রাজশাহীর মাঠে মাঠে এখন আমন রোপণের মৌসুম। ঠিক এই সময়েই কৃষকের সামনে সার নেই বলে দোকান বন্ধ করে দিচ্ছেন বিএনপি-জামাতের দলীয় ডিলাররা, অথচ পাশের খুচরা দোকানেই সেই একই সার মিলছে দ্বিগুণ কাছাকাছি দামে। কাকতালীয়? মোটেও না। এটা পরিকল্পিত সিন্ডিকেট, আর সেই সিন্ডিকেট চলছে খোদ কৃষি প্রশাসনের নাকের ডগায়, তাদেরই মদদে।
বিএনপি-জামাতের অবৈধ দখলদার এই তথাকথিত সরকার মুখে বলছে বরাদ্দ বাড়িয়েছে। তথ্যও তাই বলছে, গত বছরের চেয়ে এবার সার বেশি এসেছে রাজশাহীতে। তাহলে কৃষকের হাতে সার পৌঁছাচ্ছে না কেন? উত্তরটা অতি লজ্জার।
বরাদ্দপত্র বিক্রি হয়ে যাচ্ছে গুদাম থেকে সার তোলার আগেই। জেলা-উপজেলা মনিটরিং কমিটির বৈঠকে প্রতি মাসে লেখা হচ্ছে, কোনো সংকট নেই। অথচ মাঠে গেলেই দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। এই দ্বিচারিতার নাম প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি প্রশাসনিক মদদ?
কৃষি কার্ড হাতে নিয়ে ডিলারের দোকানে দোকানে ঘুরেও সার না পাওয়া এখন রাজশাহী অঞ্চলের লাখো কৃষকের বাস্তবতা। যে সরকার ক্ষমতা দখল করেই কৃষকের ক্ষেত পর্যন্ত সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে পারে না, সেই সরকারের কাছে কৃষিনির্ভর এই দেশের কৃষক কী আশা করবে?
২০০১-০৬ সালের বিএনপি-জামায়াত আমলের সিন্ডিকেট রাজনীতির কথা এখনও ভোলেনি মানুষ। সার নিয়ে সেই দুঃস্বপ্নের স্মৃতি আজ আবার ফিরিয়ে আনছে ২০২৬ সালের রাজশাহী।

