২০০১ থেকে ২০০৬ সাল যারা দেখেছেন, তারা জানেন কেমন ছিল। ২০২৬-এ এসে মনে হচ্ছে সেই ফিল্মটাই আবার চলছে, শুধু প্রিন্টটা একটু নতুন।
বিএনপি-জামাত সরকারের এই বাজেট দেখলে একটাই কথা মাথায় আসে। ঋণ করো, ঘি খাও। আগামী অর্থবছর শেষে সরকারের দেনা দাঁড়াবে ২৬ লাখ কোটি টাকার ওপরে। এই টাকা কে শোধ করবে? যে মানুষটা মাসে ৩০ হাজার টাকা কামায় পাঁচ বাসায় ঘর মোছে, সেও।
এনবিআরকে ৬ লাখ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। বাস্তবে যা সম্ভব তার অর্ধেকও হবে না। ঘাটতি পোষাতে এখন এক দশকের পুরনো বন্ধ নথি খুলে নতুন করে কর বসানো হচ্ছে। ছয় কর-বছরের আগের নথি খোলার নিয়মই নেই, কিন্তু বিএনপি-জামাত সরকার সেই নিয়মও মানছে না।
মুদ্রাস্ফীতি এখন সাড়ে নয় শতাংশের কাছে। গ্রামে আরও বেশি। ২০২২ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে ১৪ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছেন। এই পরিস্থিতিতে সরকার করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়েছে মাত্র ২৫ হাজার টাকা, আর বিনিময়ে তুলে দিয়েছে ৫ শতাংশের সর্বনিম্ন কর-স্লাব। মানে যে একটু কম আয় করে, সে এখন বেশি হারে কর দেবে।
বড় ব্যবসায়ী, নামকরা আইনজীবী, বেসরকারি হাসপাতালের মালিকরা কত টাকা কর দেন? এই প্রশ্ন এখনো কেউ জিজ্ঞেস করছে না। কর-জালে আগেও শুধু ছোটরা ধরা পড়ত, এখনো তাই।

