খুলনা জেলার একাধিক থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা ও নৈশকালীন ডিউটি পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের ওপর ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলা ও আক্রমণের প্রেক্ষিতে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাতে একা একা চলাচল না করার নির্দেশ দিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে খুলনা জেলা বিশেষ শাখা (ডিএসবি)। খুলনা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পুলিশ সুপারের স্বাক্ষর সংবলিত একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্মারকপত্রে (স্মারক নম্বর: ৫০৬২/১, তারিখ: ০৯/১০/২০২৬) রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ কর্মকর্তাদের একাকী চলাচল না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশের প্রধান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন ‘আত্মরক্ষামূলক’ নির্দেশ জারির পর সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মতে, জনগণের রক্ষক পুলিশ যদি নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই রাতে একা বের হতে না পারে, তবে সাধারণ নাগরিকদের জানমালের সুরক্ষার দায়িত্ব কে নেবে? সম্প্রতি খুলনায় ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তার ওপর চাপাতি দিয়ে হামলা চালিয়ে মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটণাসহ সারাদেশে চুরি, ডাকাতি, দিনদুপুরে ছিনতাই ও অন্যান্য সহিংস অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবক্ষয় ঘটেছে বলে মনে করছেন সুশীল সমাজ ও বিশ্লেষকরা। পুলিশ বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়া এবং মাঠপর্যায়ে তাদের মনোবল ফিরিয়ে আনতে না পারার পেছনে সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চরম অদক্ষতা ও ব্যর্থতাকে দায়ী করা হচ্ছে।
সমালোচকদের মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের অদূরদর্শিতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর বার্তা বা দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে অপরাধী চক্র, চাঁদাবাজ বাহিনী ও স্থানভিত্তিক সন্ত্রাসীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নে কার্যকর উদ্যোগের অভাবে আজ দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে চলেছে। পুলিশের এই আত্মরক্ষামূলক অবস্থান মাঠপর্যায়ে অপরাধীদের সাহস আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনতিবিলম্বে কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

