২০টা যুদ্ধবিমান আর ২৫টা বোয়িং কেনার ঘোষণা শুনে প্রথমে মনে হতে পারে, দেশ নিশ্চয়ই অনেক বড় কোনো নিরাপত্তা বা বাণিজ্যিক সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু বাস্তবতা এর উল্টো। রিজার্ভ সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে গেছে, ব্যাংক খাতে প্রবল তারল্য সংকট, রপ্তানি আয়ে ব্যাপক ভাটা, প্রবাসী আয়েও টান, বিশাল জ্বালানী সংকট চলমান। এই অবস্থায় হাজার হাজার কোটি টাকার বিমান কেনার সিদ্ধান্তটা কার স্বার্থে, সেটা এখন প্রকাশ্য দিবালোকের মতো সবার চোখের সামনেই বিরাজমান।
আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করতে বোয়িং কেনা। তুরস্কের সঙ্গে বন্ধুত্ব দেখাতে ড্রোন আনা। পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্য বাড়াতে ব্যাপক আকারে সামরিক সরঞ্জাম কেনায় জোর। অথচ দেশের মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান সব পড়ে আছে ধুঁকে ধুঁকে। বিদেশি কূটনীতিকদের হাসি ফোটাতে গিয়ে দেশের অর্থনীতিকে দেউলিয়ার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, এটা আর চোখ বন্ধ করে এড়ানো যায় না।
২০০১ থেকে ২০০৬ সালে দুর্নীতির যে সংস্কৃতি দেখা গিয়েছিল, তার ছাপ এখনো মানুষের মনে তাজা। সেই সময়ের চেনা ছবি আবার ফিরে এসেছে কি না, প্রশ্ন উঠছে প্রতিটি বড় চুক্তিতে। তখনো বিদেশি স্বার্থ দেখভাল করতে গিয়ে দেশীয় সম্পদ বিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখনো কি সেই একই পথে হাঁটছে সরকার? বিমান কেনার নামে কমিশন, মধ্যস্বত্বভোগী আর দালাল চক্রের পকেট ভরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জনমনে তীব্র সন্দেহ।
সরকার বলছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। কিন্তু এই কেনাকাটার কোনো স্বচ্ছ ব্যাখ্যা নেই। কোন যুক্তিতে এত বড় অঙ্কের চুক্তি হলো, এর রিটার্ন আসবে কোথা থেকে, ঋণের বোঝা শোধ করবে কে, এসব প্রশ্নের উত্তর কেউ দিচ্ছে না। জনগণের টাকায় কেনা হচ্ছে, অথচ জনগণকেই অন্ধকারে রাখা হয়েছে। এটা তো আর শুধু ভুল নীতি না, এটা সরাসরি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।
যে সরকার দেশের মানুষের পেটের ভাতের চেয়ে বিদেশি কোম্পানির লাভের হিসাব আগে রাখে, তাদের মুখে ‘দেশ আগে’ শুনতে হাস্যকর লাগে। বিমান কিনে আকাশে শক্তি দেখানোর আগে মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের কথা ভাবা দরকার ছিল।

