আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গুলোতে ব্যয় বাড়ানোর নামেে দেশজুড়ে অর্থ লুটপাটের নজিরবিহীন মহোৎসব শুরু করেছে বিএনপি সরকার! এমআরটি-১-এর পর এবার মেগা প্রকল্প এমআরটি-৫ (নর্দার্ন রুট)-এর ব্যয় অহেতুক ১২৬ শতাংশ বাড়িয়ে ৪১ হাজার কোটি টাকার জায়গায় ৯৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে! জনগণের পকেটের টাকা আর ঋণের বোঝার ওপর ভর করে নিজেদের পকেট ভারি করার সুগভীর চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়।
যেখানে একই পাতালপথে অন্যান্য আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ও বিকল্প দরপত্রে অনেক কম খরচে কাজ সম্ভব, সেখানে কৃত্রিম শর্ত জুড়ে দিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত দেওয়ার এই চক্রান্ত নগ্ন দুর্নীতির প্রমাণ।
মেগা প্রকল্পের আড়ালে বিএনপির মেগা চক্রান্ত
১. অহেতুক ব্যয় বৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় অর্থের হরিলুট: ২০১৯ সালে অনুমোদিত ৪১ হাজার ২৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প হঠাৎ করে বাড়িয়ে ৯৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা করা সাধারণ কোনো বাজেট সংশোধন নয়; এটি স্পষ্ট অর্থনৈতিক অপরাধ। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আর টাকার অবমূল্যায়নের দোহাই দিয়ে মূল খরচের তিনগুণেরও বেশি দরপ্রস্তাব মেনে নেওয়ার অর্থ হলো—প্রকল্পের অসং সংগৃহীত টাকা পার্সেন্টেজ হিসেবে ওপর মহলে বণ্টন করা।
২. সীমিত প্রতিযোগিতার নামে দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্য: বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, দরপত্রের শর্তাবলি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয়। পুনরায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র (International Competitive Bidding) না ডেকে অতিরিক্ত দর দেওয়া ঠিকাদারদের সুযোগ দেওয়ার পেছনে কাজ করছে কোটি কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য। বিএনপি সরকার কেবল নিজেদের পছন্দের সিন্ডিকেটকে কাজ দিয়ে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে।
৩. মেয়াদের নামে দীর্ঘমেয়াদী দেনার ফাঁদ: ২০২৮ সালের কাজ ২০৩৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করে কেবল নির্মাণ ব্যয়ই নয়, বরঞ্চ ভবিষ্যতে এর বিশাল পরিচালন ব্যয় দিয়ে সাধারণ জনগণকে নিঃস্ব করার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। একদিকে বিদ্যুতের চরম সংকট ও দেশের অর্থনৈতিক ধস, অন্যদিকে মেগা প্রজেক্ট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই দ্বিমুখী চক্রান্ত জনগণ মেনে নেবে না। উন্নয়নের আড়ালে রাষ্ট্রীয় অর্থ চুরির এই দুঃশাসন বেশিদিন চলতে পারে না—জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি সরকারের প্রতিটি অর্থনৈতিক অপরাধ্যের হিসাব রাজপথেই বুঝে নেওয়া হবে!

