কারাগার নাকি বধ্যভূমি? ৯ দিনের ব্যবধানে ২ আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু ও নীরব নিধনের ভয়াবহ সত্য। সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে ৯ দিনের ব্যবধানে শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম লিটন এবং সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক বাবলু মণ্ডলে কারাগারের মৃত্যু। এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা কিংবা স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে না; এটি কাস্টডি বা কারা হেফাজতে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবহেলার মাধ্যমে চালানো নীরব রাজনৈতিক নিধনের এক নির্মম চিত্র।
৫ আগস্টের পরবর্তী রাজনৈতিক মারামারি ও বিস্ফোরক মামলায় দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার ও কারাভোগের খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক নেতার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া স্বাভাবিক কোনো দুর্ঘটনা হতে পারে না।
বিএনপি এবং জামায়তের রাজনৈতিক ভিন্নমতের বন্দিদের ওপর কারাগারে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলা এবং চিকিৎসার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার যে কালচার গড়ে উঠেছে, তা মূলত কোনো রাজনৈতিক দলকে সাংগঠনিকভাবে পঙ্গু ও নিশ্চিহ্ন করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনারই রূপ।
বিএনপি সরকার এখন কারাগারের নিরাপদ বেষ্টনীকে এখন রাজনৈতিক বিরোধীদের নিশ্চিহ্ন করার নীরবে পরিচালিত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাছে।

