দলই ক্ষমতায়। যে দলের স্থানীয় নেতাদের নাম নিয়ে প্রশ্ন, সেই দল সরকার চালালে বিচারের তাড়া কার থাকবে? এখানে হিসাবটা তো খুবই সহজ। খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু বা উপজাতিদের ভোটব্যাংক বড় নয়, তাই তাদের কান্নার দাম কম। আর যাদের ভোটে জেতা যায়, তাদের চটানোর ঝুঁকি কেউ নিতে চায় না। ভোটের অঙ্কে বিচার হারিয়ে যায়, এটাই বাস্তবতা দিনশেষে।

ইসলাম অবমাননার কথা উঠলেই সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে, এই শিক্ষা কি সত্যিই ধর্মের কোনো আলেম কখনো দিয়েছেন? তাহলে এই উন্মত্ত ভিড় জোটে কীভাবে, কারা জোটায়, আর কার ইশারায় থামে? যদি কেউ আইডি হ্যাক করে বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে কটূক্তির নাটক সাজায়, তাহলে সেই নাট্যকারদের খুঁজে বের করা কার দায়িত্ব? সরকারের, নিশ্চয়ই। কিন্তু সরকার যদি ওই নাট্যকারদের ঘরের লোক হয়, তাহলে খোঁজার ইচ্ছাটা আসবে কোত্থেকে?

জন্মের পর থেকে আজকের ক্ষমতার ভাগ হাতে পাওয়ার পর জামাতে ইসলাম কি সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা নিয়ে একটা বাক্যও বলেছে যা মনে রাখার মতো? যাদের ইতিহাস নিয়েই বিতর্ক, তারা ক্ষমতার ভাগ পেয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে। আর বিএনপি তাদের থামাবে কীভাবে, যখন তাদেরই কাঁধে ভর দিয়ে চলতে হচ্ছে?

সবচেয়ে বড় তামাশা হলো, এই সরকারের মুখে সংস্কারের কথা, গণতন্ত্রের কথা, নতুন বাংলাদেশের কথা। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা এই সিনেমা আগেও দেখেছে, ক্লাইম্যাক্সও জানা আছে তাঁদের।

রামুর বিচার হয়নি। সেটা এখন আর শুধু বিচারব্যবস্থার ব্যর্থতার গল্প নয়। এটা ক্ষমতাসীনদের পছন্দ-অপছন্দের গল্প, যেখানে কিছু মানুষের জীবন আর উপাসনালয়ের মূল্য নির্ধারিত হয় ভোটের হিসাবে। তাই কেউ কাঠগড়ায় নেই। আজ যাঁরা সরকারে, তাঁদের কাছে এই নীরবতার জবাব চাওয়ার অধিকার সবারই আছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ