শ্রমিকের ঘামে সমৃদ্ধ দেশ, কিন্তু ক্ষমতায় এখন শ্রমিকবিরোধী জোট: আওয়ামী লীগই মেহনতি মানুষের আসল আশ্রয়স্থল

জাফর তালুকদার
আজকের বাংলাদেশে খেটে খাওয়া মানুষ চরম সংকটে। যে শ্রমিকদের শ্রম আর ঘামে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে, বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে সেই শ্রমিকদের কপালেই জুটেছে চরম অবহেলা ও নির্যাতন। অধিকারের কথা বললেই আজ শ্রমিকদের দিকে ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে পুলিশের লাঠি আর টিয়ারশেল। বিএনপি সরকার প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তারা সবসময়ই সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহলের পক্ষে অবস্থান নেয়।

ক্ষমতায় এসেই বিএনপি সরকার জনগণের মৌলিক অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি একপ্রকার ভুলে গেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে যখন শ্রমিকরা তাদের পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে ন্যূনতম মজুরি এবং বকেয়া বেতনের দাবি তুলছে, তখন এই সরকারের তরফ থেকে কোনো সহানুভূতিশীল পদক্ষেপ আসেনি। উল্টো, স্বৈরাচারী কায়দায় শ্রমিকদের কণ্ঠরোধ করতে নামানো হয়েছে পুলিশ, প্রশাসন এবং সরকারদলীয় ক্যাডার বাহিনীকে। রাজপথে ন্যায্য দাবি নিয়ে নামা শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত করা হচ্ছে পিচঢালা পথ। টিয়ারশেল, রাবার বুলেট আর নির্বিচারে লাঠিপেটার মাধ্যমে প্রমাণ করা হয়েছে যে, বর্তমান সরকার শ্রমিকবান্ধব তো নয়ই, বরং সরাসরি মেহনতি মানুষের স্বার্থবিরোধী একটি শক্তি।

এর বিপরীতে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময়ই এ দেশের শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের পক্ষে এক অটল ও স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে এসেছে। ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, যখনই আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় দায়িত্ব পালন করেছে, তখনই শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে যুগান্তকারী ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে:

মজুরি বৃদ্ধি ও পুনর্বিন্যাস: আওয়ামী লীগ সরকারই পোশাক শ্রমিকসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কয়েক দফায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করেছে, যাতে তারা মুদ্রাস্ফীতির বাজারে টিকে থাকতে পারেন।

শ্রম আইন সংশোধন ও আইনি অধিকার: ২০০৬ সালের শ্রম আইনকে আরও যুগোপযোগী করে শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার, এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি আইনি কাঠামোর আওতায় জোরদার করা হয়েছিল।

মাতৃত্বকালীন ও স্বাস্থ্যগত সুবিধা: নারী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ বাড়ানো এবং তা বাধ্যতামূলক করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।

সামাজিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন: বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের জন্য রেশনের ব্যবস্থা, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন এবং বড় বড় শিল্প দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছিল আওয়ামী লীগ।

আজকে বিএনপি সরকারে থেকে যে কায়দায় শ্রমিকদের পেটে লাথি মারছে এবং তাদের আন্দোলনকে দমন করতে বা সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে, তা তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বই প্রকাশ করে। মুখে গণতন্ত্র ও জনকল্যাণের কথা বললেও তাদের নীতি সবসময়ই ধনিক শ্রেণি ও লুটেরা পুঁজিপতিদের পক্ষে গেছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সবসময় বিশ্বাস করেছে যে—শ্রমিক বাঁচলে অর্থনীতি বাঁচবে, আর অর্থনীতি বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।

আজকের এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে দেশের মেহনতি মানুষ পরিষ্কার বুঝতে পেরেছে যে, তাদের অধিকার রক্ষা কিংবা তাদের ভাগ্যোন্নয়নে বিএনপি সরকারের কোনো সদিচ্ছা নেই। শ্রমিকদের প্রকৃত অধিকার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে অতীতে যেমন আওয়ামী লীগ পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও এই মেহনতি মানুষের রাজনৈতিক মুক্তি আসবে কেবল আওয়ামী লীগের আদর্শ ও নেতৃত্বেরই হাত ধরে।⁩

লেখক: সহ-সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ।

জাফর তালুকদার
আজকের বাংলাদেশে খেটে খাওয়া মানুষ চরম সংকটে। যে শ্রমিকদের শ্রম আর ঘামে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে, বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে সেই শ্রমিকদের কপালেই জুটেছে চরম অবহেলা ও নির্যাতন। অধিকারের কথা বললেই আজ শ্রমিকদের দিকে ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে পুলিশের লাঠি আর টিয়ারশেল। বিএনপি সরকার প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তারা সবসময়ই সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহলের পক্ষে অবস্থান নেয়।

ক্ষমতায় এসেই বিএনপি সরকার জনগণের মৌলিক অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি একপ্রকার ভুলে গেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে যখন শ্রমিকরা তাদের পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে ন্যূনতম মজুরি এবং বকেয়া বেতনের দাবি তুলছে, তখন এই সরকারের তরফ থেকে কোনো সহানুভূতিশীল পদক্ষেপ আসেনি। উল্টো, স্বৈরাচারী কায়দায় শ্রমিকদের কণ্ঠরোধ করতে নামানো হয়েছে পুলিশ, প্রশাসন এবং সরকারদলীয় ক্যাডার বাহিনীকে। রাজপথে ন্যায্য দাবি নিয়ে নামা শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত করা হচ্ছে পিচঢালা পথ। টিয়ারশেল, রাবার বুলেট আর নির্বিচারে লাঠিপেটার মাধ্যমে প্রমাণ করা হয়েছে যে, বর্তমান সরকার শ্রমিকবান্ধব তো নয়ই, বরং সরাসরি মেহনতি মানুষের স্বার্থবিরোধী একটি শক্তি।

এর বিপরীতে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময়ই এ দেশের শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের পক্ষে এক অটল ও স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে এসেছে। ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, যখনই আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় দায়িত্ব পালন করেছে, তখনই শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে যুগান্তকারী ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে:

মজুরি বৃদ্ধি ও পুনর্বিন্যাস: আওয়ামী লীগ সরকারই পোশাক শ্রমিকসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কয়েক দফায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করেছে, যাতে তারা মুদ্রাস্ফীতির বাজারে টিকে থাকতে পারেন।

শ্রম আইন সংশোধন ও আইনি অধিকার: ২০০৬ সালের শ্রম আইনকে আরও যুগোপযোগী করে শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার, এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি আইনি কাঠামোর আওতায় জোরদার করা হয়েছিল।

মাতৃত্বকালীন ও স্বাস্থ্যগত সুবিধা: নারী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ বাড়ানো এবং তা বাধ্যতামূলক করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।

সামাজিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন: বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের জন্য রেশনের ব্যবস্থা, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন এবং বড় বড় শিল্প দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছিল আওয়ামী লীগ।

আজকে বিএনপি সরকারে থেকে যে কায়দায় শ্রমিকদের পেটে লাথি মারছে এবং তাদের আন্দোলনকে দমন করতে বা সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে, তা তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বই প্রকাশ করে। মুখে গণতন্ত্র ও জনকল্যাণের কথা বললেও তাদের নীতি সবসময়ই ধনিক শ্রেণি ও লুটেরা পুঁজিপতিদের পক্ষে গেছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সবসময় বিশ্বাস করেছে যে—শ্রমিক বাঁচলে অর্থনীতি বাঁচবে, আর অর্থনীতি বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।

আজকের এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে দেশের মেহনতি মানুষ পরিষ্কার বুঝতে পেরেছে যে, তাদের অধিকার রক্ষা কিংবা তাদের ভাগ্যোন্নয়নে বিএনপি সরকারের কোনো সদিচ্ছা নেই। শ্রমিকদের প্রকৃত অধিকার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে অতীতে যেমন আওয়ামী লীগ পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও এই মেহনতি মানুষের রাজনৈতিক মুক্তি আসবে কেবল আওয়ামী লীগের আদর্শ ও নেতৃত্বেরই হাত ধরে।⁩

লেখক: সহ-সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ