চাচার নকশা, ভাতিজার বাস্তবায়ন: ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তির আড়ালে দেশ বেচাকেনার ষড়যন্ত্রে বিএনপি

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শুরু হওয়া একের পর এক বিতর্কিত সমঝোতা ও অসম চুক্তি বাস্তবায়নে যেন অন্ধের মতো পথ হাঁটছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। দেশের অর্থনৈতিক কল্যাণ ও জাতীয় প্রবৃদ্ধিকে তোয়াক্কা না করে পূর্বসূরি ড. ইউনূসের অর্থনৈতিক রূপরেখা ও নীতিগুলো বাস্তবায়নেই ব্যস্ত বর্তমান শাসকগোষ্ঠী। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বাধিক লাভজনক ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ‘নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল’ (এনসিটি) আগামী ১৫ বছরের জন্য দুবাইভিত্তিক বিদেশি প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’ (DP World)-এর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে এই আত্মঘাতী চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন ক্ষোভ ও তীব্র জনঅসন্তোষ। দেশের রাজস্ব ও জাতীয় স্বার্থ চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করে ভীতিজনক ও অসম শর্তে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে জাতীয় সম্পদ তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে রাজপথে নেমেছেন সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মচারীরা।

​ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে কার্যক্রম শুরু করা এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান চারটি কনটেইনার হ্যান্ডলিং স্থাপনার মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক ও সংবেদনশীল। এটি একাই পুরো চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪৪% সম্পন্ন করে থাকে। ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে সম্পূর্ণ দেশীয় সক্ষমতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পরিচালনাধীন প্রতিষ্ঠান ‘চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড’ টার্মিনালটি অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সাথে পরিচালনা করে আসছিল। তবে নতুন চুক্তির গাণিতিক অংক ও লভ্যাংশের আর্থিক হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেশের অর্থনীতি ধসে পড়ার এক নজিরবিহীন ও ধ্বংসাত্মক চিত্র সামনে আসে, যা স্পষ্ট করে কীভাবে বাংলাদেশকে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ​চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১৫ বছরের দীর্ঘ মেয়াদে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ১৫ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে, যা বাৎসরিক হিসাবে দাঁড়ায় গড়ে মাত্র ১২২ কোটি টাকা।

অথচ সরকারি তথ্য ও সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালেই দেশীয় ব্যবস্থাপনায় এনসিটি থেকে মোট আয় হয়েছিল প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যার মধ্যে নিট মুনাফাগোত্রীয় আয়ই ছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই ধারা বজায় থাকলে আগামী ১৫ বছরে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এনসিটি থেকে বাংলাদেশের অর্জিত নিট মুনাফা দাঁড়াত প্রায় ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। অথচ মাত্র ১ হাজার ৮৩০ কোটি টাকার নামমাত্র ‘বিনিয়োগের’ অজুহাত দেখিয়ে এই বিপুল আয়ের প্রধান উৎসটি তুলে দেওয়া হলো বিদেশি ডিপি ওয়ার্ল্ডের পাতে।

​গাণিতিক হিসাবটি আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ডিপি ওয়ার্ল্ড যে ১ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হিসেবে দেখাচ্ছে, এনসিটির বর্তমান মুনাফার ধারা অনুযায়ী চুক্তির প্রথম ৯ মাসের অর্জিত লাভ দিয়েই তাদের সম্পূর্ণ মূলধন উঠে আসবে। যার অর্থ দাঁড়ায়—প্রথম বছরের মধ্যে মূলধন উসুল করে নেওয়ার পর পরবর্তী সাড়ে ১৪ বছর ধরে টার্মিনালটি থেকে প্রাপ্ত আনুমানিক ৩৫ হাজার কোটি থেকে ৪৩ হাজার কোটি টাকার খাঁটি মুনাফার সিংহভাগই দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেখানে নিজস্ব দক্ষতায় একটি সরকারি স্থাপনা বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা নিট রাজস্ব দিচ্ছিল, সেখানে নামমাত্র অংকের বিনিময়ে তা বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া বাংলাদেশকে পরিকল্পিতভাবে দেউলিয়া ও পঙ্গু করারই সামিল। অভিযোগ উঠেছে, জনস্বার্থ দূরে ঠেলে কেবল উচ্চপর্যায়ের কমিশন ও ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ আদান-প্রদানের স্বার্থ মেলাতেই এই দাসত্বমূলক চুক্তি তড়িঘড়ি করে সম্পাদন করা হয়েছে।

এদিকে​ বৃহস্পতিবার ঢাকায় চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই চরম বিক্ষোভে ফেটে পড়েন চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বস্তরের শ্রমিক ও কর্মকর্তারা। চুক্তিকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী ও অসম আখ্যা দিয়ে তারা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের মূল ফটকের সামনে ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানার নিয়ে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে শ্রমিক নেতারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার সাথে জড়িত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম বন্দরকে কোনো অপশক্তির কাছে বিলিয়ে দেওয়া হবে না। শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই অসম চুক্তি বাতিলের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে; অন্যথায় বন্দর অচল করে দেওয়ার মতো সর্বাত্মক আন্দোলনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগ ও শ্রমিকদের তীব্র প্রতিবাদের পরও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া বা চুক্তি পুনর্বিবেচনার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, যা পুরো দেশকে এক দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে ফেলে দিল।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শুরু হওয়া একের পর এক বিতর্কিত সমঝোতা ও অসম চুক্তি বাস্তবায়নে যেন অন্ধের মতো পথ হাঁটছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। দেশের অর্থনৈতিক কল্যাণ ও জাতীয় প্রবৃদ্ধিকে তোয়াক্কা না করে পূর্বসূরি ড. ইউনূসের অর্থনৈতিক রূপরেখা ও নীতিগুলো বাস্তবায়নেই ব্যস্ত বর্তমান শাসকগোষ্ঠী। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বাধিক লাভজনক ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ‘নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল’ (এনসিটি) আগামী ১৫ বছরের জন্য দুবাইভিত্তিক বিদেশি প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’ (DP World)-এর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে এই আত্মঘাতী চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন ক্ষোভ ও তীব্র জনঅসন্তোষ। দেশের রাজস্ব ও জাতীয় স্বার্থ চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করে ভীতিজনক ও অসম শর্তে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে জাতীয় সম্পদ তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে রাজপথে নেমেছেন সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মচারীরা।

​ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে কার্যক্রম শুরু করা এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান চারটি কনটেইনার হ্যান্ডলিং স্থাপনার মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক ও সংবেদনশীল। এটি একাই পুরো চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪৪% সম্পন্ন করে থাকে। ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে সম্পূর্ণ দেশীয় সক্ষমতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পরিচালনাধীন প্রতিষ্ঠান ‘চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড’ টার্মিনালটি অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সাথে পরিচালনা করে আসছিল। তবে নতুন চুক্তির গাণিতিক অংক ও লভ্যাংশের আর্থিক হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেশের অর্থনীতি ধসে পড়ার এক নজিরবিহীন ও ধ্বংসাত্মক চিত্র সামনে আসে, যা স্পষ্ট করে কীভাবে বাংলাদেশকে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ​চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১৫ বছরের দীর্ঘ মেয়াদে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ১৫ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে, যা বাৎসরিক হিসাবে দাঁড়ায় গড়ে মাত্র ১২২ কোটি টাকা।

অথচ সরকারি তথ্য ও সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালেই দেশীয় ব্যবস্থাপনায় এনসিটি থেকে মোট আয় হয়েছিল প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যার মধ্যে নিট মুনাফাগোত্রীয় আয়ই ছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই ধারা বজায় থাকলে আগামী ১৫ বছরে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এনসিটি থেকে বাংলাদেশের অর্জিত নিট মুনাফা দাঁড়াত প্রায় ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। অথচ মাত্র ১ হাজার ৮৩০ কোটি টাকার নামমাত্র ‘বিনিয়োগের’ অজুহাত দেখিয়ে এই বিপুল আয়ের প্রধান উৎসটি তুলে দেওয়া হলো বিদেশি ডিপি ওয়ার্ল্ডের পাতে।

​গাণিতিক হিসাবটি আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ডিপি ওয়ার্ল্ড যে ১ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হিসেবে দেখাচ্ছে, এনসিটির বর্তমান মুনাফার ধারা অনুযায়ী চুক্তির প্রথম ৯ মাসের অর্জিত লাভ দিয়েই তাদের সম্পূর্ণ মূলধন উঠে আসবে। যার অর্থ দাঁড়ায়—প্রথম বছরের মধ্যে মূলধন উসুল করে নেওয়ার পর পরবর্তী সাড়ে ১৪ বছর ধরে টার্মিনালটি থেকে প্রাপ্ত আনুমানিক ৩৫ হাজার কোটি থেকে ৪৩ হাজার কোটি টাকার খাঁটি মুনাফার সিংহভাগই দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেখানে নিজস্ব দক্ষতায় একটি সরকারি স্থাপনা বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা নিট রাজস্ব দিচ্ছিল, সেখানে নামমাত্র অংকের বিনিময়ে তা বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া বাংলাদেশকে পরিকল্পিতভাবে দেউলিয়া ও পঙ্গু করারই সামিল। অভিযোগ উঠেছে, জনস্বার্থ দূরে ঠেলে কেবল উচ্চপর্যায়ের কমিশন ও ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ আদান-প্রদানের স্বার্থ মেলাতেই এই দাসত্বমূলক চুক্তি তড়িঘড়ি করে সম্পাদন করা হয়েছে।

এদিকে​ বৃহস্পতিবার ঢাকায় চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই চরম বিক্ষোভে ফেটে পড়েন চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বস্তরের শ্রমিক ও কর্মকর্তারা। চুক্তিকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী ও অসম আখ্যা দিয়ে তারা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের মূল ফটকের সামনে ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানার নিয়ে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে শ্রমিক নেতারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার সাথে জড়িত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম বন্দরকে কোনো অপশক্তির কাছে বিলিয়ে দেওয়া হবে না। শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই অসম চুক্তি বাতিলের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে; অন্যথায় বন্দর অচল করে দেওয়ার মতো সর্বাত্মক আন্দোলনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগ ও শ্রমিকদের তীব্র প্রতিবাদের পরও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া বা চুক্তি পুনর্বিবেচনার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, যা পুরো দেশকে এক দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে ফেলে দিল।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ