নিজেদের শাসনামলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দেউলিয়া অবস্থা, খুন-ধর্ষণ-মব হত্যা-গুমে রেকর্ড, অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মঞ্চে দাঁড়িয়ে গ্যাজাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নির্মূল করার পুরস্কার ঘোষণা দিয়ে!
ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর, মাত্র সাত মাসে সাত শ্রেণিতে ২১,৭৫৬ মামলা। খুন ১,৭৮৯। নারী-শিশু নির্যাতন ১১,১৬৫। পুলিশের ওপর হামলা ৩১৭। জানুয়ারি-আগস্টে ধর্ষণ ৩৩৯, দলবদ্ধ ধর্ষণ ১১৪, ধর্ষণের পর হত্যা ৪১। জুনে মব সহিংসতায় ৩১ নিহত, আগস্টে আরও ২৮। এইচআরএসএস বলছে জানুয়ারি-জুনে ৮৩০ ঘটনায় রাজনৈতিক সহিংসতায় ৫৬ নিহত, ৫,২৪৬ আহত। সংখ্যালঘু নিহত ৪৪। সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার ৩৮৩। আগস্টে নদী-খাল-জঙ্গল থেকে ৮৭টি অজ্ঞাত লাশ।
এই অবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ আওয়ামী লীগের দোসর ধরার পুরস্কার! যেন রক্তাক্ত মাঠে দাঁড়িয়ে গোলাপ বিলি করা হচ্ছে। পুলিশের ইন্টেলিজেন্স নিয়ে মন্ত্রীর গর্বের ভাষণ, অথচ একই পুলিশের হেফাজতে মৃত্যু, গুম, কারাগারে ৫৮ জনের মৃত্যুর হিসাব তার টেবিলে নেই।
২০০১-০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে রাজনৈতিক হত্যা, গুম, সংখ্যালঘু নির্যাতন, দুর্নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থা কেমন ছিল সেটা ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলা যায়নি। সেই বিএনপি ফের ক্ষমতায় এসে সাত মাসেই প্রমাণ করেছে তারা শাসন করতে এসেছে না, প্রতিশোধ নিতে এসেছে।
রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব কতটা প্রকট হলে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে যে দলের হাত ধরে, সেই দলকে সমূলে নিপাত করার ঘোষণা দিতে হয়? শেখ মুজিবের নামে এই দেশ, সেই দলকেই নির্মূল করার পুরস্কার ঘোষণা করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অথচ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে যে নির্বাচন করানো হলো সেটা যে নিজেই অবৈধ সেটা এখন বিএনপির নিজেরাই জানে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে যখন মন্ত্রী পুরস্কার ঘোষণা করতে থাকেন, তখন স্পষ্ট হয় এই সরকারের কাছে মানুষের নিরাপত্তা নয়, রাজনৈতিক প্রতিশোধই প্রধান কাজ।

