জনগণের ঘাড়ে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বোঝা চাপালো বিএনপি সরকার

গত ২৮ এপ্রিল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে বসে বিএনপি সরকার যা করল, সেটা সহজ বাংলায় বললে দাঁড়ায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাঁধে আরও একটা ভারী পাথর তুলে দেওয়া হলো। ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের নন-কনসেশনাল, অর্থাৎ কঠিন শর্তের ঋণ অনুমোদন দিয়েছে তারা। যারা একটু হিসাব বোঝেন, তারা জানেন নন-কনসেশনাল ঋণ মানে বাজার দরের কাছাকাছি সুদ, কম গ্রেস পিরিয়ড আর দ্রুত শোধ করার চাপ। সহজ কথায়, এই ঋণ বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য মোটেই আরামদায়ক না।

এডিবি থেকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার নেওয়া হচ্ছে ৪.১৩ শতাংশ সুদে, মেয়াদ মাত্র ১৫ বছর। এআইআইবি দিচ্ছে ২৫০ মিলিয়ন, সুদ প্রায় ৫.০৮ শতাংশ। ওএফআইডি থেকে ১০০ মিলিয়ন, সুদ সাড়ে তিন শতাংশের উপরে। এগুলোর গ্রান্ট এলিমেন্ট দেখলে গায়ে কাঁটা দেয়, এআইআইবির ক্ষেত্রে তা ঋণাত্মক, মানে এটা ঋণ না, এটা প্রায় বাণিজ্যিক ধার।

এখন প্রশ্ন হলো, এই টাকা কোথায় যাচ্ছে? ১.৩ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা হিসেবে রাখা হবে বলা হচ্ছে। বাজেট সহায়তা মানে হলো সরকারের চলতি খরচ মেটানো, কোনো অবকাঠামো না, কোনো উৎপাদনশীল বিনিয়োগ না। মানে কঠিন শর্তের ঋণ নিয়ে সংসার চালানো হচ্ছে। এর চেয়ে খারাপ আর্থিক ব্যবস্থাপনা কী হতে পারে?

ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে যে নির্বাচন হলো, সেটা নিয়ে দেশের মানুষ কী ভাবে সেটা সবাই জানে। বড় দলগুলো ছিল না, মানুষ ভোট দিতে যায়নি। সেই নির্বাচনে জিতে আসা সরকার এখন দেশের হয়ে কোটি কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করছে, কঠিন শর্তে। যে সরকারের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন আছে, সে সরকার দেশকে দশকের পর দশকের ঋণের জালে জড়িয়ে দিচ্ছে।

২০০১ থেকে ২০০৬, বিএনপির সেই শাসনামলে যারা ছিলেন, তারা ভুলে যাননি কীভাবে দেশের অর্থনীতিকে ঝাঁজরা করে ফেলা হয়েছিল। হাওয়া ভবনের ছায়ায় দেশ চলত, দুর্নীতিতে পর পর পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া ছিল সেই আমলের অর্জন। সেই একই দলের হাতে এখন আবার দেশের অর্থনীতি। আর তারা শুরু করেছে সেই পুরনো কায়দায়, ঋণ করো, খরচ চালাও, ভবিষ্যতের চিন্তা পরে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভাপতিত্ব করে এই ঋণগুলো পাস করিয়েছেন। নামটা বড়, কিন্তু দায়িত্বটা যে কতটা ভারী সেটা তারা বুঝছেন কিনা সন্দেহ। বাজেট সহায়তার জন্য বাণিজ্যিক হারে ঋণ নেওয়া, এটা কোনো সুশাসনের লক্ষণ না। এটা হলো হাতের কাছে যা পাওয়া যাচ্ছে তাই নিয়ে আপাতত পার পাওয়ার চেষ্টা।

জাইকার ৫০০ মিলিয়নের শর্তটা তুলনামূলক সহনীয়, ৩.০৫ শতাংশ সুদ, ৩০ বছর মেয়াদ, ১০ বছর গ্রেস। কিন্তু বাকিগুলো? এআইআইবির ঋণের গ্রান্ট এলিমেন্ট নেগেটিভ। ইআরডির নিজেদের বিশ্লেষণেই এটা উঠে এসেছে, তবুও অনুমোদন হয়ে গেল।

২০২৬ সালে বসে মনে হচ্ছে ২০০১ সালের একটা রিপ্লে চলছে, শুধু চরিত্রগুলো একটু বদলেছে। দেশ একই আছে, মানুষ একই আছে, আর ঋণের বোঝাটাও একইভাবে বাড়ছে।

গত ২৮ এপ্রিল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে বসে বিএনপি সরকার যা করল, সেটা সহজ বাংলায় বললে দাঁড়ায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাঁধে আরও একটা ভারী পাথর তুলে দেওয়া হলো। ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের নন-কনসেশনাল, অর্থাৎ কঠিন শর্তের ঋণ অনুমোদন দিয়েছে তারা। যারা একটু হিসাব বোঝেন, তারা জানেন নন-কনসেশনাল ঋণ মানে বাজার দরের কাছাকাছি সুদ, কম গ্রেস পিরিয়ড আর দ্রুত শোধ করার চাপ। সহজ কথায়, এই ঋণ বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য মোটেই আরামদায়ক না।

এডিবি থেকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার নেওয়া হচ্ছে ৪.১৩ শতাংশ সুদে, মেয়াদ মাত্র ১৫ বছর। এআইআইবি দিচ্ছে ২৫০ মিলিয়ন, সুদ প্রায় ৫.০৮ শতাংশ। ওএফআইডি থেকে ১০০ মিলিয়ন, সুদ সাড়ে তিন শতাংশের উপরে। এগুলোর গ্রান্ট এলিমেন্ট দেখলে গায়ে কাঁটা দেয়, এআইআইবির ক্ষেত্রে তা ঋণাত্মক, মানে এটা ঋণ না, এটা প্রায় বাণিজ্যিক ধার।

এখন প্রশ্ন হলো, এই টাকা কোথায় যাচ্ছে? ১.৩ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা হিসেবে রাখা হবে বলা হচ্ছে। বাজেট সহায়তা মানে হলো সরকারের চলতি খরচ মেটানো, কোনো অবকাঠামো না, কোনো উৎপাদনশীল বিনিয়োগ না। মানে কঠিন শর্তের ঋণ নিয়ে সংসার চালানো হচ্ছে। এর চেয়ে খারাপ আর্থিক ব্যবস্থাপনা কী হতে পারে?

ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে যে নির্বাচন হলো, সেটা নিয়ে দেশের মানুষ কী ভাবে সেটা সবাই জানে। বড় দলগুলো ছিল না, মানুষ ভোট দিতে যায়নি। সেই নির্বাচনে জিতে আসা সরকার এখন দেশের হয়ে কোটি কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করছে, কঠিন শর্তে। যে সরকারের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন আছে, সে সরকার দেশকে দশকের পর দশকের ঋণের জালে জড়িয়ে দিচ্ছে।

২০০১ থেকে ২০০৬, বিএনপির সেই শাসনামলে যারা ছিলেন, তারা ভুলে যাননি কীভাবে দেশের অর্থনীতিকে ঝাঁজরা করে ফেলা হয়েছিল। হাওয়া ভবনের ছায়ায় দেশ চলত, দুর্নীতিতে পর পর পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া ছিল সেই আমলের অর্জন। সেই একই দলের হাতে এখন আবার দেশের অর্থনীতি। আর তারা শুরু করেছে সেই পুরনো কায়দায়, ঋণ করো, খরচ চালাও, ভবিষ্যতের চিন্তা পরে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভাপতিত্ব করে এই ঋণগুলো পাস করিয়েছেন। নামটা বড়, কিন্তু দায়িত্বটা যে কতটা ভারী সেটা তারা বুঝছেন কিনা সন্দেহ। বাজেট সহায়তার জন্য বাণিজ্যিক হারে ঋণ নেওয়া, এটা কোনো সুশাসনের লক্ষণ না। এটা হলো হাতের কাছে যা পাওয়া যাচ্ছে তাই নিয়ে আপাতত পার পাওয়ার চেষ্টা।

জাইকার ৫০০ মিলিয়নের শর্তটা তুলনামূলক সহনীয়, ৩.০৫ শতাংশ সুদ, ৩০ বছর মেয়াদ, ১০ বছর গ্রেস। কিন্তু বাকিগুলো? এআইআইবির ঋণের গ্রান্ট এলিমেন্ট নেগেটিভ। ইআরডির নিজেদের বিশ্লেষণেই এটা উঠে এসেছে, তবুও অনুমোদন হয়ে গেল।

২০২৬ সালে বসে মনে হচ্ছে ২০০১ সালের একটা রিপ্লে চলছে, শুধু চরিত্রগুলো একটু বদলেছে। দেশ একই আছে, মানুষ একই আছে, আর ঋণের বোঝাটাও একইভাবে বাড়ছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ