যে অঙ্কে ত্রিশ লাখ শহীদ উধাও, সেই অঙ্কের কারিগর জামাতি কোটার এমপি মারদিয়া মমতাজ

মারদিয়া মমতাজকে কোনো দিন ইতিহাসের ক্লাসরুমে দাঁড় করালে তিনি পাস করতেন কি না সন্দেহ আছে। কিন্তু তিনি বসে আছেন জাতীয় সংসদে। এটাই বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা। জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের এই এমপি সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে তিনগুণ বেশি মানুষ মারা গেছে। তিনি কোনো সংখ্যা বলেননি। কিন্তু এই বক্তব্যের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিতে ত্রিশ লাখ। এটা কোনো আবেগের সংখ্যা না, এটা জাতির রক্তে লেখা ইতিহাস। মারদিয়া মমতাজ যদি সত্যিই মনে করেন ৭৪ এর দুর্ভিক্ষে মুক্তিযুদ্ধের তিনগুণ মানুষ মারা গেছে, তাহলে তার হিসাবে দুর্ভিক্ষে মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়ায় অন্তত নব্বই লাখ। অথচ ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ নিয়ে যত গবেষণা আছে, যত আন্তর্জাতিক রিপোর্ট আছে, কোনো জায়গাতেই এই সংখ্যা পনেরো লাখের বেশি বলা নেই। তাহলে মারদিয়ার সূত্র ধরে উল্টো হিসাব করলে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা দাঁড়ায় দুই থেকে পাঁচ লাখের মধ্যে। এটাই তার আসল লক্ষ্য। সরাসরি বলতে পারেন না বলে তিনি অঙ্কের মারপ্যাঁচে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা কমাতে চেয়েছেন। এটা কোনো নিরীহ মন্তব্য না, এটা পরিকল্পিত ইতিহাস বিকৃতি।

মারদিয়া মমতাজ পেশায় প্রকৌশলী। গণিত তার রক্তে। তিনি ভালো করেই জানেন তিনগুণ শব্দটা ব্যবহার করলে শ্রোতার মনে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে। তিনি এটাও জানেন ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সঠিক মৃত্যু সংখ্যা ঐতিহাসিকভাবে এখনো বিতর্কিত, পক্ষান্তরে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ সংখ্যা রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত। কাজেই দুটো ঘটনাকে তুলনা করার অর্থই হলো শহীদের সংখ্যাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। একজন প্রকৌশলী এই সহজ হিসাব বুঝবেন না, এটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। বরং উনি বুঝেই বলেছেন, আর সেটাই তার জামায়াতি চরিত্রের প্রমাণ।

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল। ১৯৭১ সালে এই দল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এদেশের মানুষ হত্যা করেছে। রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী গঠন করে তারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে। সেই দল আজ সংসদে বসে আছে। শুধু বসে নেই, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার কাজটাও করছে প্রকাশ্যে। মারদিয়া মমতাজের এই বক্তব্য সেদিক থেকে বিচ্ছিন্ন না। এটা জামায়াতের পুরনো অসুস্থ মানসিকতারই ধারাবাহিকতা। যারা একাত্তরে হেরে গিয়েছিল, তারা আজও স্বীকার করতে চায় না কেন তারা হেরেছিল। তাই তারা মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে ছোট করতে চায়, শহীদের সংখ্যাকে বিতর্কিত করতে চায়, আর নিজেদের অপরাধের ইতিহাসকে পাশ কাটাতে চায়।

বিষয়টা আরও ভয়ংকর কারণ মারদিয়া মমতাজ সংসদে বসে আছেন ২০২৬ সালে এসে। সেই ২০২৬ সাল, যে বছরটিতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও পুরনো অপশাসনের ছায়া ঘনীভূত হচ্ছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে এই দেশ জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি আর নিপীড়নের সাক্ষী ছিল। সেই দলটার প্রতিনিধিরা আজ আবার ক্ষমতার আশপাশে, আবার তাদের মুখপাত্ররা সংসদে, আবার তারা ইতিহাস বিকৃতির রাজনীতি শুরু করেছে। মারদিয়ার বক্তব্য একটা বড় ছকের অংশ। এই ছকের মূল লক্ষ্য জাতির ভিত নাড়ানো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করা, আর নিজেদের অপরাধের দায় এড়ানো।

মারদিয়া মমতাজ নিজেই একবার বলেছিলেন সংরক্ষিত নারী এমপিরা ট্রফি এমপি। এই স্বীকারোক্তিই তার রাজনৈতিক অবস্থানের আসল পরিচয়। তিনি জানেন তাকে কী কারণে সংসদে পাঠানো হয়েছে। জামায়াতের আদর্শকে পরোক্ষভাবে প্রতিষ্ঠা করাই তার কাজ। আর সেটা তিনি করছেন একদিকে শিক্ষকতার মুখোশ পরে, অন্যদিকে সংসদ সদস্যের ক্ষমতা ব্যবহার করে। একজন শিক্ষকের কাছে জাতি অন্তত সততা আশা করে, ইতিহাসের প্রতি দায়িত্বশীলতা আশা করে। মারদিয়া মমতাজ সেই প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছেন।

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ ছিল একটি মানবিক বিপর্যয়। সেদিনের আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি সব মিলিয়ে সেই দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। এই ইতিহাস নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার, আলোচনা হওয়া দরকার। কিন্তু সেটা হতে হবে তথ্য এবং প্রমাণের ভিত্তিতে, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য নয়। মারদিয়া মমতাজ দুর্ভিক্ষের ইতিহাসকে ব্যবহার করেছেন মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা খাটো করার অস্ত্র হিসেবে। এটাই তার সবচেয়ে বড় অপরাধ।

যারা মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কুটতর্ক করে তারা মূলত শহীদদের আত্মত্যাগকেই অস্বীকার করতে চায়। কারণ সংখ্যাটা যদি বিতর্কিত হয় তাহলে আত্মত্যাগের মাহাত্ম্যও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এই কৌশল নতুন না। পাকিস্তানের ইতিহাসবিদরা দীর্ঘদিন ধরে একই কাজ করছে। জামায়াতের বুদ্ধিজীবীরা সেই একই লাইনে হাঁটছে। মারদিয়া মমতাজ সেই চক্রেরই একটি মুখ। তার কথা শুনলে মনে হবে তিনি নিরপেক্ষ ইতিহাসের কথা বলছেন, কিন্তু আসলে তিনি একাত্তরের পরাজিত শক্তির পক্ষে নতুন করে যুদ্ধ ঘোষণা করছেন।

মারদিয়া মমতাজকে কোনো দিন ইতিহাসের ক্লাসরুমে দাঁড় করালে তিনি পাস করতেন কি না সন্দেহ আছে। কিন্তু তিনি বসে আছেন জাতীয় সংসদে। এটাই বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা। জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের এই এমপি সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে তিনগুণ বেশি মানুষ মারা গেছে। তিনি কোনো সংখ্যা বলেননি। কিন্তু এই বক্তব্যের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিতে ত্রিশ লাখ। এটা কোনো আবেগের সংখ্যা না, এটা জাতির রক্তে লেখা ইতিহাস। মারদিয়া মমতাজ যদি সত্যিই মনে করেন ৭৪ এর দুর্ভিক্ষে মুক্তিযুদ্ধের তিনগুণ মানুষ মারা গেছে, তাহলে তার হিসাবে দুর্ভিক্ষে মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়ায় অন্তত নব্বই লাখ। অথচ ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ নিয়ে যত গবেষণা আছে, যত আন্তর্জাতিক রিপোর্ট আছে, কোনো জায়গাতেই এই সংখ্যা পনেরো লাখের বেশি বলা নেই। তাহলে মারদিয়ার সূত্র ধরে উল্টো হিসাব করলে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা দাঁড়ায় দুই থেকে পাঁচ লাখের মধ্যে। এটাই তার আসল লক্ষ্য। সরাসরি বলতে পারেন না বলে তিনি অঙ্কের মারপ্যাঁচে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা কমাতে চেয়েছেন। এটা কোনো নিরীহ মন্তব্য না, এটা পরিকল্পিত ইতিহাস বিকৃতি।

মারদিয়া মমতাজ পেশায় প্রকৌশলী। গণিত তার রক্তে। তিনি ভালো করেই জানেন তিনগুণ শব্দটা ব্যবহার করলে শ্রোতার মনে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে। তিনি এটাও জানেন ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সঠিক মৃত্যু সংখ্যা ঐতিহাসিকভাবে এখনো বিতর্কিত, পক্ষান্তরে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ সংখ্যা রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত। কাজেই দুটো ঘটনাকে তুলনা করার অর্থই হলো শহীদের সংখ্যাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। একজন প্রকৌশলী এই সহজ হিসাব বুঝবেন না, এটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। বরং উনি বুঝেই বলেছেন, আর সেটাই তার জামায়াতি চরিত্রের প্রমাণ।

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল। ১৯৭১ সালে এই দল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এদেশের মানুষ হত্যা করেছে। রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী গঠন করে তারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে। সেই দল আজ সংসদে বসে আছে। শুধু বসে নেই, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার কাজটাও করছে প্রকাশ্যে। মারদিয়া মমতাজের এই বক্তব্য সেদিক থেকে বিচ্ছিন্ন না। এটা জামায়াতের পুরনো অসুস্থ মানসিকতারই ধারাবাহিকতা। যারা একাত্তরে হেরে গিয়েছিল, তারা আজও স্বীকার করতে চায় না কেন তারা হেরেছিল। তাই তারা মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে ছোট করতে চায়, শহীদের সংখ্যাকে বিতর্কিত করতে চায়, আর নিজেদের অপরাধের ইতিহাসকে পাশ কাটাতে চায়।

বিষয়টা আরও ভয়ংকর কারণ মারদিয়া মমতাজ সংসদে বসে আছেন ২০২৬ সালে এসে। সেই ২০২৬ সাল, যে বছরটিতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও পুরনো অপশাসনের ছায়া ঘনীভূত হচ্ছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে এই দেশ জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি আর নিপীড়নের সাক্ষী ছিল। সেই দলটার প্রতিনিধিরা আজ আবার ক্ষমতার আশপাশে, আবার তাদের মুখপাত্ররা সংসদে, আবার তারা ইতিহাস বিকৃতির রাজনীতি শুরু করেছে। মারদিয়ার বক্তব্য একটা বড় ছকের অংশ। এই ছকের মূল লক্ষ্য জাতির ভিত নাড়ানো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করা, আর নিজেদের অপরাধের দায় এড়ানো।

মারদিয়া মমতাজ নিজেই একবার বলেছিলেন সংরক্ষিত নারী এমপিরা ট্রফি এমপি। এই স্বীকারোক্তিই তার রাজনৈতিক অবস্থানের আসল পরিচয়। তিনি জানেন তাকে কী কারণে সংসদে পাঠানো হয়েছে। জামায়াতের আদর্শকে পরোক্ষভাবে প্রতিষ্ঠা করাই তার কাজ। আর সেটা তিনি করছেন একদিকে শিক্ষকতার মুখোশ পরে, অন্যদিকে সংসদ সদস্যের ক্ষমতা ব্যবহার করে। একজন শিক্ষকের কাছে জাতি অন্তত সততা আশা করে, ইতিহাসের প্রতি দায়িত্বশীলতা আশা করে। মারদিয়া মমতাজ সেই প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছেন।

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ ছিল একটি মানবিক বিপর্যয়। সেদিনের আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি সব মিলিয়ে সেই দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। এই ইতিহাস নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার, আলোচনা হওয়া দরকার। কিন্তু সেটা হতে হবে তথ্য এবং প্রমাণের ভিত্তিতে, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য নয়। মারদিয়া মমতাজ দুর্ভিক্ষের ইতিহাসকে ব্যবহার করেছেন মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা খাটো করার অস্ত্র হিসেবে। এটাই তার সবচেয়ে বড় অপরাধ।

যারা মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কুটতর্ক করে তারা মূলত শহীদদের আত্মত্যাগকেই অস্বীকার করতে চায়। কারণ সংখ্যাটা যদি বিতর্কিত হয় তাহলে আত্মত্যাগের মাহাত্ম্যও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এই কৌশল নতুন না। পাকিস্তানের ইতিহাসবিদরা দীর্ঘদিন ধরে একই কাজ করছে। জামায়াতের বুদ্ধিজীবীরা সেই একই লাইনে হাঁটছে। মারদিয়া মমতাজ সেই চক্রেরই একটি মুখ। তার কথা শুনলে মনে হবে তিনি নিরপেক্ষ ইতিহাসের কথা বলছেন, কিন্তু আসলে তিনি একাত্তরের পরাজিত শক্তির পক্ষে নতুন করে যুদ্ধ ঘোষণা করছেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ