বিএনপি নেতাদের অনৈতিক আবদার না মানলেই ‘দোসর’ ট্যাগ, কোণঠাসা ইউএনওরা

মাঠ প্রশাসনে তৈরি হয়েছে তীব্র অস্থিরতা, ক্ষোভ ও গভীর অসন্তোষ। স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীদের অন্যায্য রাজনৈতিক চাপ, অনৈতিক তদবির এবং অব্যাহত হুমকি-ধমকির মুখে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না মাঠ প্রশাসনের প্রধান চালিকাশক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।

প্রশাসনিক সূত্রগুলোর তথ্য মতে, আইনকানুন মেনে কাজ করতে চাওয়া এবং রাজনৈতিক অসংগত সুপারিশ না মানলেই সরকারি কর্মকর্তাদের ঢালাওভাবে ‘আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে হেনস্থা ও বদলির ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমন এক অস্থির পটভূমিতে মাঠ প্রশাসনের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের অনাস্থার চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সাম্প্রতিক নজিরবিহীন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে, যার অধীনে কেন্দ্র থেকে উচ্চপর্যায়ের ‘বিশেষ পরিবীক্ষণ দল’ গঠন করে প্রতিটি জেলায় অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরাসরি নজরদারিতে পাঠানো হয়েছে।

​বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, বর্তমানে মাঠ প্রশাসনে দৈনন্দিন সরকারি কার্যাবলি ও সেবা নিশ্চিত করাই চরম কঠিন হয়ে পড়েছে। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় রাজস্ব খাতের ইজারা, সরকারি ভূমি ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ এবং স্থানান্তরিত কার্যালয়ের কর্মীদের বদলি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সুবিধাভোগী চক্রের ক্রমাগত অনৈতিক তদবির ও হুমকি চলছে। এর মুখোমুখি হয়ে চরম কোণঠাসা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। কোনো কর্মকর্তা নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে চাইলে বা অন্যায্য দাবি প্রত্যাখ্যান করলেই তাকে ‘আওয়ামী সরকারের দোসর’ হিসেবে চিহ্নিত করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, এমনকি উর্ধ্বতন মহলে নালিশ করে তাৎক্ষণিক বদলি বা অপসারণের ভয় দেখানো হচ্ছে। ফলে কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজ করছে চরম অনিশ্চয়তা ও চাকরিগত ভীতি, যা থমকে দিচ্ছে সরকারি সেবা প্রদানের স্বাভাবিক গতি।

​মাঠ পর্যায়ের এই স্থবিরতা ও অসন্তোষের মধ্যে কেন্দ্র থেকে সরাসরি নজরদারি জোরদার করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে গঠন করা হয়েছে ‘বিশেষ পরিবীক্ষণ দল’। প্রতিটি জেলার প্রশাসনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে অভিজ্ঞ যৌথ তদারকি দল গঠন করে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা, যাদের সরকারি নথিতে বিএনপি নেতা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের সহযোগী হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে বিএনপি ক্যাডার আখ্যা পাওয়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উপসচিব এবং সিনিয়র সহকারী সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের।

​প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঢাকা থেকে শুরু করে পাহাড় কিংবা উপকূলীয় সীমান্ত এলাকা—সবখানেই জোরদার করা হয়েছে এই প্রশাসনিক তদারকি। ঢাকা জেলার পাঁচটি উপজেলার সার্বিক কার্যক্রম পরিবীক্ষণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব ড. শাহেদ মোস্তফা, আর তাঁকে সহায়তা করছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব সোহেল আহমেদ ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মিজাবুর রহমত। ১৫টি উপজেলা পরিবেষ্টিত চট্টগ্রাম জেলায় নজরদারির মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলামকে, যার টিমে যুক্ত আছেন রাষ্ট্রপতি কার্যালয়, পরিকল্পনা বিভাগ, ভূমি মন্ত্রণালয় ও আইসিটি বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা। একইভাবে কুমিল্লার ১৭টি উপজেলায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব খন্দকার নুরুল হক, সীমান্তঘেঁষা কক্সবাজারের ৯টি উপজেলায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন এবং কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব আহমেদ জামিল মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম নজরদারির ভার পেয়েছেন।

​নজরদারির এই প্রশাসনিক কড়াকড়ি ছড়িয়ে আছে শিল্প ও কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলোতেও। টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব ফাতেমা তুল জোহরাত এবং শিল্পভিত্তিক গাজীপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব মিজ শাহানারা বেগমকে তদারকির শীর্ষে রাখা হয়েছে। ফেনীর ছয়টি উপজেলায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নজরুল ও পার্বত্য খাগড়াছড়ির নয়টি উপজেলায় দায়িত্ব পেয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব কাঞ্চন চাকমা। একই ধারায় ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, বান্দরবান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও রাঙামাটিসহ দেশের প্রতিটি জেলাতেই প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে কড়া নজর রাখতে পাঠানো হয়েছে এসব বিশেষ টিম।

​প্রশাসনিক অভিজ্ঞ ও সাবেক আমলাদের মতে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয় থেকে যুগ্মসচিব ও উপসচিবদের এভাবে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত তদারকিতে পাঠানোর ঘটনা দেশের মাঠ প্রশাসনের প্রতি কেন্দ্রের গভীর অনাস্থা এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলারই স্পষ্ট প্রকাশ। প্রথাগতভাবে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) অধীনেই মাঠ প্রশাসনের তদারকি কাঠামো বিদ্যমান থাকে। তবে সেই কাঠামোর ওপর সরাসরি কেন্দ্র থেকে বিশেষ পর্যবেক্ষণ টিম বসানোর ফলে বিদ্যমান ‘চেইন অব কমান্ড’ বা প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাঠের সরকারি কর্মকর্তারা একদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের অন্যায্য চাপ এবং অন্যদিকে ওপর থেকে আসা বিশেষ নজরদারি দলের চোখ—এই দ্বিমুখী আতঙ্কে পড়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সাহস পাচ্ছেন না।

​এই সার্বিক অনাস্থা ও অস্থিরতার সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে উপজেলার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা পাওয়ার ওপর। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, মাঠ প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখা, স্বাধীন কর্মপরিবেশ ক্ষুণ্ণ করা এবং কর্মকর্তাদের প্রতি অবিশ্বাসের সংস্কৃতি চলমান থাকলে দেশের সামগ্রিক শাসনব্যবস্থা ধসে পড়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হবে। পেশাদার আমলাতন্ত্রকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে না দিয়ে কেবল কেন্দ্র থেকে নজরদারি অফিসার পাঠিয়ে এই প্রশাসনিক ক্ষোভ ও সংকট সমাধান করা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।

মাঠ প্রশাসনে তৈরি হয়েছে তীব্র অস্থিরতা, ক্ষোভ ও গভীর অসন্তোষ। স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীদের অন্যায্য রাজনৈতিক চাপ, অনৈতিক তদবির এবং অব্যাহত হুমকি-ধমকির মুখে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না মাঠ প্রশাসনের প্রধান চালিকাশক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।

প্রশাসনিক সূত্রগুলোর তথ্য মতে, আইনকানুন মেনে কাজ করতে চাওয়া এবং রাজনৈতিক অসংগত সুপারিশ না মানলেই সরকারি কর্মকর্তাদের ঢালাওভাবে ‘আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে হেনস্থা ও বদলির ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমন এক অস্থির পটভূমিতে মাঠ প্রশাসনের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের অনাস্থার চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সাম্প্রতিক নজিরবিহীন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে, যার অধীনে কেন্দ্র থেকে উচ্চপর্যায়ের ‘বিশেষ পরিবীক্ষণ দল’ গঠন করে প্রতিটি জেলায় অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরাসরি নজরদারিতে পাঠানো হয়েছে।

​বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, বর্তমানে মাঠ প্রশাসনে দৈনন্দিন সরকারি কার্যাবলি ও সেবা নিশ্চিত করাই চরম কঠিন হয়ে পড়েছে। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় রাজস্ব খাতের ইজারা, সরকারি ভূমি ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ এবং স্থানান্তরিত কার্যালয়ের কর্মীদের বদলি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সুবিধাভোগী চক্রের ক্রমাগত অনৈতিক তদবির ও হুমকি চলছে। এর মুখোমুখি হয়ে চরম কোণঠাসা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। কোনো কর্মকর্তা নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে চাইলে বা অন্যায্য দাবি প্রত্যাখ্যান করলেই তাকে ‘আওয়ামী সরকারের দোসর’ হিসেবে চিহ্নিত করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, এমনকি উর্ধ্বতন মহলে নালিশ করে তাৎক্ষণিক বদলি বা অপসারণের ভয় দেখানো হচ্ছে। ফলে কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজ করছে চরম অনিশ্চয়তা ও চাকরিগত ভীতি, যা থমকে দিচ্ছে সরকারি সেবা প্রদানের স্বাভাবিক গতি।

​মাঠ পর্যায়ের এই স্থবিরতা ও অসন্তোষের মধ্যে কেন্দ্র থেকে সরাসরি নজরদারি জোরদার করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে গঠন করা হয়েছে ‘বিশেষ পরিবীক্ষণ দল’। প্রতিটি জেলার প্রশাসনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে অভিজ্ঞ যৌথ তদারকি দল গঠন করে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা, যাদের সরকারি নথিতে বিএনপি নেতা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের সহযোগী হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে বিএনপি ক্যাডার আখ্যা পাওয়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উপসচিব এবং সিনিয়র সহকারী সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের।

​প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঢাকা থেকে শুরু করে পাহাড় কিংবা উপকূলীয় সীমান্ত এলাকা—সবখানেই জোরদার করা হয়েছে এই প্রশাসনিক তদারকি। ঢাকা জেলার পাঁচটি উপজেলার সার্বিক কার্যক্রম পরিবীক্ষণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব ড. শাহেদ মোস্তফা, আর তাঁকে সহায়তা করছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব সোহেল আহমেদ ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মিজাবুর রহমত। ১৫টি উপজেলা পরিবেষ্টিত চট্টগ্রাম জেলায় নজরদারির মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলামকে, যার টিমে যুক্ত আছেন রাষ্ট্রপতি কার্যালয়, পরিকল্পনা বিভাগ, ভূমি মন্ত্রণালয় ও আইসিটি বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা। একইভাবে কুমিল্লার ১৭টি উপজেলায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব খন্দকার নুরুল হক, সীমান্তঘেঁষা কক্সবাজারের ৯টি উপজেলায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন এবং কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব আহমেদ জামিল মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম নজরদারির ভার পেয়েছেন।

​নজরদারির এই প্রশাসনিক কড়াকড়ি ছড়িয়ে আছে শিল্প ও কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলোতেও। টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব ফাতেমা তুল জোহরাত এবং শিল্পভিত্তিক গাজীপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব মিজ শাহানারা বেগমকে তদারকির শীর্ষে রাখা হয়েছে। ফেনীর ছয়টি উপজেলায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নজরুল ও পার্বত্য খাগড়াছড়ির নয়টি উপজেলায় দায়িত্ব পেয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব কাঞ্চন চাকমা। একই ধারায় ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, বান্দরবান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও রাঙামাটিসহ দেশের প্রতিটি জেলাতেই প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে কড়া নজর রাখতে পাঠানো হয়েছে এসব বিশেষ টিম।

​প্রশাসনিক অভিজ্ঞ ও সাবেক আমলাদের মতে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয় থেকে যুগ্মসচিব ও উপসচিবদের এভাবে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত তদারকিতে পাঠানোর ঘটনা দেশের মাঠ প্রশাসনের প্রতি কেন্দ্রের গভীর অনাস্থা এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলারই স্পষ্ট প্রকাশ। প্রথাগতভাবে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) অধীনেই মাঠ প্রশাসনের তদারকি কাঠামো বিদ্যমান থাকে। তবে সেই কাঠামোর ওপর সরাসরি কেন্দ্র থেকে বিশেষ পর্যবেক্ষণ টিম বসানোর ফলে বিদ্যমান ‘চেইন অব কমান্ড’ বা প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাঠের সরকারি কর্মকর্তারা একদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের অন্যায্য চাপ এবং অন্যদিকে ওপর থেকে আসা বিশেষ নজরদারি দলের চোখ—এই দ্বিমুখী আতঙ্কে পড়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সাহস পাচ্ছেন না।

​এই সার্বিক অনাস্থা ও অস্থিরতার সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে উপজেলার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা পাওয়ার ওপর। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, মাঠ প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখা, স্বাধীন কর্মপরিবেশ ক্ষুণ্ণ করা এবং কর্মকর্তাদের প্রতি অবিশ্বাসের সংস্কৃতি চলমান থাকলে দেশের সামগ্রিক শাসনব্যবস্থা ধসে পড়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হবে। পেশাদার আমলাতন্ত্রকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে না দিয়ে কেবল কেন্দ্র থেকে নজরদারি অফিসার পাঠিয়ে এই প্রশাসনিক ক্ষোভ ও সংকট সমাধান করা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ