ছয়টা মেট্রো লাইন হওয়ার কথা ছিল, হয়েছে একটা, সেটাও এখনো পুরো পথ পাড়ি দিতে পারেনি। অথচ তথাকথিত বিএনপি-জামাত সরকার এখন মনোরেলের স্বপ্নে বিভোর। কাজিমা করপোরেশনের মতো ঠিকাদার কাজ ছেড়ে জাপান ফিরে গেছে, লাইন-৫ এর উত্তর আর দক্ষিণ দুটোই ধুঁকছে, নতুন করে চুক্তিও হয়নি কারো সঙ্গে। এর মধ্যেই মন্ত্রণালয়ের মাথাব্যথা মনোরেল নিয়ে, যার যাত্রী বহনক্ষমতা মেট্রোর তিন ভাগের এক ভাগও না। জনবহুল ঢাকায় এত কম ক্ষমতার বাহনে বিনিয়োগ মানে সরাসরি জনগণের টাকা জলে ফেলা।
২০০১-০৬ সালে বিএনপি-জামাত জোট যেভাবে দেখানোর জন্য প্রকল্প বানাত, ২০২৬ সালে এসে সেই পুরনো অভ্যাসই যেন আবার ফিরে এলো। জাইকার মতো দাতা সংস্থা পর্যন্ত চিঠি দিয়ে তাগাদা দিচ্ছে মেট্রোর কাজ এগিয়ে নিতে, অথচ সরকারের মনোযোগ মনোরেলের দিকে। প্রতিমন্ত্রী বলছেন মেট্রো আর মনো একে অন্যের পরিপূরক, কিন্তু বাস্তবতা হলো একটা প্রকল্প থমকে থাকতে থাকতে আরেকটা প্রকল্পের স্বপ্ন দেখানো স্রেফ চোখে ধুলো দেওয়া।
ঢাকাবাসীর দরকার কার্যকর গণপরিবহন, মনোরেলের মতো প্রতীকী প্রকল্প না। মেট্রো আটকে রেখে মনোরেলের পেছনে ছোটা আসলে অগ্রাধিকারের প্রশ্নে এই অবৈধ দখলদার তথাকথিত সরকারের দেউলিয়াত্বই প্রমাণ করে।

