শিক্ষক লাঞ্ছনার কালো অধ্যায় ও একটি রাষ্ট্রীয় অপরাধের দলিল

ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সেই অনির্বাচিত প্রশাসনের আমলে শিক্ষাঙ্গনে যে মব সংস্কৃতি মাথাচাড়া দিয়েছিল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। বিদেশি দূতাবাসের অর্থায়নে লালিত কিছু ইসলামপন্থী জঙ্গি সংগঠন এবং প্রত্যক্ষ সামরিক মদদে যখন জুলাইয়ের নৈরাজ্যের মধ্য দিয়ে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হলো, তার প্রথম শিকার হয়েছিলেন এই দেশের শিক্ষক সমাজ।

অথচ প্রশ্নটা সোজা ছিল। কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে এদেশের আদালত আছে, প্রচলিত আইন আছে। কিন্তু সেই আইনের পথে না গিয়ে লাঠি হাতে মব তৈরি করে একজন প্রবীণ অধ্যাপক বা প্রধান শিক্ষককে ক্যাম্পাসে ঘিরে ধরে অপদস্থ করা, তার গায়ে হলুদ কাপড় চাপিয়ে দিয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার যে বীভৎস দৃশ্য সারা দেশ দেখেছে, সেটা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় বহন করে না। যারা এ কাজগুলো করেছিল তারা জানে, আর যারা ক্ষমতার মসনদে বসেও এগুলো বন্ধে ব্যর্থ হয়েছিল তারাও জানে, এটা ছিল শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার পূর্বপরিকল্পিত নীলনকশা।

সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়ে যাওয়া। সেই সময়কার পরিস্থিতি এমন এক সামাজিক বার্তা দিয়ে গেছে যে, কারো চেহারা পছন্দ না হলে কিংবা কারো রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে, তাকে রাস্তায় নামিয়ে এনে মব জাস্টিসের নামে শায়েস্তা করাই বিধেয়। শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ব্যক্তিরা যুগের পর যুগ ছাত্রসমাজের কাছে যে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত থাকতেন, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে সেই আসনটাকে কাদায় লেপ্টে দেওয়া হয়েছিল। যে শিক্ষকরা দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিক গড়ার কারিগর, তাদেরই যখন নিজের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে ভয় হয়, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্রের ভিত কতটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল।

বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে এটা স্পষ্ট, যে অন্তর্বর্তীকালীন অপশাসন শিক্ষকদের সুরক্ষা দিতে পারেনি, তারা শুধু ব্যর্থই নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে ঘটনার নীরব দর্শক বা পরোক্ষ মদদদাতা হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। তাদের সেই অ-সরকারের সময়ে যেসব গুণী শিক্ষক জোরপূর্বক ক্যাম্পাসছাড়া হয়েছেন, তারা এখনো চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন বা কলেজের অধ্যক্ষকে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রের কত বছরের শ্রম আর অর্থ ব্যয় হয়, তার কোনো হিসাব কি সেই সময় রাখা হয়েছিল? পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের পেছনে রাষ্ট্র যে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে, স্রেফ একদল সন্ত্রাসীর চিৎকারে সেই বিনিয়োগকে বৃথা যেতে দেওয়া মানে রাষ্ট্রীয় সম্পদের চরম অপচয়।

এখন যেহেতু নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আছে, প্রত্যাশা এটাই যে সরকার এই বাধাগুলো নিজ দায়িত্বে চিহ্নিত করবে। শিক্ষকদের ফিরিয়ে আনার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল বা সেই পুরনো মবের দোসররা যাতে আবার মাথাচাড়া দিতে না পারে, সেই নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে বলিষ্ঠ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। প্রতিটি উপজেলায় গিয়ে খোঁজ নিতে হবে, কে কোথায় বসে আছেন, কেন ক্লাস নিতে পারছেন না। প্রয়োজনে প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি করে সেই সব অন্ধকার শক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে, যারা আজও একজন সম্মানিত শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে দিচ্ছে না।

মনে রাখা জরুরি, শিক্ষকের এই মর্যাদাহানি শুধু ব্যক্তি বিশেষের উপর আঘাত নয়। এটা পুরো শিক্ষাব্যবস্থা এবং সভ্যতার উপর আঘাত। একজন শিক্ষকের আত্মসম্মান ফিরিয়ে দেওয়া মানে আগামী প্রজন্মের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া যে বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূত মব সংস্কৃতির কোনো স্থান নেই। সেই ইউনূস সরকারকে যতই বিদেশি রাষ্ট্র ও জঙ্গি গোষ্ঠী হাততালি দিয়ে সমর্থন জানাক না কেন, বাংলাদেশের জনগণ ভালো করেই জানে, শিক্ষকদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই কেবল শিক্ষাঙ্গনের সেই কলঙ্কিত অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটানো সম্ভব। আর সেই দায়িত্ব বর্তমান নির্বাচিত সরকারকেই এখন নিতে হবে, নিঃসন্দেহে এবং অত্যন্ত কঠোর হাতে।

ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সেই অনির্বাচিত প্রশাসনের আমলে শিক্ষাঙ্গনে যে মব সংস্কৃতি মাথাচাড়া দিয়েছিল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। বিদেশি দূতাবাসের অর্থায়নে লালিত কিছু ইসলামপন্থী জঙ্গি সংগঠন এবং প্রত্যক্ষ সামরিক মদদে যখন জুলাইয়ের নৈরাজ্যের মধ্য দিয়ে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হলো, তার প্রথম শিকার হয়েছিলেন এই দেশের শিক্ষক সমাজ।

অথচ প্রশ্নটা সোজা ছিল। কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে এদেশের আদালত আছে, প্রচলিত আইন আছে। কিন্তু সেই আইনের পথে না গিয়ে লাঠি হাতে মব তৈরি করে একজন প্রবীণ অধ্যাপক বা প্রধান শিক্ষককে ক্যাম্পাসে ঘিরে ধরে অপদস্থ করা, তার গায়ে হলুদ কাপড় চাপিয়ে দিয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার যে বীভৎস দৃশ্য সারা দেশ দেখেছে, সেটা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় বহন করে না। যারা এ কাজগুলো করেছিল তারা জানে, আর যারা ক্ষমতার মসনদে বসেও এগুলো বন্ধে ব্যর্থ হয়েছিল তারাও জানে, এটা ছিল শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার পূর্বপরিকল্পিত নীলনকশা।

সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়ে যাওয়া। সেই সময়কার পরিস্থিতি এমন এক সামাজিক বার্তা দিয়ে গেছে যে, কারো চেহারা পছন্দ না হলে কিংবা কারো রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে, তাকে রাস্তায় নামিয়ে এনে মব জাস্টিসের নামে শায়েস্তা করাই বিধেয়। শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ব্যক্তিরা যুগের পর যুগ ছাত্রসমাজের কাছে যে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত থাকতেন, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে সেই আসনটাকে কাদায় লেপ্টে দেওয়া হয়েছিল। যে শিক্ষকরা দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিক গড়ার কারিগর, তাদেরই যখন নিজের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে ভয় হয়, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্রের ভিত কতটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল।

বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে এটা স্পষ্ট, যে অন্তর্বর্তীকালীন অপশাসন শিক্ষকদের সুরক্ষা দিতে পারেনি, তারা শুধু ব্যর্থই নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে ঘটনার নীরব দর্শক বা পরোক্ষ মদদদাতা হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। তাদের সেই অ-সরকারের সময়ে যেসব গুণী শিক্ষক জোরপূর্বক ক্যাম্পাসছাড়া হয়েছেন, তারা এখনো চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন বা কলেজের অধ্যক্ষকে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রের কত বছরের শ্রম আর অর্থ ব্যয় হয়, তার কোনো হিসাব কি সেই সময় রাখা হয়েছিল? পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের পেছনে রাষ্ট্র যে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে, স্রেফ একদল সন্ত্রাসীর চিৎকারে সেই বিনিয়োগকে বৃথা যেতে দেওয়া মানে রাষ্ট্রীয় সম্পদের চরম অপচয়।

এখন যেহেতু নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আছে, প্রত্যাশা এটাই যে সরকার এই বাধাগুলো নিজ দায়িত্বে চিহ্নিত করবে। শিক্ষকদের ফিরিয়ে আনার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল বা সেই পুরনো মবের দোসররা যাতে আবার মাথাচাড়া দিতে না পারে, সেই নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে বলিষ্ঠ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। প্রতিটি উপজেলায় গিয়ে খোঁজ নিতে হবে, কে কোথায় বসে আছেন, কেন ক্লাস নিতে পারছেন না। প্রয়োজনে প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি করে সেই সব অন্ধকার শক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে, যারা আজও একজন সম্মানিত শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে দিচ্ছে না।

মনে রাখা জরুরি, শিক্ষকের এই মর্যাদাহানি শুধু ব্যক্তি বিশেষের উপর আঘাত নয়। এটা পুরো শিক্ষাব্যবস্থা এবং সভ্যতার উপর আঘাত। একজন শিক্ষকের আত্মসম্মান ফিরিয়ে দেওয়া মানে আগামী প্রজন্মের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া যে বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূত মব সংস্কৃতির কোনো স্থান নেই। সেই ইউনূস সরকারকে যতই বিদেশি রাষ্ট্র ও জঙ্গি গোষ্ঠী হাততালি দিয়ে সমর্থন জানাক না কেন, বাংলাদেশের জনগণ ভালো করেই জানে, শিক্ষকদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই কেবল শিক্ষাঙ্গনের সেই কলঙ্কিত অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটানো সম্ভব। আর সেই দায়িত্ব বর্তমান নির্বাচিত সরকারকেই এখন নিতে হবে, নিঃসন্দেহে এবং অত্যন্ত কঠোর হাতে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ