সংবিধানে সওয়ার হয়ে মোল্লাতন্ত্র চেপে বসতে যাচ্ছে দেশের বুকে স্থায়ীভাবে, অথচ দেশজুড়ে কেনো অস্বাভাবিক নীরবতা?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, সংবিধানে “আল্লাহর উপর পূর্ণ বিশ্বাস” ফিরিয়ে আনতে সংশোধনী আসছে। রাষ্ট্রের কাজ নাগরিকের নিরাপত্তা, চাকরি, দ্রব্যমূল্য আর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু ক্ষমতাসীন বিএনপির অগ্রাধিকারের তালিকায় উঠে এলো ঈমানের ঘোষণা। যে দেশ শুরু থেকেই ধর্মপ্রাণ মানুষের দেশ, সেখানে সংবিধানের পাতায় বিশ্বাসের সনদ বসানোর দরকারটা ঠিক কার? মানুষ তো নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, সংবিধান দেখে ঈমান আনে না। আসল দরকার তাঁদের, যাঁদের হাতে শাসন করার মতো কাজের রেকর্ড নেই, কিন্তু ধর্মের নামে হাততালি কুড়ানোর অভ্যাস আছে।

এটা আসলে ধর্মের প্রশ্নই নয়, ক্ষমতার হিসাব। বিএনপি জানে, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ঠেকাতে ব্যর্থতার জবাব দেওয়া কঠিন, কিন্তু আল্লাহর নামে আবেগ জাগানো সহজ। আর পাশে বসা জামায়াতে ইসলামীর জন্য এটা তো ঈদের চাঁদের মতো! সংসদে ক্ষমতার ভাগ পাওয়া দলটি যা বছরের পর বছর চেয়েছে, সেটা এখন বিএনপির হাত দিয়েই আসছে। এ যেন ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সেই চেনা চিত্রনাট্যের নতুন মঞ্চায়ন। সেদিনও বিএনপি আর জামায়াত হাত ধরে দেশ চালিয়েছিল, আর মানুষ সেই অপশাসনের স্বাদ ভোলেনি। এখন ২০২৬ সালে এসে সেই জোটের ছায়া আবার লম্বা হচ্ছে।

সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, এই ঘটনার বিপরীতের প্রতিক্রিয়া। ফিলিস্তিনের জন্য মশাল মিছিল হয়, সীমান্তের ওপারের ইস্যুতে বিবৃতির বন্যা বয়। অথচ নিজের দেশের সংবিধানে বিশ্বাসের শর্ত যুক্ত হচ্ছে, আর যাঁরা রোজ ধর্মনিরপেক্ষতার বুলি আওড়ান, তাঁরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। হিন্দুত্ববাদ-জায়নবাদের বিরুদ্ধে যাঁদের কণ্ঠ এত সোচ্চার, তাঁরা নিজের দেশে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রকাঠামোর দিকে এগোনোর সময় এত নীরব কেন? এই দ্বিমুখিতা কি নীতির প্রশ্ন, নাকি সুবিধার? তাঁদের মতে ধর্মনিরপেক্ষতা এই মহলের কাছে সংবিধানের নীতি নয়, প্রয়োজন মতো পরার একটা মুখোশ। যেখানে সুবিধা, সেখানে আধুনিকতা। যেখানে ভোটের হিসাব, সেখানে নীরবতা।

এই জায়গাতে এসেই রেড-গ্রীণ অ্যালায়েন্সের কথা মনে পড়ছে। বাম আর ইসলামপন্থীরা আপাত-বিরোধী মনে হলেও আসলে একই মুদ্রার দুই পিঠ। ১৯৬৪ সাল থেকেই এই অলিখিত সমঝোতা চলে আসছে, যেখানে একপক্ষ প্রগতির মোড়কে আর অন্যপক্ষ ঈমানের মোড়কে একই ক্ষমতার খেলা খেলে। দরকার হলে হাত মেলায়, দরকার হলে চোখ বুজে থাকে। সংবিধানে আল্লাহর নাম বসানোর এই প্রশ্নে তাদের নীরবতা সেই পুরোনো সমঝোতারই আরেকটা প্রমাণ।

যে সংবিধান সব নাগরিকের, সেখানে একটি বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস রাষ্ট্রের ঘোষণা হয়ে গেলে ভিন্ন ধর্মের, ভিন্ন মতের নাগরিকেরা কোথায় দাঁড়াবেন? আর কাজের রেকর্ডের বদলে ধর্মকে ঢাল বানানো সরকার এবং তার সঙ্গী দলকে মানুষ কীভাবে বিশ্বাস করবে? আল্লাহর উপর বিশ্বাস ব্যক্তির ব্যাপার। কিন্তু সেই বিশ্বাসকে রাজনীতির হাতিয়ার বানালে সেটা আর ধর্ম থাকে না, হয়ে যায় ক্ষমতার ব্যবসা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, সংবিধানে “আল্লাহর উপর পূর্ণ বিশ্বাস” ফিরিয়ে আনতে সংশোধনী আসছে। রাষ্ট্রের কাজ নাগরিকের নিরাপত্তা, চাকরি, দ্রব্যমূল্য আর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু ক্ষমতাসীন বিএনপির অগ্রাধিকারের তালিকায় উঠে এলো ঈমানের ঘোষণা। যে দেশ শুরু থেকেই ধর্মপ্রাণ মানুষের দেশ, সেখানে সংবিধানের পাতায় বিশ্বাসের সনদ বসানোর দরকারটা ঠিক কার? মানুষ তো নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, সংবিধান দেখে ঈমান আনে না। আসল দরকার তাঁদের, যাঁদের হাতে শাসন করার মতো কাজের রেকর্ড নেই, কিন্তু ধর্মের নামে হাততালি কুড়ানোর অভ্যাস আছে।

এটা আসলে ধর্মের প্রশ্নই নয়, ক্ষমতার হিসাব। বিএনপি জানে, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ঠেকাতে ব্যর্থতার জবাব দেওয়া কঠিন, কিন্তু আল্লাহর নামে আবেগ জাগানো সহজ। আর পাশে বসা জামায়াতে ইসলামীর জন্য এটা তো ঈদের চাঁদের মতো! সংসদে ক্ষমতার ভাগ পাওয়া দলটি যা বছরের পর বছর চেয়েছে, সেটা এখন বিএনপির হাত দিয়েই আসছে। এ যেন ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সেই চেনা চিত্রনাট্যের নতুন মঞ্চায়ন। সেদিনও বিএনপি আর জামায়াত হাত ধরে দেশ চালিয়েছিল, আর মানুষ সেই অপশাসনের স্বাদ ভোলেনি। এখন ২০২৬ সালে এসে সেই জোটের ছায়া আবার লম্বা হচ্ছে।

সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, এই ঘটনার বিপরীতের প্রতিক্রিয়া। ফিলিস্তিনের জন্য মশাল মিছিল হয়, সীমান্তের ওপারের ইস্যুতে বিবৃতির বন্যা বয়। অথচ নিজের দেশের সংবিধানে বিশ্বাসের শর্ত যুক্ত হচ্ছে, আর যাঁরা রোজ ধর্মনিরপেক্ষতার বুলি আওড়ান, তাঁরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। হিন্দুত্ববাদ-জায়নবাদের বিরুদ্ধে যাঁদের কণ্ঠ এত সোচ্চার, তাঁরা নিজের দেশে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রকাঠামোর দিকে এগোনোর সময় এত নীরব কেন? এই দ্বিমুখিতা কি নীতির প্রশ্ন, নাকি সুবিধার? তাঁদের মতে ধর্মনিরপেক্ষতা এই মহলের কাছে সংবিধানের নীতি নয়, প্রয়োজন মতো পরার একটা মুখোশ। যেখানে সুবিধা, সেখানে আধুনিকতা। যেখানে ভোটের হিসাব, সেখানে নীরবতা।

এই জায়গাতে এসেই রেড-গ্রীণ অ্যালায়েন্সের কথা মনে পড়ছে। বাম আর ইসলামপন্থীরা আপাত-বিরোধী মনে হলেও আসলে একই মুদ্রার দুই পিঠ। ১৯৬৪ সাল থেকেই এই অলিখিত সমঝোতা চলে আসছে, যেখানে একপক্ষ প্রগতির মোড়কে আর অন্যপক্ষ ঈমানের মোড়কে একই ক্ষমতার খেলা খেলে। দরকার হলে হাত মেলায়, দরকার হলে চোখ বুজে থাকে। সংবিধানে আল্লাহর নাম বসানোর এই প্রশ্নে তাদের নীরবতা সেই পুরোনো সমঝোতারই আরেকটা প্রমাণ।

যে সংবিধান সব নাগরিকের, সেখানে একটি বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস রাষ্ট্রের ঘোষণা হয়ে গেলে ভিন্ন ধর্মের, ভিন্ন মতের নাগরিকেরা কোথায় দাঁড়াবেন? আর কাজের রেকর্ডের বদলে ধর্মকে ঢাল বানানো সরকার এবং তার সঙ্গী দলকে মানুষ কীভাবে বিশ্বাস করবে? আল্লাহর উপর বিশ্বাস ব্যক্তির ব্যাপার। কিন্তু সেই বিশ্বাসকে রাজনীতির হাতিয়ার বানালে সেটা আর ধর্ম থাকে না, হয়ে যায় ক্ষমতার ব্যবসা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ