সরকার পতন ষড়যন্ত্রকে রাষ্ট্রের সচেতন নাগরিক সমাজ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে এটাই তো স্বাভাবিক। ৫ আগস্ট পরবর্তী আজকের অন্ধকার বাংলাদেশ বিবেচনা করলে ষড়যন্ত্র বিরোধীদের অবস্থানকে যথার্থ বলেই মনে হয়। দখলদার দুই সরকারকেই দেশবিক্রির শপথ নিতে দেখেছে জনগণ। যারা দেশপ্রেমিক তাঁরা কখনোই বাংলাদেশের শত্রুকে চিনতে ভুল করে না এবং তাঁরা কখনোই আদর্শ বিক্রি করবেনা।
অধ্যাপক জিনাত হুদা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, তাঁকে কথিত ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ নামক দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি ছিলেন রোকেয়া হলের সাবেক প্রাধ্যক্ষ, সমাজবিজ্ঞানের চেয়ারম্যান, ঢাবি সিনেটের নির্বাচিত সদস্য এবং নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক৷ জুলাই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হলে তাঁকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্রদল ও শিবিরের সৃষ্ট মবের দাবিতে স্বৈরাচার বিএনপির অনুগত বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের হাতে সাময়িক বরখাস্তের নামে আরও লাঞ্চনার শিকার হয়েছেন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিম, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক আফরোজা শেলী, লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়াকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জুলাই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা লাভলু মোল্লা শিশিরকেও (মুহাম্মদ লাভলু মোল্লা) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।
‘জুলাই অভ্যুত্থান’ জাতি সাথে ঘৃণ্য এক প্রতারণার নাম। মেধাকে প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে ক্ষমতা দখল করার পর জাতিকেই মেধাশূণ্য করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। জনগণের কাছে ‘জুলাই চেতনা’ মানেই মব, শিক্ষকদের গায়ে হাত, অপমান, হয়রানি।
অথচ, ২০২৪ সালে জঙ্গীদের সাথে সহাবস্থান করে বিভিন্ন গুজব ও উস্কানীমূলক বক্তব্য প্রদানের পরেও বিএনপির নেতৃত্বাধীন বা বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন “সাদা দল”-এর কোনো শিক্ষককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকার কর্তৃক গ্রেফতার বা বরখাস্ত করা হয়নি। আজ বিএনপি পন্থী সাদা দল নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক জিনাত হুদাকে গ্রেফতারের নির্লজ্জ দাবি করছেন— এটাই খুনিদের আদর্শ, একেই বলে ফ্যাসিজম।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আন্দোলন-সংগ্রামে বিশ্বাসী একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগ সরকার কখনো গণতন্ত্রকে হত্যা করে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন চালায়নি। কিন্তু ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করেই খুনি জিয়ার স্বৈরাচার বিএনপি সরকার খুবই ভয়ানকরুপে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। ভিন্নমত দমনের যে নিকৃষ্ট সংস্কৃতি স্বৈরাচার বিএনপি সরকার শুরু করেছে, এই ঘৃণ্য ইতিহাস বাংলাদেশের জনগণ ভুলবে না।

