এক শিশু ধর্ষিত, আরেক শিশু গৃহহীন; রাষ্ট্রের কী দায় নেই?

সাড়ে সাত বছরের একটা শিশু ধর্ষিত হল। সাহসী মা মামলা করলেন। পুলিশ আসামিকে ধরল। আদালত কিশোর সংশোধনাগারে পাঠাল। এ পর্যন্ত আইনের বই মেনে সব এগোচ্ছিল। তারপরই ঘটল সেই চেনা বিপর্যয়। আসামি সৌদি থেকে ফোনে ফোনে কেটে টুকরো করার হুমকি দিচ্ছে। দেশে বসে আসামির চাচা, চাচাতো ভাইরা মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আর মা তার দুই মেয়েসন্তান নিয়ে এখন গৃহহীন, আত্মগোপন করা এক বাস্তুহারা মানুষ।

প্রশ্ন হচ্ছে, এটা কোন বাংলাদেশ? বিচার প্রক্রিয়া তো শুরু হয়েছিল ঠিকঠাক। কিন্তু রক্ষাকর্তা কে? থানার পুলিশ? তারা মামলা নিয়েছে, আসামি ধরেছে, কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবারের জান বাঁচানোর নিরাপত্তা দিতে পারছে না। প্রশাসন? তারা দেখছে আর শুনছে আর কিছু করছে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি? সম্ভবত তারাও আসামিপক্ষের দাপটে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। রাষ্ট্র ব্যবস্থা পুরো ভেঙে পড়েছে কারণ ব্যক্তি উদ্যোগে থানায় মামলা করা গেলেও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা সেই পরিবারটা পাচ্ছে না।

তাহলে আমরা কোন আইনের শাসনের কথা বলছি? এটা তো আইনের আগে দুর্বৃত্তের শাসনের বিজয়। যার কাছে পয়সা আছে, প্রবাসী আয় আছে, স্থানীয় দাপট আছে সেই এখন ভুক্তভোগীকে হয়রানি করবে আর রাষ্ট্রের তরফ থেকে বলতে কেউ এগিয়ে আসবে না এটাই যখন রাষ্ট্র কাঠামোর বর্তমান চেহারা, তখন অপরাধীর মাথা আরও উঁচু হয়ে যায়।

মামলা হওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবার যদি নিরাপত্তার অভাবে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়, তাহলে সেই মামলা করে লাভ কী? এটা সরাসরি অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়ার সামিল। বিএনপি-জামাত জমানার কথা বললে অনেকে বলেন নস্টালজিয়ায় ভুগছি। কিন্তু কিশোরগঞ্জের এই ঘটনা প্রমাণ করে সেই জমানার অপরাজনীতিই এখনও অমলিন। ক্ষমতায় বসে পরিবর্তনের যে দম্ভোক্তি করা হয়েছিল, তার বাস্তবতা ভুক্তভোগী এই মায়ের জীবনে এসে ধরা দেয়নি।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগের এখনই দায়িত্ব এই বাস্তুচ্যুত পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া। একই সঙ্গে যে পরিবেশে একজন মামলা করার পর শাস্তি নয় বরং আরও নিপীড়নের শিকার হন, সেই অপরাজনীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। নয়তো কথিত আইনের শাসনের বৃত্তান্ত কেবল কাগজেই রয়ে যাবে, আর শিশু ধর্ষণের শিকার মেয়েগুলো বুঝে যাবে, এদেশে সুবিচার বলে কিছু নেই।

সাড়ে সাত বছরের একটা শিশু ধর্ষিত হল। সাহসী মা মামলা করলেন। পুলিশ আসামিকে ধরল। আদালত কিশোর সংশোধনাগারে পাঠাল। এ পর্যন্ত আইনের বই মেনে সব এগোচ্ছিল। তারপরই ঘটল সেই চেনা বিপর্যয়। আসামি সৌদি থেকে ফোনে ফোনে কেটে টুকরো করার হুমকি দিচ্ছে। দেশে বসে আসামির চাচা, চাচাতো ভাইরা মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আর মা তার দুই মেয়েসন্তান নিয়ে এখন গৃহহীন, আত্মগোপন করা এক বাস্তুহারা মানুষ।

প্রশ্ন হচ্ছে, এটা কোন বাংলাদেশ? বিচার প্রক্রিয়া তো শুরু হয়েছিল ঠিকঠাক। কিন্তু রক্ষাকর্তা কে? থানার পুলিশ? তারা মামলা নিয়েছে, আসামি ধরেছে, কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবারের জান বাঁচানোর নিরাপত্তা দিতে পারছে না। প্রশাসন? তারা দেখছে আর শুনছে আর কিছু করছে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি? সম্ভবত তারাও আসামিপক্ষের দাপটে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। রাষ্ট্র ব্যবস্থা পুরো ভেঙে পড়েছে কারণ ব্যক্তি উদ্যোগে থানায় মামলা করা গেলেও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা সেই পরিবারটা পাচ্ছে না।

তাহলে আমরা কোন আইনের শাসনের কথা বলছি? এটা তো আইনের আগে দুর্বৃত্তের শাসনের বিজয়। যার কাছে পয়সা আছে, প্রবাসী আয় আছে, স্থানীয় দাপট আছে সেই এখন ভুক্তভোগীকে হয়রানি করবে আর রাষ্ট্রের তরফ থেকে বলতে কেউ এগিয়ে আসবে না এটাই যখন রাষ্ট্র কাঠামোর বর্তমান চেহারা, তখন অপরাধীর মাথা আরও উঁচু হয়ে যায়।

মামলা হওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবার যদি নিরাপত্তার অভাবে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়, তাহলে সেই মামলা করে লাভ কী? এটা সরাসরি অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়ার সামিল। বিএনপি-জামাত জমানার কথা বললে অনেকে বলেন নস্টালজিয়ায় ভুগছি। কিন্তু কিশোরগঞ্জের এই ঘটনা প্রমাণ করে সেই জমানার অপরাজনীতিই এখনও অমলিন। ক্ষমতায় বসে পরিবর্তনের যে দম্ভোক্তি করা হয়েছিল, তার বাস্তবতা ভুক্তভোগী এই মায়ের জীবনে এসে ধরা দেয়নি।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগের এখনই দায়িত্ব এই বাস্তুচ্যুত পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া। একই সঙ্গে যে পরিবেশে একজন মামলা করার পর শাস্তি নয় বরং আরও নিপীড়নের শিকার হন, সেই অপরাজনীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। নয়তো কথিত আইনের শাসনের বৃত্তান্ত কেবল কাগজেই রয়ে যাবে, আর শিশু ধর্ষণের শিকার মেয়েগুলো বুঝে যাবে, এদেশে সুবিচার বলে কিছু নেই।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ