আমরা পরাজিত হওয়ার জন্য জন্মাইনি: শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বিশেষ বিবৃতিতে দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের দীর্ঘ ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পেশ করেছেন। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ কোনো বিদেশি শক্তি বা শাসকের অনুকম্পায় গড়ে ওঠেনি, বরং বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম থেকে এর জন্ম। প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে দল আবারও জনগণের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াবে এবং দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়ে প্রকাশিত বিবৃতিতে শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন জনগণের মানবিক মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬৬-র ছয় দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার প্রতিটি ধাপে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ও ত্যাগ জড়িয়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। অতএব, বাংলাদেশের ইতিহাস মানেই আওয়ামী লীগের ইতিহাস।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অনির্বাচিত ও অসাংবিধানিক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশে যে ঘৃণা, বিভেদ ও মব-সন্ত্রাসের পথ তৈরি হয়েছিল, বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও তা অব্যাহত রয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে কার্যক্রম নিষিদ্ধের মাধ্যমে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে। এই নির্বাচনে জনরায়ের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। এটি নিশ্চিত পরাজয় জেনে দেশবিরোধী শক্তির একটি চক্রান্ত, যা জনগণের ভোটাধিকারের ওপর বড় আঘাত।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে দলের নেতা-কর্মীদের ওপর মিথ্যা মামলা, ঘরবাড়ি তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এমনকি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ‘জয় বাংলা’ বলাকেও অপরাধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তারা কোনো দলীয় বাহিনী নন, বরং প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। রাজনৈতিক নির্দেশে নিরপরাধ মানুষকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা ক্ষমতার অপব্যবহার। তিনি সতর্ক করে বলেন, “কোনো সরকার বা ক্ষমতাই স্থায়ী নয়, জনগণই চিরস্থায়ী। অন্যায় নির্দেশ পালন করে কেউ ইতিহাসের দায় থেকে মুক্ত থাকতে পারে না।”

দলের কঠিন সময়ে নেতা-কর্মীদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে গভীর সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তার বর্তমান অনুপস্থিতি কোনো নীরবতা নয়। কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও আইনি পথে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি ঘোষণা দেন, আমি আবারও ফিরব বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। আমি ফিরব গণতন্ত্র, আইনের শাসন, জনগণের ভোটাধিকার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার নিয়ে। আমি ফিরব জনগণের শক্তিতে।

দলের নেতা-কর্মীদের প্রতিটি গ্রাম, মহল্লা ও ওয়ার্ডে জনগণের পাশে থাকার এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, নারী, শিশু ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রতিশোধের নয়, বরং মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার রাজনীতি।

বিবৃতির শেষে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি দেশের সকল প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে প্রতিহিংসা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বিশেষ বিবৃতিতে দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের দীর্ঘ ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পেশ করেছেন। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ কোনো বিদেশি শক্তি বা শাসকের অনুকম্পায় গড়ে ওঠেনি, বরং বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম থেকে এর জন্ম। প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে দল আবারও জনগণের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াবে এবং দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়ে প্রকাশিত বিবৃতিতে শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন জনগণের মানবিক মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬৬-র ছয় দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার প্রতিটি ধাপে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ও ত্যাগ জড়িয়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। অতএব, বাংলাদেশের ইতিহাস মানেই আওয়ামী লীগের ইতিহাস।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অনির্বাচিত ও অসাংবিধানিক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশে যে ঘৃণা, বিভেদ ও মব-সন্ত্রাসের পথ তৈরি হয়েছিল, বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও তা অব্যাহত রয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে কার্যক্রম নিষিদ্ধের মাধ্যমে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে। এই নির্বাচনে জনরায়ের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। এটি নিশ্চিত পরাজয় জেনে দেশবিরোধী শক্তির একটি চক্রান্ত, যা জনগণের ভোটাধিকারের ওপর বড় আঘাত।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে দলের নেতা-কর্মীদের ওপর মিথ্যা মামলা, ঘরবাড়ি তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এমনকি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ‘জয় বাংলা’ বলাকেও অপরাধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তারা কোনো দলীয় বাহিনী নন, বরং প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। রাজনৈতিক নির্দেশে নিরপরাধ মানুষকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা ক্ষমতার অপব্যবহার। তিনি সতর্ক করে বলেন, “কোনো সরকার বা ক্ষমতাই স্থায়ী নয়, জনগণই চিরস্থায়ী। অন্যায় নির্দেশ পালন করে কেউ ইতিহাসের দায় থেকে মুক্ত থাকতে পারে না।”

দলের কঠিন সময়ে নেতা-কর্মীদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে গভীর সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তার বর্তমান অনুপস্থিতি কোনো নীরবতা নয়। কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও আইনি পথে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি ঘোষণা দেন, আমি আবারও ফিরব বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। আমি ফিরব গণতন্ত্র, আইনের শাসন, জনগণের ভোটাধিকার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার নিয়ে। আমি ফিরব জনগণের শক্তিতে।

দলের নেতা-কর্মীদের প্রতিটি গ্রাম, মহল্লা ও ওয়ার্ডে জনগণের পাশে থাকার এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, নারী, শিশু ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রতিশোধের নয়, বরং মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার রাজনীতি।

বিবৃতির শেষে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি দেশের সকল প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে প্রতিহিংসা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ