দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ শব্দ ব্যবহার এবং বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই বিরোধ এখন রাজধানীসহ সারা দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের একটি সরকারি কলেজে দেয়ালে গ্রাফিতি অঙ্কনের সময় ‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করা নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে প্রথম সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই শব্দটির মাধ্যমে তাদের ইঙ্গিত করা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিবিরের কর্মীরা তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে শুরু করে— “তুই ছিলি লন্ডনে, গুপ্ত বলিস কাদেরকে?” এই স্লোগানকে কেন্দ্র করেই মূলত উত্তেজনার বারুদ জ্বলে ওঠে।
পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে দুই সংগঠনের কর্মসূচি চলাকালীন ব্যাপক সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় কলেজ চত্বর। এ সময় ছাত্রদলের কলেজ শাখা কার্যালয় ভাঙচুর এবং গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ক্যাম্পাসের রেশ এবার পৌঁছেছে খোদ রাজধানীতে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে শাহবাগ থানায় মামলা করতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির প্রতিবাদে মামলা করতে থানায় যায় ছাত্রদল। খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন ঢাবি শিবিরের প্রতিনিধি ও ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়েরসহ কয়েকজন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুই পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লে জুবায়েরসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
চট্টগ্রাম ও ঢাকার বাইরে রাজশাহী, কুড়িগ্রাম এবং নরসিংদীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও দুই সংগঠনের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, হল ও ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণের পুরনো রাজনীতি আবারও ফিরে আসায় তাদের শিক্ষা জীবন হুমকির মুখে পড়ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই ছাত্র সংগঠনের এই সংঘাত দ্রুত নিরসন না হলে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

