মামলা হলে আদালত, আদালত হলে দৃষ্টান্তমূলক সাজা, সাজা হলে সমাজে বার্তা – এই ভয়টাই যাদের ছিল, তারা মামলা পর্যন্ত পৌঁছাতে দেয়নি। ২০ আগস্ট ধর্ষণ হলো, ২৬ আগস্ট বসে গেল সালিস। ছয় দিনের মাথায় পুরো ঘটনাকে টাকার অঙ্কে নামিয়ে আনার এই গতি বলে দেয়, এটা কোনো তাৎক্ষণিক গ্রাম্য আপোষ না, এটা পরিকল্পিত।
লক্ষ্য করুন কাদের নিয়ে বসল সেই বৈঠক। নেতৃত্বে খোদ ইউপি সদস্য আবেদুর রহমান আবেদ, স্থানীয় সরকার কাঠামোর অংশ। তাকে সাহায্য করতে পাশের জেলা থেকে টেনে আনা হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক সাবেক চেয়ারম্যানকে। একটা ফৌজদারি অপরাধ ধামাচাপা দিতে দুই উপজেলার প্রভাবশালীদের জোট লাগে, এটাই বলে দেয় স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামো কতটা সহজে অপরাধীর পক্ষে দাঁড়িয়ে যায়।
আর থানা? ওসি সোহেল রানার ভাষ্য শুনুন, লোকমুখে শুনেছেন, জেনেছেন স্থানীয়ভাবে মিটে গেছে। একজন ওসির কাছে একটা ধর্ষণ মামলা এসে দাঁড়ায় গুজবের মতো, আর মীমাংসার খবর আসে নিশ্চিত তথ্যের মতো। এফআইআর নেই, মামলা নেই, ময়নাতদন্ত-পরবর্তী কোনো আইনি অগ্রগতির প্রশ্ন নেই। রাষ্ট্রের সবচেয়ে কাছের প্রতিষ্ঠান জেনে-শুনে চুপ করে থেকেছে।
সবচেয়ে নির্মম হিসাবটা টাকার। ৯০ হাজার ঠিক হলো, দেওয়া হলো ২০ হাজার। বাকি ৭০ হাজার কার পকেটে গেল, সেই প্রশ্ন করার সাহসও নেই ভুক্তভোগীর মায়ের, কারণ যাদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার কথা, তারাই স্থানীয় ক্ষমতার মালিক। এটা নিছক বিচারহীনতা না, এটা ধর্ষণকে পুঁজি করে বাণিজ্য।
বিএনপি আর জামায়াত সংসদ দখল করে বসে আছে ফেব্রুয়ারি থেকেই এই বছরের। অথচ মাঠপর্যায়ে দলীয় কাঠামোর ভেতর দিয়েই একটা ধর্ষণ মামলা কাগজে ওঠার আগেই টাকায় রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে, আর যে প্রতিষ্ঠান এটা ঠেকানোর কথা, সেই পুলিশ তা মেনে নিচ্ছে নীরবতা দিয়ে। ২০০১-০৬ সালের সেই চেনা ছবি – ক্ষমতার ছত্রছায়ায় অপরাধ ধামাচাপা, ভুক্তভোগীর মুখ বন্ধ রাখা, প্রভাবশালীদের রক্ষা – সেটাই যেন আরেকবার ফিরে এলো ২০২৬ সালে।

