ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ছাত্রশিবিরের সমর্থনে নির্বাচিত, আর শিবির তো জামায়াতের রাজনৈতিক গর্ভেই জন্ম নেওয়া সংগঠন। এই নেতৃত্বের হাত ধরেই ক্যাফেটেরিয়ায় পর্দা ঝোলানো হয়েছে, এটা কাকতালীয় কোনো ঘটনা নয়, এটা জামায়াতি রাজনীতির পুরনো এজেন্ডার ধারাবাহিকতা। মেয়েদের চলাফেরা, পোশাক, বসার জায়গা নিয়ন্ত্রণ করাটা তাদের কাছে সবসময়ই ‘সংস্কার’, বাকি সবার কাছে যেটা নজরদারি।
আর বিএনপি? দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকারে বসে থাকা দলটা কোথায়? উপাচার্য নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে যাদের অনুমোদন লাগে, তারা টু শব্দটিও করেনি। ২০০১-০৬ সালে ঠিক এই কম্বিনেশনেই ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ কায়েম হয়েছিল, তার নথিপত্র আজও সংবাদপত্রের আর্কাইভে আছে। সেই ইতিহাস ভুলে যাওয়ার কথা না, অথচ ২০ বছর পর ক্ষমতায় ফিরেই একই স্ক্রিপ্ট মঞ্চস্থ হচ্ছে, শুধু চরিত্রের নাম বদলেছে।
একটা ছাত্রসংসদ চাইলে ক্যাফেটেরিয়ায় ভালো খাবার নিশ্চিত করতে পারত, দাম কমাতে পারত, বসার জায়গা বাড়াতে পারত। তার বদলে তারা বেছে নিয়েছে কাপড়ের দেয়াল। আর যে সরকার এটা দেখেও চুপ, তারা প্রমাণ করছে, তাদের কাছে ক্যাম্পাসের রাজনীতি মানে নারী-পুরুষ কীভাবে বসবে সেটা ঠিক করা, শিক্ষার মান নয়।

