চট্টগ্রামবাসীকে ৩০ হাজার কোটি টাকার মনোরেলের মূলো দেখিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হাসির পাত্র বানানোর পর এখন মুখে কুলুপ এঁটেছে সিটি করপোরেশন। কারণ লাথিটা এসেছে সরাসরি কূটনৈতিক চ্যানেলে। মিসরীয় দূতাবাস লিখিতভাবে জানিয়েছে, ওরাসকম কনস্ট্রাকশন বা দ্য আরব কনট্রাক্টরসের কায়রো সদর দপ্তর বাংলাদেশে কোনো কনসোর্টিয়াম গঠন করেনি।
‘আরব কনট্রাক্টরস-ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়াম’ নামক যে প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক প্যাডে মেয়রের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, সেটা পুরোটাই বানোয়াট। জালিয়াতি। দূতাবাস আরও পরিষ্কার ভাষায় বলেছে, এই প্রকল্পের জন্য কাউকে কোনো অথরাইজেশন, কূটনৈতিক অনুমোদন বা প্রতিনিধিত্বের ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। অথচ কাউছার আলম নামের মেয়রের ঘনিষ্ঠজনই মাসের পর মাস চসিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে গেছেন, নকশা দেখিয়েছেন, প্রেজেন্টেশন দিয়েছেন। প্রশ্ন হল, এই ব্যক্তির পরিচয় যাচাইয়ের নূন্যতম প্রক্রিয়াটুকুও কি অনুসরণ করা হয়েছিল?
মিসরের মূল কোম্পানিগুলো যখন প্রকাশ্যে অস্বীকার করল, তখনো চসিক নিজেদের ভুল স্বীকার করেনি। গত ২০ জুন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা দাবি করে, ওরাসকম বাদ গেলে কী হবে, দ্য আরব কনট্রাক্টরস তো আছেই, তারাই এককভাবে প্রকল্প করবে। কিন্তু আজ সেই আরব কনট্রাক্টরস যখন দূতাবাসের মাধ্যমে জানিয়ে দিল যে তারা কাউকে কিছু বলেনি, তখন চসিকের সেই ঔদ্ধত্য বেলুন ফুস্কার মতো চুপসে গেছে। কোনো ব্যাখ্যা নেই, জবাবদিহি নেই, শুধু নীরবতা। এটি মোটেও কোনো প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, এ এক পরিকল্পিত দুর্নীতির অংশ।
যে দৃশ্যপট দেখে মনে পড়ে যাচ্ছে ২০০১-০৬ সালের সেই অন্ধকার সময়ের কথা। দুর্নীতি তখন রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত হয়েছিল, একের পর এক মেগা প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা লুট হয়েছিল। ঠিক সেই আদলেই ২০২৬ সালের এই বাংলাদেশে আবারও একই ছক। পার্থক্য শুধু এটুকু, তখনকার মতো এখন আর মানুষ অন্ধকারে নেই। তাই চট্টগ্রামের বুকে মনোরেল ওঠার আগেই প্রতারণার ভিত ধসে গেছে মিসর দূতাবাসের এক চিঠিতেই।

