লস টানতে টানতে কাহিল, তবুও অবৈধ বিএনপি সরকারের টনক নড়ে না

নোয়াখালীর বাবলু সাহেব প্রতিদিন সকাল দশটায় তাঁর কারখানা খোলেন। বিদ্যুৎ থাকে পাঁচ ঘণ্টা, কিন্তু তিনজন কর্মচারীকে দিন শেষে তিন হাজার টাকা ঠিকই দিতে হয়। কাজ হয় তিন হাজারের কম। লোকসান গুনতে গুনতে তাঁর “অবস্থা কাহিল।” সেনবাগের নয়ন হোসেন সাতাশজন কর্মচারী নিয়ে ওয়ার্কশপ চালান, কিন্তু এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং আর সন্ধ্যা সাতটায় প্রশাসনের চাপে কারখানা বন্ধের ঘোষণা তাঁকে প্রতিদিন একটাই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়: এই মানুষগুলোর বেতন কোথা থেকে আসবে?

পিডিবির নিজস্ব হিসাবেই বলছে, নোয়াখালীর মাইজদী ও দত্তেরহাট সাবস্টেশনে দিনের বেলা চাহিদা ৩২ মেগাওয়াট, সরবরাহ মিলছে ১১ থেকে ১৪। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৯টি উপজেলায় পিক আওয়ারে চাহিদা ২১০ মেগাওয়াট, পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। মানে প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি কারখানায়, প্রতিটি পরীক্ষার্থীর পড়ার টেবিলে রাষ্ট্র প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ অন্ধকার পাঠাচ্ছে। এটা স্বীকার করতে কর্মকর্তাদের কোনো লজ্জা নেই, কারণ তাঁদের উপরে যে সরকার বসে আছে, তাদেরও কোনো জবাবদিহির বালাই নেই।

এই বিএনপি সরকার গত ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে ক্ষমতায় এসেছে। কীভাবে এসেছে, সেটা এখন আর কারো অজানা না। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বাইরে রেখে, জনগণের বড় একটা অংশ যে ভোটে যায়নি, সেই ভোটের মাধ্যমে। তারপরও দাবি করা হচ্ছে এটা গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের সরকার। কিন্তু যে সরকার জনগণের, সে সরকার কি জনগণের কারখানায় বিদ্যুৎ দিতে পারে না?

সমস্যাটা কিন্তু শুধু বিদ্যুৎ না। সমস্যা হলো, ক্ষমতায় থাকা মানুষগুলো আসলে এই বাবলু বা নয়নদের যন্ত্রণাটাকে যন্ত্রণা মনেই করে না। না হলে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর একই অবস্থা চলতে পারে না। গৃহিণী সুলতানা রাজিয়া বলছেন চব্বিশ ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, সন্ধ্যার পর বাচ্চারা পড়ার টেবিলে বসতে চায় না। সেনবাগের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাত ঘণ্টায় তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ পেয়েছেন। এসএসসি পরীক্ষার্থীরা গরমে পড়তে পারছে না। এগুলো কি রাষ্ট্রের কাছে পৌঁছাচ্ছে না?

পৌঁছাচ্ছে, কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না।

এই দলটির জন্ম সেনানিবাসের ভেতরে, একজন সামরিক শাসকের হাত ধরে। সেই শুরু থেকেই এই দলের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংসারের দূরত্বটা তৈরি। ক্ষমতায় এসেছে বারবার, কিন্তু বিদ্যুৎ সংকট, লোডশেডিং, শ্রমিকের বেতন, গরিব মানুষের কারখানা এগুলো কখনো তাদের মূল আলোচনায় আসেনি। এবারও আসেনি। মন্ত্রিসভায় যারা বসে আছেন, তাদের কেউ কি একবার হিসাব করেছেন বাবলু সাহেবের মাসে কত টাকা লোকসান হচ্ছে? করেননি, কারণ করার দরকার মনে করেননি।

গত সতেরো বছরে বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষ অনেক কথা বলেছে। কিন্তু এইভাবে, এই টোনে, এই হতাশায় কথা বলতে শোনা যায়নি। “লস টানতে টানতে অবস্থা কাহিল” এই কথাটা শুধু বাবলু সাহেবের না, এই মুহূর্তে পুরো নোয়াখালীর, বলতে গেলে সারা দেশের ছোট উদ্যোক্তাদের। এই মানুষগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে কিছু চাইছে না, শুধু চাইছে একটু স্বাভাবিক জীবন, কারখানায় বিদ্যুৎ, মাস শেষে কর্মচারীর বেতন দেওয়ার মতো আয়।

সেটুকুও দিতে পারছে না এই সরকার।

নোয়াখালীর বাবলু সাহেব প্রতিদিন সকাল দশটায় তাঁর কারখানা খোলেন। বিদ্যুৎ থাকে পাঁচ ঘণ্টা, কিন্তু তিনজন কর্মচারীকে দিন শেষে তিন হাজার টাকা ঠিকই দিতে হয়। কাজ হয় তিন হাজারের কম। লোকসান গুনতে গুনতে তাঁর “অবস্থা কাহিল।” সেনবাগের নয়ন হোসেন সাতাশজন কর্মচারী নিয়ে ওয়ার্কশপ চালান, কিন্তু এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং আর সন্ধ্যা সাতটায় প্রশাসনের চাপে কারখানা বন্ধের ঘোষণা তাঁকে প্রতিদিন একটাই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়: এই মানুষগুলোর বেতন কোথা থেকে আসবে?

পিডিবির নিজস্ব হিসাবেই বলছে, নোয়াখালীর মাইজদী ও দত্তেরহাট সাবস্টেশনে দিনের বেলা চাহিদা ৩২ মেগাওয়াট, সরবরাহ মিলছে ১১ থেকে ১৪। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৯টি উপজেলায় পিক আওয়ারে চাহিদা ২১০ মেগাওয়াট, পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। মানে প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি কারখানায়, প্রতিটি পরীক্ষার্থীর পড়ার টেবিলে রাষ্ট্র প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ অন্ধকার পাঠাচ্ছে। এটা স্বীকার করতে কর্মকর্তাদের কোনো লজ্জা নেই, কারণ তাঁদের উপরে যে সরকার বসে আছে, তাদেরও কোনো জবাবদিহির বালাই নেই।

এই বিএনপি সরকার গত ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে ক্ষমতায় এসেছে। কীভাবে এসেছে, সেটা এখন আর কারো অজানা না। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বাইরে রেখে, জনগণের বড় একটা অংশ যে ভোটে যায়নি, সেই ভোটের মাধ্যমে। তারপরও দাবি করা হচ্ছে এটা গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের সরকার। কিন্তু যে সরকার জনগণের, সে সরকার কি জনগণের কারখানায় বিদ্যুৎ দিতে পারে না?

সমস্যাটা কিন্তু শুধু বিদ্যুৎ না। সমস্যা হলো, ক্ষমতায় থাকা মানুষগুলো আসলে এই বাবলু বা নয়নদের যন্ত্রণাটাকে যন্ত্রণা মনেই করে না। না হলে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর একই অবস্থা চলতে পারে না। গৃহিণী সুলতানা রাজিয়া বলছেন চব্বিশ ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, সন্ধ্যার পর বাচ্চারা পড়ার টেবিলে বসতে চায় না। সেনবাগের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাত ঘণ্টায় তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ পেয়েছেন। এসএসসি পরীক্ষার্থীরা গরমে পড়তে পারছে না। এগুলো কি রাষ্ট্রের কাছে পৌঁছাচ্ছে না?

পৌঁছাচ্ছে, কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না।

এই দলটির জন্ম সেনানিবাসের ভেতরে, একজন সামরিক শাসকের হাত ধরে। সেই শুরু থেকেই এই দলের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংসারের দূরত্বটা তৈরি। ক্ষমতায় এসেছে বারবার, কিন্তু বিদ্যুৎ সংকট, লোডশেডিং, শ্রমিকের বেতন, গরিব মানুষের কারখানা এগুলো কখনো তাদের মূল আলোচনায় আসেনি। এবারও আসেনি। মন্ত্রিসভায় যারা বসে আছেন, তাদের কেউ কি একবার হিসাব করেছেন বাবলু সাহেবের মাসে কত টাকা লোকসান হচ্ছে? করেননি, কারণ করার দরকার মনে করেননি।

গত সতেরো বছরে বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষ অনেক কথা বলেছে। কিন্তু এইভাবে, এই টোনে, এই হতাশায় কথা বলতে শোনা যায়নি। “লস টানতে টানতে অবস্থা কাহিল” এই কথাটা শুধু বাবলু সাহেবের না, এই মুহূর্তে পুরো নোয়াখালীর, বলতে গেলে সারা দেশের ছোট উদ্যোক্তাদের। এই মানুষগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে কিছু চাইছে না, শুধু চাইছে একটু স্বাভাবিক জীবন, কারখানায় বিদ্যুৎ, মাস শেষে কর্মচারীর বেতন দেওয়ার মতো আয়।

সেটুকুও দিতে পারছে না এই সরকার।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ