ভাঙো, পোড়াও, পার পেয়ে যাও

২০২৪ সালের আগস্টের শেষ থেকে চলতি এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে একটার পর একটা মাজারে হামলা হয়েছে। ভেঙেছে, পুড়েছে, লুট হয়েছে। তিনজন মানুষ মারা গেছেন। দুইশোরও বেশি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে নারীও আছেন। এই সংখ্যাগুলো কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধের পরিসংখ্যান না, এগুলো একটা দেশের ভেতরে ঘটে যাওয়া নিয়মিত সহিংসতার হিসাব।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে যা হয়েছে সেটা পড়লে গা শিউরে ওঠে। নুরাল পাগলাকে দাফন করার তেরো দিন পর কবর খুঁড়ে মরদেহ বের করা হয়েছে। তারপর উল্লাস করতে করতে প্রায় এক কিলোমিটার নিয়ে গিয়ে আগুনে পোড়ানো হয়েছে। দেহাবশেষ পদ্মায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। এটা কোনো আবেগের বশে হওয়া ঘটনা না। কয়েক হাজার মানুষ মিলে সারাদিন ধরে এটা করেছে। আর তাঁর পরিবার সাত মাস পরেও রাতে নিজের বাড়িতে থাকতে পারছে না।

শেরপুরে মুর্শিদপুর দরবার শরিফে হামলার পর সেখান থেকে গরু-ছাগল, ধান-চাল, পুকুরের মাছ, ঘরের টিন পর্যন্ত নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। সেই দরবার এখনো পরিত্যক্ত পড়ে আছে। ময়মনসিংহের গৌরীপুরে প্রাচীন মাজারে গোবর আর মলমূত্র ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লার হোমনায় একটা গ্রামেই চারটা মাজার একে একে ভাঙা হয়েছে।

এই পুরো সময়টায় মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশ চালিয়েছে। সরকারের দায়িত্ব ছিল মানুষের জানমাল রক্ষা করা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা। কিন্তু হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি আর মাকামের তথ্য বলছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো মামলা হয়নি, কেউ গ্রেপ্তার হয়নি, তদন্তের কোনো অগ্রগতি নেই। নাঙ্গলকোটে আটটা মাজার ভাঙার পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে, কিন্তু মামলা হয়নি কারণ ভুক্তভোগীরা রাজি হননি। এই “রাজি না হওয়া”র পেছনে যে কী পরিমাণ ভয় কাজ করেছে সেটা আলাদা করে বলার দরকার নেই।

যখন অপরাধীরা দেখে যে হামলা করলে কিছু হয় না, তখন তারা আবার হামলা করে। এটা সহজ হিসাব। আর সেটাই হয়েছে। একই মাজারে একাধিকবার আক্রমণ হয়েছে।

২০২৬ এর ফেব্রুয়ারি থেকে বিএনপি এখন ক্ষমতায়। গত শনিবার কুষ্টিয়ায় শামীম রেজাকে পিটিয়ে কুপিয়ে মেরে তাঁর আস্তানায় আগুন দেওয়া হয়েছে। এটা বিএনপির আমলে ঘটেছে। তাহলে কী বদলাল? আগের সরকারের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করা যত সহজ, নিজেরা ক্ষমতায় এসে সেই একই কাজ করা আরো বড় ব্যর্থতা।

মাজারে হামলার পেছনে ধর্মীয় মতাদর্শগত বিরোধ থাকুক বা রাজনৈতিক সুযোগসন্ধান থাকুক, এটা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। যে রাষ্ট্র নিজের নাগরিকের কবর পর্যন্ত রক্ষা করতে পারে না, সে রাষ্ট্র কীসের রক্ষক? বাংলাদেশে মাজার, দরবার, বাউলদের একটা দীর্ঘ ঐতিহ্য আছে। এটা শুধু ধর্মীয় বিষয় না, এটা এই ভূখণ্ডের পরিচয়ের অংশ। তাদের ওপর হামলা মানে বাংলাদেশের শত বছরের সাংস্কৃতিক শিকড়ের ওপর সরাসরি আক্রমণ। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, এই দায় তাদেরই।

২০২৪ সালের আগস্টের শেষ থেকে চলতি এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে একটার পর একটা মাজারে হামলা হয়েছে। ভেঙেছে, পুড়েছে, লুট হয়েছে। তিনজন মানুষ মারা গেছেন। দুইশোরও বেশি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে নারীও আছেন। এই সংখ্যাগুলো কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধের পরিসংখ্যান না, এগুলো একটা দেশের ভেতরে ঘটে যাওয়া নিয়মিত সহিংসতার হিসাব।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে যা হয়েছে সেটা পড়লে গা শিউরে ওঠে। নুরাল পাগলাকে দাফন করার তেরো দিন পর কবর খুঁড়ে মরদেহ বের করা হয়েছে। তারপর উল্লাস করতে করতে প্রায় এক কিলোমিটার নিয়ে গিয়ে আগুনে পোড়ানো হয়েছে। দেহাবশেষ পদ্মায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। এটা কোনো আবেগের বশে হওয়া ঘটনা না। কয়েক হাজার মানুষ মিলে সারাদিন ধরে এটা করেছে। আর তাঁর পরিবার সাত মাস পরেও রাতে নিজের বাড়িতে থাকতে পারছে না।

শেরপুরে মুর্শিদপুর দরবার শরিফে হামলার পর সেখান থেকে গরু-ছাগল, ধান-চাল, পুকুরের মাছ, ঘরের টিন পর্যন্ত নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। সেই দরবার এখনো পরিত্যক্ত পড়ে আছে। ময়মনসিংহের গৌরীপুরে প্রাচীন মাজারে গোবর আর মলমূত্র ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লার হোমনায় একটা গ্রামেই চারটা মাজার একে একে ভাঙা হয়েছে।

এই পুরো সময়টায় মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশ চালিয়েছে। সরকারের দায়িত্ব ছিল মানুষের জানমাল রক্ষা করা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা। কিন্তু হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি আর মাকামের তথ্য বলছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো মামলা হয়নি, কেউ গ্রেপ্তার হয়নি, তদন্তের কোনো অগ্রগতি নেই। নাঙ্গলকোটে আটটা মাজার ভাঙার পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে, কিন্তু মামলা হয়নি কারণ ভুক্তভোগীরা রাজি হননি। এই “রাজি না হওয়া”র পেছনে যে কী পরিমাণ ভয় কাজ করেছে সেটা আলাদা করে বলার দরকার নেই।

যখন অপরাধীরা দেখে যে হামলা করলে কিছু হয় না, তখন তারা আবার হামলা করে। এটা সহজ হিসাব। আর সেটাই হয়েছে। একই মাজারে একাধিকবার আক্রমণ হয়েছে।

২০২৬ এর ফেব্রুয়ারি থেকে বিএনপি এখন ক্ষমতায়। গত শনিবার কুষ্টিয়ায় শামীম রেজাকে পিটিয়ে কুপিয়ে মেরে তাঁর আস্তানায় আগুন দেওয়া হয়েছে। এটা বিএনপির আমলে ঘটেছে। তাহলে কী বদলাল? আগের সরকারের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করা যত সহজ, নিজেরা ক্ষমতায় এসে সেই একই কাজ করা আরো বড় ব্যর্থতা।

মাজারে হামলার পেছনে ধর্মীয় মতাদর্শগত বিরোধ থাকুক বা রাজনৈতিক সুযোগসন্ধান থাকুক, এটা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। যে রাষ্ট্র নিজের নাগরিকের কবর পর্যন্ত রক্ষা করতে পারে না, সে রাষ্ট্র কীসের রক্ষক? বাংলাদেশে মাজার, দরবার, বাউলদের একটা দীর্ঘ ঐতিহ্য আছে। এটা শুধু ধর্মীয় বিষয় না, এটা এই ভূখণ্ডের পরিচয়ের অংশ। তাদের ওপর হামলা মানে বাংলাদেশের শত বছরের সাংস্কৃতিক শিকড়ের ওপর সরাসরি আক্রমণ। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, এই দায় তাদেরই।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ