সারোয়ারের দোকান খালি, মোমিনের মাঠ শেষ, বিএনপির মসনদ পাকা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল, আর বাড়ল মানুষের কষ্ট। ময়মনসিংহের সারোয়ার হোসেনের দোকানে বিক্রি কমে গেছে চল্লিশ শতাংশ। আশুলিয়ার গার্মেন্টস শ্রমিক সামিউল ইসলাম সাড়ে বিশ হাজার টাকা বেতনে সংসার টানতে পারছেন না। বগুড়ার কৃষক আবদুল মোমিনের করলা সপ্তাহের ব্যবধানে আড়াই হাজার থেকে নেমে এসেছে আটশো টাকায়। এই তিনটা গল্প আসলে একটাই গল্প। দেশের কোটি কোটি মানুষের গল্প, যাদের আয় বাড়েনি, কিন্তু বেঁচে থাকার খরচ বেড়েছে প্রতিটা দিন।

এই বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে বিএনপি সরকারের দিকে তাকালে যে ছবিটা চোখে পড়ে, সেটা রীতিমতো হতাশাজনক। ফেব্রুয়ারির বারো তারিখে যে নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে, সেটাকে নির্বাচন বলতে গেলে নির্বাচন শব্দটার প্রতি অবিচার করা হয়। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সেই ভোটে ছিল না। সাধারণ মানুষ ভোট দিতে যায়নি। যতটুকু ‘ভোট’ হয়েছে, সেটা ছিল নিজেদের সাজানো মঞ্চে নিজেদের অভিনয়। এই ধরনের একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা কোনো সরকারের কাছে সাধারণ মানুষ কতটুকু জবাবদিহিতা আশা করতে পারে, সেটা ভাবলেই উত্তর পাওয়া যায়।

বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস এমনিতেও বেশি সুবিধার না। জিয়াউর রহমান যে দলটা তৈরি করেছিলেন, সেটা সেনানিবাসের ছায়ায় জন্ম নেওয়া। ক্ষমতার কাছাকাছি থাকলে দলটা কীভাবে চলে, সেটা এই দেশের মানুষ একাধিকবার নিজের চোখে দেখেছে। দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি এই শব্দগুলো বিএনপির শাসনামলের সাথে যেভাবে জুড়ে গেছে, সেটা ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলা যাবে না।

এখন তারা আবার ক্ষমতায়। আর মানুষ জ্বালানির দামের চাপে নুয়ে পড়ছে। সারোয়ারের দোকানে ডিমের হালি সাত দিনে দশ টাকা বেড়েছে। ট্রাকের ভাড়া বেড়েছে, তাই সবজির দামও বেড়েছে শহরে। কিন্তু কৃষক পাচ্ছেন আরও কম, কারণ ব্যাপারিরা কিনতে আগ্রহী না। একদিকে চাষির দাম কমছে, অন্যদিকে ক্রেতার খরচ বাড়ছে। মাঝখান থেকে ফায়দা লুটছে পরিবহন আর মধ্যস্বত্বভোগীরা। এই ফাঁকটা বন্ধ করার কোনো চেষ্টা সরকারের তরফ থেকে দেখা যাচ্ছে না।

বিএনপির মন্ত্রীরা কথা বলছেন। বিবৃতি দিচ্ছেন। কিন্তু সেই কথাগুলো আশুলিয়ার গার্মেন্টস শ্রমিকের কানে পৌঁছাচ্ছে না, বগুড়ার কৃষকের মাঠে পৌঁছাচ্ছে না। যে সরকার জনগণের ভোটে আসেনি, তার কাছে জনগণের কষ্টের হিসাব চাওয়ার জায়গাটাও কম। কারণ তাদের টিকে থাকাটা জনসমর্থনের উপর নির্ভর করে না।

নাসা গ্রুপ বন্ধ, বেক্সিমকো বন্ধ, হাজার হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। বাকিরা ভয়ে আছেন কাল কী হবে। সামিউল ইসলাম জিজ্ঞেস করেছেন, রাষ্ট্র পরিচালকরা কি পরিকল্পনা করছেন? এই প্রশ্নটা সহজ হলেও, অনেক ওজনের। কারণ উত্তরটা মোটামুটি সবার জানা।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল, আর বাড়ল মানুষের কষ্ট। ময়মনসিংহের সারোয়ার হোসেনের দোকানে বিক্রি কমে গেছে চল্লিশ শতাংশ। আশুলিয়ার গার্মেন্টস শ্রমিক সামিউল ইসলাম সাড়ে বিশ হাজার টাকা বেতনে সংসার টানতে পারছেন না। বগুড়ার কৃষক আবদুল মোমিনের করলা সপ্তাহের ব্যবধানে আড়াই হাজার থেকে নেমে এসেছে আটশো টাকায়। এই তিনটা গল্প আসলে একটাই গল্প। দেশের কোটি কোটি মানুষের গল্প, যাদের আয় বাড়েনি, কিন্তু বেঁচে থাকার খরচ বেড়েছে প্রতিটা দিন।

এই বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে বিএনপি সরকারের দিকে তাকালে যে ছবিটা চোখে পড়ে, সেটা রীতিমতো হতাশাজনক। ফেব্রুয়ারির বারো তারিখে যে নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে, সেটাকে নির্বাচন বলতে গেলে নির্বাচন শব্দটার প্রতি অবিচার করা হয়। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সেই ভোটে ছিল না। সাধারণ মানুষ ভোট দিতে যায়নি। যতটুকু ‘ভোট’ হয়েছে, সেটা ছিল নিজেদের সাজানো মঞ্চে নিজেদের অভিনয়। এই ধরনের একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা কোনো সরকারের কাছে সাধারণ মানুষ কতটুকু জবাবদিহিতা আশা করতে পারে, সেটা ভাবলেই উত্তর পাওয়া যায়।

বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস এমনিতেও বেশি সুবিধার না। জিয়াউর রহমান যে দলটা তৈরি করেছিলেন, সেটা সেনানিবাসের ছায়ায় জন্ম নেওয়া। ক্ষমতার কাছাকাছি থাকলে দলটা কীভাবে চলে, সেটা এই দেশের মানুষ একাধিকবার নিজের চোখে দেখেছে। দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি এই শব্দগুলো বিএনপির শাসনামলের সাথে যেভাবে জুড়ে গেছে, সেটা ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলা যাবে না।

এখন তারা আবার ক্ষমতায়। আর মানুষ জ্বালানির দামের চাপে নুয়ে পড়ছে। সারোয়ারের দোকানে ডিমের হালি সাত দিনে দশ টাকা বেড়েছে। ট্রাকের ভাড়া বেড়েছে, তাই সবজির দামও বেড়েছে শহরে। কিন্তু কৃষক পাচ্ছেন আরও কম, কারণ ব্যাপারিরা কিনতে আগ্রহী না। একদিকে চাষির দাম কমছে, অন্যদিকে ক্রেতার খরচ বাড়ছে। মাঝখান থেকে ফায়দা লুটছে পরিবহন আর মধ্যস্বত্বভোগীরা। এই ফাঁকটা বন্ধ করার কোনো চেষ্টা সরকারের তরফ থেকে দেখা যাচ্ছে না।

বিএনপির মন্ত্রীরা কথা বলছেন। বিবৃতি দিচ্ছেন। কিন্তু সেই কথাগুলো আশুলিয়ার গার্মেন্টস শ্রমিকের কানে পৌঁছাচ্ছে না, বগুড়ার কৃষকের মাঠে পৌঁছাচ্ছে না। যে সরকার জনগণের ভোটে আসেনি, তার কাছে জনগণের কষ্টের হিসাব চাওয়ার জায়গাটাও কম। কারণ তাদের টিকে থাকাটা জনসমর্থনের উপর নির্ভর করে না।

নাসা গ্রুপ বন্ধ, বেক্সিমকো বন্ধ, হাজার হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। বাকিরা ভয়ে আছেন কাল কী হবে। সামিউল ইসলাম জিজ্ঞেস করেছেন, রাষ্ট্র পরিচালকরা কি পরিকল্পনা করছেন? এই প্রশ্নটা সহজ হলেও, অনেক ওজনের। কারণ উত্তরটা মোটামুটি সবার জানা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ