আন্তর্জাতিক বাজারে পেঁয়াজের দাম ছয় মাসে বেড়েছে ১৫০ শতাংশ। টনপ্রতি ১০৮ ডলার থেকে লাফিয়ে ২৭০ ডলার। অথচ দেশের বাজারে এই দাম বাড়ার হার মাত্র ১০ শতাংশ। এই হিসাবটা দেখে প্রথমে স্বস্তি লাগার কথা। কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়, যে অবৈধ দখলদার সরকার ক্ষমতায় বসে আছে তারা কি আদৌ দাম নিয়ন্ত্রণে কিছু করতে পেরেছে নাকি শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে দিন কাটাচ্ছে?
বিএনপি আর জামাত আবারও পুরনো চেহারায় ফিরেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল, এই পাঁচ বছর তো দেশ ভুলে যায়নি। তখন পেঁয়াজের দাম আকাশছোঁয়া ছিল, চিনি কিনতে হতো রীতিমতো দানা গুনে গুনে, গমের আটা ছিল জনগণের নাগালের বাইরে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আঁতাত করে বাজার গরম করা ছিল ওদের অভ্যাস। এখনো কি সেই চিত্রনাট্যই চলছে?
দেশের বাজারে পেঁয়াজের কেজি ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ টাকা হয়েছে। কিন্তু ভোক্তারা জানেন, বাস্তব বাজার তার চেয়ে অনেক চড়া। বাজার ঘুরলেই চোখে পড়ে ৭০ টাকা, ৮০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। সরকারি হিসাব আর বাস্তবের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। কে এই তফাতের দায় নেবে? যারা ক্ষমতায় বসে আছেন তারা নয়তো?
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে ব্যবসায়ীরা টের পায় না, কিন্তু দাম বাড়লেই দেশে তার প্রতিফলন ঘটে রাতারাতি। ভোক্তা অধিকার নিয়ে কথা বলা সংগঠনগুলোর কর্তাব্যক্তিরাও স্বীকার করছেন, ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক দামকে অজুহাত বানিয়ে লুটপাট চালায়। প্রশ্ন হলো, এই লুটপাট কারা বন্ধ করবে? যে সরকারের মন্ত্রীরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে চা খান, তারাই কি বাজার ধরবেন?
আগস্ট মাস চলছে ২০২৬ সালের। পরিশোধিত চিনির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ, অপরিশোধিত চিনি বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি। দেশে চিনির দাম ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে চিনি এখন প্রায় বিলাসিতা।
গমের দাম কমেছে আন্তর্জাতিক বাজারে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু দেশের বাজারে আটার দাম কি কমেছে? মোটেও না। বরং রুটির দাম বেড়েছে, বিস্কুটের দাম বেড়েছে, নুডলসের দাম বেড়েছে। দাম কমার খবরটা শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। জনগণের পাতে তার কোনো ছাপ নেই।
২০০১-০৬ সালের কথা মনে পড়ে? তখনকার বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে পেঁয়াজের দাম এমনই লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছিল। সাধারণ মানুষ কেঁদেছিল, আর ক্ষমতায় বসা লোকজন হাসত। এখনো কি সেই হাসিই হাসছে কেউ? বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জবাবদিহি তো দূরের কথা, আন্তর্জাতিক বাজারের নাম করে দায় এড়ানোর চেষ্টাই যেন মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পেঁয়াজের দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাধারণ মানুষের চোখের জল। এই চোখের জলের দাম কে দেবে?

