বাংলাদেশে এখন ক্ষমতায় কারা, সেটা ভুলে গেলে চলবে না। ২০২৬ সালের আগস্ট চলছে আর রাঙামাটি থেকে সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে ধরে নিয়ে গেল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ভাষা যতই পালিশ করা হোক না কেনো, এই দৃশ্য চেনা। পঁচিশ বছর আগে ঠিক এভাবেই সাদা মাইক্রোবাস এসে থেমে যেত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বাড়ির সামনে। এখন সেই গাড়ির গতিপথ আরো বেড়েছে, ভেতরে বসেছে চেনা গোয়েন্দা মুখ আর বাইরে ঝুলছে বিএনপি-জামাতের নয়া জমানার ছাড়পত্র।
নাটকের বাকি অংশটুকু পূর্বপরিচিত। পুলিশ সুপার বলবেন, ‘বিস্তারিত জানি না।’ অভিযোগকারী থাকবেন অঙ্গ সংগঠনের কোনো মুখ। অথচ ঠিক দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে, প্রকাশ্য রাস্তায়, জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এই অপহরণ আবার প্রমাণ করে শুধু পৃষ্ঠা উল্টেছে, অধ্যায় বদলায়নি। ভিন্নমাত্রায় ফিরে এসেছে সেই ২০০১-০৬ সাল, যখন সন্দেহ হলেই তুলে নেওয়া হতো বিরোধী মতাবলম্বীদের।
সময় বদলেছে, পাওয়ার স্ট্রাকচার বদলেছে, শুধু গুম-খুন-হয়রানির সংস্কৃতিটা বদলায়নি। শাহবাগ থানার মামলায় রাঙামাটি থেকে ধরে ঢাকায় আটক, এই পুরোনো ছকটাই তো ছিল একনায়কতন্ত্রের ট্রেডমার্ক। জামাত-বিএনপি এখন সংসদে ভাগ বসিয়েছে বটে, কিন্তু বিচার বহির্ভূত ক্ষমতার প্রদর্শন যে এখনও তাদের ডিএনএতে গেঁথে আছে, এই কিডন্যাপ তারই টাটকা দলিল।

