অভিজিৎ রায়, ফয়সল আরেফিন দীপন, জুলহাজ মান্নান, মাহবুব রাব্বী তনয় – এই মানুষগুলোকে কুপিয়ে খুন করার নির্দেশদাতা হিসেবে যাকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, সেই পলাতক মেজর জিয়াকে এখন মুক্ত করার তোড়জোড় চলছে খোদ রাষ্ট্রীয় দপ্তরের ভেতর থেকেই। আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত দৌড়াচ্ছে তার সাবেক বাহিনীর একটি চক্র। সাজা স্থগিত, মামলা প্রত্যাহার, পুরস্কার বাতিল, চাকরি ফেরত – সবকিছুর আবেদন জমা পড়ে গেছে।
যে সরকার ক্ষমতায় বসেছে “সংস্কার” আর “ন্যায়বিচার”-এর কথা বলে, সেই বিএনপি আর তাদের সংসদসঙ্গী জামায়াতের ছায়ায় বসেই এখন লেখক-ব্লগার-প্রকাশক হত্যার মূল হোতাকে বাঁচানোর ফন্দি আঁটা হচ্ছে। এটা কাকতালীয় নয়। ২০০১-০৬ সালে জঙ্গিবাদকে যেভাবে রাজনৈতিক ছত্রছায়া দেওয়া হয়েছিল, বাংলাভাই-শায়খ আবদুর রহমানদের যেভাবে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়নি, ঠিক সেই একই চরিত্র আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে।
রাওয়ার নেতারা বলছেন মামলাগুলো নাকি “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” অথচ একই মুখে তারা স্বীকার করছেন, নয়টি মামলার তদন্তে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, পালানোর ঘটনাও আছে। একজন খুনের আসামিকে “রাজনৈতিক ভিকটিম” বানিয়ে ফেলার এই আয়োজনে সরকারের নীরব সায় থাকাটাই সবচেয়ে ভয়ংকর বার্তা।
যুক্তরাষ্ট্র যাকে ধরিয়ে দিতে পঞ্চাশ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল, বাংলাদেশ সরকার তাকেই এখন কারামুক্ত ও চাকরিতে পুনর্বহাল করার পথ খুঁজে দিচ্ছে। এই বার্তা শুধু নিহতদের পরিবারের জন্য নয়, ভবিষ্যতের প্রতিটি সম্ভাব্য জঙ্গির জন্যও স্পষ্ট, ক্ষমতার সঠিক দরজায় কড়া নাড়তে পারলে খুনের বিচারও থামানো যাবে।

