আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ধসিয়ে অপরিপক্ক তারেকের অপশাসনে গভীর সংকটে দেশ; ফের পুরোনো দুর্নীতির রাজত্ব

ফরহাদ শিকদার
স্বকীয় মহিমায় উজ্জ্বল বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও সমৃদ্ধির চাকা গত দুই বছরে সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দিয়ে আজ দেশকে এক মহাসংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত ও অপেশাদার তারেক রহমানের বিএনপি সরকার। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বিগত ১৭ বছর ধরে যে বাংলাদেশ ছিল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা ও মেগা অবকাঠামোগত উন্নয়নের রোল মডেল, দেশি-বিদেশি এক গভীর ষড়যন্ত্র ও মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে সেই অগ্রযাত্রাকে নির্মমভাবে থমকে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতার শেষ দিন পর্যন্ত দেশকে যে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য, রাসায়নিক সার ও প্রয়োজনীয় গম রেখে গিয়েছিল, তা দিয়েই কোনোমতে পার হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাস এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের বিগত ৮ মাস। শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া সেই সঞ্চয় ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর ভর করেই এতগুলো মাস পার করলেও নিজেদের দুর্নীতি, অপশাসন ও অদূরদর্শিতার কারণে আজ দেশে চরম অর্থনৈতিক ও খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে।

দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যখন অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে সাধারণ মানুষের জনজীবন চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্দশার মুখে পড়েছে, ঠিক সেই সময়ে বর্তমান বিএনপি সরকার দেশের মূল সংকটগুলোর সমাধানের দিকে নজর না দিয়ে মেতে উঠেছে ইতিহাস বিকৃতি ও নোংরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার খেলায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত-৩ শাখা থেকে গত ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ইস্যুকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৫টি জাহাজের নামকরণ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চার জাতীয় নেতার নাম মুছে ফেলা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী সচিব মাসফিকা হোসেন স্বাক্ষরিত ওই বিতর্কিত প্রজ্ঞাপনে বিসিজিএস জয় বাংলা-এর নাম পরিবর্তন করে বিসিজিএস অদম্য বাংলা করা হয়েছে। একইভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মূল কান্ডারি চার জাতীয় নেতার নামে থাকা জাহাজ বিসিজিএস সৈয়দ নজরুলের নাম পরিবর্তন করে বিসিজিএস ফিরোজ কবীর, বিসিজিএস তাজউদ্দীনের নাম পরিবর্তন করে বিসিজিএস নুরুল ইসলাম, বিসিজিএস মনসুর আলীর নাম পরিবর্তন করে বিসিজিএস এম হুমায়ুন কবীর এবং বিসিজিএস কামরুজ্জামানের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে বিসিজিএস আশরাফ সিদ্দিকী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল স্থপতিদের অপমান করে অন্তর্বর্তী সরকারের শুরু করা হঠকারী ঐতিহ্যের অনুকরণে প্রদেয় এই সিদ্ধান্ত বর্তমান বিএনপি সরকারের অপরিপক্কতা ও দীনতার চরম প্রকাশ ঘটিয়েছে।

প্রশাসন পরিচালনার এই চরম রাজনৈতিক অপকৌশল ও অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে দলটির সর্বোচ্চ পর্যায়ে বসে থাকা তারেক রহমানের দিকনির্দেশনাহীন, অসংলগ্ন ও অপরিপক্ক নেতৃত্ব। দীর্ঘ দিন ধরে দেশের বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত পন্থায় দেশ চালাতে গিয়ে তিনি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ দেউলিয়া করে তুলেছেন। রাষ্ট্রের অখণ্ডতা, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও সাধারণ মানুষের পেটের ভাতের ব্যবস্থা করার মতো কোনো কার্যকর কৌশল বা প্রজ্ঞা তার নেতৃত্বের মধ্যে নেই। তার এই অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের মাশুল আজ গুনতে হচ্ছে সমগ্র দেশবাসীকে। সংকটকালে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার পরিবর্তে জাতীয় বীরদের অবদানকে মুছে ফেলার যে দেউলিয়াপনা বিএনপি সরকার দেখাচ্ছে, তা তাদের রাজনৈতিক দৈন্যকেই প্রকাশ করে।

বিগত ৮ মাসে দুর্নীতির পুরোনো সাম্রাজ্য ও ‘হাওয়া ভবন’ কেন্দ্রিক হরিলুটের সংস্কৃতি পুনরায় সচল হয়ে উঠেছে। শেখ হাসিনার ১৭ বছরের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে ধ্বংস করে বিএনপি আবার তাদের অতীতের দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনেছে। দেশের অর্থ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হলেও সেই অর্থনৈতিক চাকা সচল করার বদলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ লোপাট ও বিক্রির আত্মঘাতী চক্রান্তে মেতেছে তারা। রিজার্ভ থেকে ১০ হাজার কোটি ডলার বিক্রির মতো সিদ্ধান্ত দেশের আর্থিক খাতকে চিরতরে ধসিয়ে দেওয়ার শামিল। সরকারি প্রকল্প, সেবা খাত ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য থেকে পুনরায় চাঁদা ও সিন্ডিকেট রাজ কায়েম করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে সম্পদ লুণ্ঠনের প্রতিযোগিতা।

আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া মজুত ভাণ্ডার নিঃশেষ হয়ে আসায় এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের চরম অপব্যবস্থাপনার কারণে আজ খাদ্য নিরাপত্তা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। মেগা প্রজেক্টের নামে ভুয়া ঋণপত্র ও হরিলুটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে ভেন্টিলেশনে পাঠিয়ে এখন তারা ব্যর্থতা ঢাকতে জাতীয় ইতিহাসের সংবেদনশীল ইস্যু নিয়ে জলঘোলা করছে। শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশকে আজ যে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, অচিরেই জনগণ এই হরিলুট, অদক্ষতা ও অপরাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর ও সমুচিত জবাব দিতে বাধ্য হবে।

লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা

ফরহাদ শিকদার
স্বকীয় মহিমায় উজ্জ্বল বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও সমৃদ্ধির চাকা গত দুই বছরে সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দিয়ে আজ দেশকে এক মহাসংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত ও অপেশাদার তারেক রহমানের বিএনপি সরকার। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বিগত ১৭ বছর ধরে যে বাংলাদেশ ছিল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা ও মেগা অবকাঠামোগত উন্নয়নের রোল মডেল, দেশি-বিদেশি এক গভীর ষড়যন্ত্র ও মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে সেই অগ্রযাত্রাকে নির্মমভাবে থমকে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতার শেষ দিন পর্যন্ত দেশকে যে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য, রাসায়নিক সার ও প্রয়োজনীয় গম রেখে গিয়েছিল, তা দিয়েই কোনোমতে পার হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাস এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের বিগত ৮ মাস। শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া সেই সঞ্চয় ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর ভর করেই এতগুলো মাস পার করলেও নিজেদের দুর্নীতি, অপশাসন ও অদূরদর্শিতার কারণে আজ দেশে চরম অর্থনৈতিক ও খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে।

দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যখন অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে সাধারণ মানুষের জনজীবন চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্দশার মুখে পড়েছে, ঠিক সেই সময়ে বর্তমান বিএনপি সরকার দেশের মূল সংকটগুলোর সমাধানের দিকে নজর না দিয়ে মেতে উঠেছে ইতিহাস বিকৃতি ও নোংরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার খেলায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত-৩ শাখা থেকে গত ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ইস্যুকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৫টি জাহাজের নামকরণ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চার জাতীয় নেতার নাম মুছে ফেলা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী সচিব মাসফিকা হোসেন স্বাক্ষরিত ওই বিতর্কিত প্রজ্ঞাপনে বিসিজিএস জয় বাংলা-এর নাম পরিবর্তন করে বিসিজিএস অদম্য বাংলা করা হয়েছে। একইভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মূল কান্ডারি চার জাতীয় নেতার নামে থাকা জাহাজ বিসিজিএস সৈয়দ নজরুলের নাম পরিবর্তন করে বিসিজিএস ফিরোজ কবীর, বিসিজিএস তাজউদ্দীনের নাম পরিবর্তন করে বিসিজিএস নুরুল ইসলাম, বিসিজিএস মনসুর আলীর নাম পরিবর্তন করে বিসিজিএস এম হুমায়ুন কবীর এবং বিসিজিএস কামরুজ্জামানের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে বিসিজিএস আশরাফ সিদ্দিকী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল স্থপতিদের অপমান করে অন্তর্বর্তী সরকারের শুরু করা হঠকারী ঐতিহ্যের অনুকরণে প্রদেয় এই সিদ্ধান্ত বর্তমান বিএনপি সরকারের অপরিপক্কতা ও দীনতার চরম প্রকাশ ঘটিয়েছে।

প্রশাসন পরিচালনার এই চরম রাজনৈতিক অপকৌশল ও অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে দলটির সর্বোচ্চ পর্যায়ে বসে থাকা তারেক রহমানের দিকনির্দেশনাহীন, অসংলগ্ন ও অপরিপক্ক নেতৃত্ব। দীর্ঘ দিন ধরে দেশের বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত পন্থায় দেশ চালাতে গিয়ে তিনি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ দেউলিয়া করে তুলেছেন। রাষ্ট্রের অখণ্ডতা, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও সাধারণ মানুষের পেটের ভাতের ব্যবস্থা করার মতো কোনো কার্যকর কৌশল বা প্রজ্ঞা তার নেতৃত্বের মধ্যে নেই। তার এই অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের মাশুল আজ গুনতে হচ্ছে সমগ্র দেশবাসীকে। সংকটকালে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার পরিবর্তে জাতীয় বীরদের অবদানকে মুছে ফেলার যে দেউলিয়াপনা বিএনপি সরকার দেখাচ্ছে, তা তাদের রাজনৈতিক দৈন্যকেই প্রকাশ করে।

বিগত ৮ মাসে দুর্নীতির পুরোনো সাম্রাজ্য ও ‘হাওয়া ভবন’ কেন্দ্রিক হরিলুটের সংস্কৃতি পুনরায় সচল হয়ে উঠেছে। শেখ হাসিনার ১৭ বছরের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে ধ্বংস করে বিএনপি আবার তাদের অতীতের দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনেছে। দেশের অর্থ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হলেও সেই অর্থনৈতিক চাকা সচল করার বদলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ লোপাট ও বিক্রির আত্মঘাতী চক্রান্তে মেতেছে তারা। রিজার্ভ থেকে ১০ হাজার কোটি ডলার বিক্রির মতো সিদ্ধান্ত দেশের আর্থিক খাতকে চিরতরে ধসিয়ে দেওয়ার শামিল। সরকারি প্রকল্প, সেবা খাত ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য থেকে পুনরায় চাঁদা ও সিন্ডিকেট রাজ কায়েম করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে সম্পদ লুণ্ঠনের প্রতিযোগিতা।

আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া মজুত ভাণ্ডার নিঃশেষ হয়ে আসায় এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের চরম অপব্যবস্থাপনার কারণে আজ খাদ্য নিরাপত্তা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। মেগা প্রজেক্টের নামে ভুয়া ঋণপত্র ও হরিলুটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে ভেন্টিলেশনে পাঠিয়ে এখন তারা ব্যর্থতা ঢাকতে জাতীয় ইতিহাসের সংবেদনশীল ইস্যু নিয়ে জলঘোলা করছে। শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশকে আজ যে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, অচিরেই জনগণ এই হরিলুট, অদক্ষতা ও অপরাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর ও সমুচিত জবাব দিতে বাধ্য হবে।

লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা

আরো পড়ুন

সর্বশেষ