পেট চালাতে রাজশাহীর বাঘা থেকে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় এসেছিলেন জামিল হোসেন। বয়স পঞ্চাশ। কাজ একটাই, অন্যের জমির ধান মাড়াই করে কটা টাকা ঘরে নেওয়া। শনিবার বিকেলে কাজে একটু দেরি হলো বলে যা ঘটল, সেটা আসলে নতুন কোনো গল্প না।
ইউসুফ আলী, পদবি আছে, ক্ষমতা আছে, ভাঙ্গুড়া সদর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। দেরি সহ্য হলো না তার। মেশিনের চাবি কেড়ে নিলেন, চাবি ফেরত চাইতেই সেই চাবি দিয়েই পেটালেন একজন দিনমজুরকে। তারপর মার খাওয়া মানুষটাকে দিয়েই জোর করে করিয়ে নিলেন তিন বিঘা জমির কাজ। এর নাম শ্রম না দাসত্ব, এই প্রশ্নটা থেকেই যায়।
ঘণ্টা চারেক পর জামিল মারা গেলেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনো আসেনি, তাই চূড়ান্ত কারণ নিয়ে শেষ কথা বলার সময় হয়নি। কিন্তু মারধরের পরপরই একজন সুস্থ-সবল মানুষের আকস্মিক মৃত্যু, অভিযুক্ত নেতার ফোন বন্ধ, বাড়িতে নেই, আর লাশ তড়িঘড়ি সরিয়ে ফেলার চেষ্টা, এসব পাশাপাশি রাখলে কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন।
স্থানীয় বিএনপি আহ্বায়কের জবাব ছিল, কিছু জানেন না। চেনা সুর। ২০০১-০৬, এই ৫ বছরে দেশ এই বাক্যটা বহুবার শুনেছে, যখন ক্ষমতাসীনরা অন্যায় করে পার পেয়ে যেত আর বিএনপি বলত, আমরা কিছু জানি না। যেন একজন গরিব দিনমজুরের রক্ত কারো কাছে কোনো হিসাবের মধ্যেই পড়ে না।
প্রায় দুই দশক পর চেয়ারে ফিরেছে বিএনপি। কিন্তু তৃণমূলে যদি আজও গরিবের গায়ে হাত তোলাটাই ক্ষমতা জাহির করার ভাষা হয়ে থাকে, তাহলে বদলেছেটা আসলে কী, শুধু সালটা?

