ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ল। অর্থাৎ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়া একটা ট্রাকের জ্বালানি খরচ বাড়ল বড়জোর দেড় হাজার টাকা। কিন্তু সেই একই ট্রাকের ভাড়া রাতারাতি বেড়ে গেল ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা। হিসাবটা মেলানো যাচ্ছে না কোনোভাবেই।
সরকার বলছে ভর্তুকির চাপ কমাতে দাম বাড়াতে হয়েছে। যুক্তিটা একেবারে ফেলে দেওয়ার নয়। কিন্তু দাম বাড়ানোর পরে বাজারে কী হচ্ছে সেটা দেখার দায়িত্বও তো সরকারের। সেই দায়িত্ব কোথায় গেল?
পরিবহন মালিকরা সুযোগ বুঝে ভাড়া তিনগুণ বাড়িয়ে দিলেন, আর সরকার চুপ করে বসে রইল। বাজারে সবজি, ডিম, চাল, ডাল, মাছ, মশলা, কিছুই বাদ নেই। পাইকারি ব্যবসায়ীরা নিজেরাই বলছেন, ডিমের দামে জ্বালানির প্রভাব পিসপ্রতি ২০ পয়সার বেশি হওয়ার কথা না। কিন্তু বাজারে দাম বেড়েছে আড়াই টাকা পর্যন্ত। মিনিকেট চাল ৭৮ থেকে সরাসরি ৮৫ টাকায় উঠে গেছে। মসুর ডাল কেজিতে ১০ টাকা বাড়ল। এলাচের দাম কোথাও কোথাও দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
এই ফাঁকে কে লাভ করছে? মাঝখানের ব্যবসায়ীরা। জ্বালানির দাম বাড়াটাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে তারা নিজেদের মুনাফা বাড়িয়ে নিচ্ছেন, আর সেটার বোঝা গিয়ে পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাঁধে।
বাংলাদেশ ট্রাক মালিক সমিতি বলছে জ্বালানি সংকটের কারণে গাড়ি কম চলছে, তাই ভাড়া বেশি। এটা আংশিক সত্যি হতে পারে। কিন্তু পুরো সত্যি না। বাজারে যখন কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, তখন সংকট আসল হোক বা তৈরি করা হোক, সুযোগসন্ধানীরা সেটা কাজে লাগাবেই।
সমস্যাটা শুধু দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে না। সমস্যাটা হলো দাম বাড়ানোর পরে কী করতে হবে সেটার কোনো পরিকল্পনা নেই। বাজার মনিটরিং নেই, ভাড়া নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই, মজুতদারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেই। ঘোষণা দিয়ে দাম বাড়ানো হয়, তারপর বাজার নিজের গতিতে চলতে থাকে। সেই গতিটা সবসময় সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যায়।
মাসের শেষে যে মানুষটা হিসাব করে বাজার করেন, তার কাছে এই তর্কগুলো অর্থহীন। তিনি শুধু জানেন গত সপ্তাহে যা কিনতেন এক হাজার টাকায়, এই সপ্তাহে সেটার জন্য দিতে হচ্ছে আরও বেশি। আর মাস শেষে বেতন বাড়েনি এক টাকাও।

