আ.লীগ সরকার ফেলতে ইউএসএইডের ২৯ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প, অর্থ পেয়েছে যারা

বাংলাদেশে ‘রাজনৈতিক পরিবেশ শক্তিশালীকরণ’ (এসপিএল) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএইড)-এর ২৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলারের একটি তহবিলের ব্যবহার নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ফাঁস হওয়া নথিপত্রের বরাতে দাবি করা হচ্ছে, এই তহবিলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে দৈনিক সমকাল, বিটনিক মার্কেটিং কমিউনিকেশনস এবং দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের কাছে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে দাঙ্গায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের নেপথ্যে এই তহবিলের প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ইউএসএইড এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ শক্তিশালীকরণ’-এর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। শুরুতে এই প্রকল্পের বাজেট ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার থাকলেও, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে বরাদ্দ প্রায় ১৫৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে ২৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়। এই প্রকল্পের অর্থায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘নর্থইস্ট নিউজ’-এর হাতে আসা নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই তহবিলের অর্থ প্রধানত তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ব্যয় করার পরিকল্পনা ছিল:

দৈনিক সমকাল: হা-মীম গ্রুপের কর্ণধার এ. কে. আজাদের মালিকানাধীন এই পত্রিকাটিকে প্রায় ২৯ হাজার ডলার প্রদান করা হয়। তরুণ ও নারী নেতৃত্ব নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনের জন্য এই উপ-অনুদান বরাদ্দ ছিল।

মীর শাহাদৎ হোসেনের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠান বিটনিক মার্কেটিং কমিউনিকেশনসকে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার ২০০ ডলার দেওয়া হয়। তাদের দায়িত্ব ছিল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সংঘাত নিরসন বিষয়ে একটি ‘ডিজিটাল জ্ঞানভাণ্ডার’ তৈরি করা।

ড. বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট তহবিলের বড় অংশ পেয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতা নথিভুক্ত করা এবং দলগুলোকে শান্তিপূর্ণ বিকল্পে উৎসাহিত করার জন্য সংস্থাটিকে কয়েক দফায় অর্থ প্রদান করা হয়। নথির তথ্যমতে, ৫ মিলিয়ন ও ১.৫ মিলিয়ন ডলারের পৃথক কিস্তিসহ মোট ২৯.৯ মিলিয়নের মধ্যে প্রায় ২৮ মিলিয়ন ডলারই বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই তহবিলের বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে (সিপিএসি) দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অনুদানের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবেশ শক্তিশালী করার নামে দেওয়া এই অর্থ মূলত একজন ‘র‍্যাডিক্যাল বামপন্থী’ নেতাকে ক্ষমতায় বসাতে ব্যয় হয়েছে। একই সময়ে ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ (ডোজ) এই রাজনৈতিক অনুদান কর্মসূচিটি বাতিল ঘোষণা করে।

ফাঁস হওয়া নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, এই প্রকল্পের পরিকল্পনার সাথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার গোপন সংশ্লিষ্টতা ছিল, যা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি বদলে ভূমিকা রেখেছিল। এছাড়া, ২০২৩ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোকেও তার পরবর্তী রাজনৈতিক ভূমিকার প্রস্তুতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে ‘রাজনৈতিক পরিবেশ শক্তিশালীকরণ’ (এসপিএল) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএইড)-এর ২৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলারের একটি তহবিলের ব্যবহার নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ফাঁস হওয়া নথিপত্রের বরাতে দাবি করা হচ্ছে, এই তহবিলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে দৈনিক সমকাল, বিটনিক মার্কেটিং কমিউনিকেশনস এবং দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের কাছে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে দাঙ্গায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের নেপথ্যে এই তহবিলের প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ইউএসএইড এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ শক্তিশালীকরণ’-এর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। শুরুতে এই প্রকল্পের বাজেট ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার থাকলেও, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে বরাদ্দ প্রায় ১৫৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে ২৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়। এই প্রকল্পের অর্থায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘নর্থইস্ট নিউজ’-এর হাতে আসা নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই তহবিলের অর্থ প্রধানত তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ব্যয় করার পরিকল্পনা ছিল:

দৈনিক সমকাল: হা-মীম গ্রুপের কর্ণধার এ. কে. আজাদের মালিকানাধীন এই পত্রিকাটিকে প্রায় ২৯ হাজার ডলার প্রদান করা হয়। তরুণ ও নারী নেতৃত্ব নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনের জন্য এই উপ-অনুদান বরাদ্দ ছিল।

মীর শাহাদৎ হোসেনের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠান বিটনিক মার্কেটিং কমিউনিকেশনসকে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার ২০০ ডলার দেওয়া হয়। তাদের দায়িত্ব ছিল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সংঘাত নিরসন বিষয়ে একটি ‘ডিজিটাল জ্ঞানভাণ্ডার’ তৈরি করা।

ড. বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট তহবিলের বড় অংশ পেয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতা নথিভুক্ত করা এবং দলগুলোকে শান্তিপূর্ণ বিকল্পে উৎসাহিত করার জন্য সংস্থাটিকে কয়েক দফায় অর্থ প্রদান করা হয়। নথির তথ্যমতে, ৫ মিলিয়ন ও ১.৫ মিলিয়ন ডলারের পৃথক কিস্তিসহ মোট ২৯.৯ মিলিয়নের মধ্যে প্রায় ২৮ মিলিয়ন ডলারই বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই তহবিলের বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে (সিপিএসি) দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অনুদানের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবেশ শক্তিশালী করার নামে দেওয়া এই অর্থ মূলত একজন ‘র‍্যাডিক্যাল বামপন্থী’ নেতাকে ক্ষমতায় বসাতে ব্যয় হয়েছে। একই সময়ে ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ (ডোজ) এই রাজনৈতিক অনুদান কর্মসূচিটি বাতিল ঘোষণা করে।

ফাঁস হওয়া নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, এই প্রকল্পের পরিকল্পনার সাথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার গোপন সংশ্লিষ্টতা ছিল, যা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি বদলে ভূমিকা রেখেছিল। এছাড়া, ২০২৩ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোকেও তার পরবর্তী রাজনৈতিক ভূমিকার প্রস্তুতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ