১৭ মেগাওয়াটের সরকার!

কুয়াকাটায় এখন আধা ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ যাচ্ছে। চাহিদা ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট, পাওয়া যাচ্ছে ১৭ মেগাওয়াট। এই সংখ্যাটা একটু মাথায় রাখেন। মানে সরকার মোট চাহিদার এক-তৃতীয়াংশও দিতে পারছে না। বাকি দুই-তৃতীয়াংশের হিসাব কেউ দিচ্ছে না, মন্ত্রীরা কিছু বলছে না, সংসদে কোনো জবাবদিহি নেই। দেশের একটা পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকরা হোটেলের ঘরে আটকা পড়ে আছে, দোকানিরা হাতপাখা কিনে দোকানে বসছে, আর যারা ক্ষমতায় আছে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে বলে দায় সারছে।

এই সরকার এসেছে ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে। সেই নির্বাচনে দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো ছিল না, ভোটাররা কেন্দ্রে যায়নি, আর যা হয়েছে সেটাকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বলতে গেলে লজ্জা লাগে। পাতানো একটা অনুষ্ঠান সেরে যারা মন্ত্রী হয়েছে, তাদের কাছে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকার কোনো কারণ নেই। কারণ জনগণ তাদের বসায়নি। সেই বাস্তবতাটা কুয়াকাটার বিদ্যুৎ সংকটেও স্পষ্ট। জনগণের ভোগান্তি নিয়ে যাদের মাথাব্যথা নেই তারা ১৭ মেগাওয়াট দিয়েই পার পেয়ে যাবে, কেউ টুঁ শব্দ করবে না।

বিএনপির ইতিহাসটা নতুন করে বলার দরকার নেই, তবু একটু মনে করিয়ে দেওয়া দরকার। ২০০১ থেকে ২০০৬, সেই পাঁচ বছর বাংলাদেশ কী দেখেছে। বিদ্যুৎ সংকট, শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ, সন্ধ্যার পর ঘরে ঘরে অন্ধকার। সেই সময়টার সঙ্গে এখনকার মিল দেখলে গা শিউরে ওঠে। তখনও একই দল, একই ধরনের শাসন, একই ফলাফল। মাঝখানে দেড় দশকে দেশের বিদ্যুৎ খাত যতটুকু এগিয়েছিল, সেটা মাটিতে মিশিয়ে দিতে এই সরকারের বেশি সময় লাগেনি।

হাতপাখার বিক্রি বাড়াকে যারা গ্রামীণ ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন বলে উৎসব করতে চান, তাদের বলি, মানুষ শখ করে হাতপাখা কিনছে না। বাঁচার জন্য কিনছে। সাতক্ষীরা থেকে আসা ইউনুস আলী একদিনে একশোর বেশি পাখা বেচেছেন, কারণ মানুষের কাছে আর কোনো উপায় নেই। এটা সাফল্যের গল্প না, এটা ব্যর্থতার দলিল।

দেশের পর্যটন খাত এমনিতেই নাজুক। কুয়াকাটায় পর্যটক আসে, থাকে, খরচ করে। সেই পর্যটকরা যখন গরমে হোটেলের ঘরে বন্দী হয়ে পড়ে, যখন রাতে ঘুমাতে পারে না, যখন ফিরে গিয়ে বলে আর যাব না, তখন সেই ক্ষতি শুধু একটা হোটেলের না, পুরো এলাকার। কিন্তু বিএনপির মন্ত্রিসভায় এই হিসাব করার লোক আছে বলে মনে হয় না। থাকলে পর্যটনের জন্য আলাদা বাজেট থাকত, সংকট সমাধানের রোডম্যাপ থাকত।

জনগণের ভোট ছাড়া ক্ষমতায় আসা সরকারের কাছে জবাবদিহি চাওয়া যায় না, এটা সত্যি। কিন্তু ইতিহাস মনে রাখে। ২০০১-০৬ এর অন্ধকার বাংলাদেশ মনে রেখেছিল। এই অন্ধকারও মনে থাকবে।

কুয়াকাটায় এখন আধা ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ যাচ্ছে। চাহিদা ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট, পাওয়া যাচ্ছে ১৭ মেগাওয়াট। এই সংখ্যাটা একটু মাথায় রাখেন। মানে সরকার মোট চাহিদার এক-তৃতীয়াংশও দিতে পারছে না। বাকি দুই-তৃতীয়াংশের হিসাব কেউ দিচ্ছে না, মন্ত্রীরা কিছু বলছে না, সংসদে কোনো জবাবদিহি নেই। দেশের একটা পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকরা হোটেলের ঘরে আটকা পড়ে আছে, দোকানিরা হাতপাখা কিনে দোকানে বসছে, আর যারা ক্ষমতায় আছে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে বলে দায় সারছে।

এই সরকার এসেছে ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে। সেই নির্বাচনে দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো ছিল না, ভোটাররা কেন্দ্রে যায়নি, আর যা হয়েছে সেটাকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বলতে গেলে লজ্জা লাগে। পাতানো একটা অনুষ্ঠান সেরে যারা মন্ত্রী হয়েছে, তাদের কাছে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকার কোনো কারণ নেই। কারণ জনগণ তাদের বসায়নি। সেই বাস্তবতাটা কুয়াকাটার বিদ্যুৎ সংকটেও স্পষ্ট। জনগণের ভোগান্তি নিয়ে যাদের মাথাব্যথা নেই তারা ১৭ মেগাওয়াট দিয়েই পার পেয়ে যাবে, কেউ টুঁ শব্দ করবে না।

বিএনপির ইতিহাসটা নতুন করে বলার দরকার নেই, তবু একটু মনে করিয়ে দেওয়া দরকার। ২০০১ থেকে ২০০৬, সেই পাঁচ বছর বাংলাদেশ কী দেখেছে। বিদ্যুৎ সংকট, শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ, সন্ধ্যার পর ঘরে ঘরে অন্ধকার। সেই সময়টার সঙ্গে এখনকার মিল দেখলে গা শিউরে ওঠে। তখনও একই দল, একই ধরনের শাসন, একই ফলাফল। মাঝখানে দেড় দশকে দেশের বিদ্যুৎ খাত যতটুকু এগিয়েছিল, সেটা মাটিতে মিশিয়ে দিতে এই সরকারের বেশি সময় লাগেনি।

হাতপাখার বিক্রি বাড়াকে যারা গ্রামীণ ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন বলে উৎসব করতে চান, তাদের বলি, মানুষ শখ করে হাতপাখা কিনছে না। বাঁচার জন্য কিনছে। সাতক্ষীরা থেকে আসা ইউনুস আলী একদিনে একশোর বেশি পাখা বেচেছেন, কারণ মানুষের কাছে আর কোনো উপায় নেই। এটা সাফল্যের গল্প না, এটা ব্যর্থতার দলিল।

দেশের পর্যটন খাত এমনিতেই নাজুক। কুয়াকাটায় পর্যটক আসে, থাকে, খরচ করে। সেই পর্যটকরা যখন গরমে হোটেলের ঘরে বন্দী হয়ে পড়ে, যখন রাতে ঘুমাতে পারে না, যখন ফিরে গিয়ে বলে আর যাব না, তখন সেই ক্ষতি শুধু একটা হোটেলের না, পুরো এলাকার। কিন্তু বিএনপির মন্ত্রিসভায় এই হিসাব করার লোক আছে বলে মনে হয় না। থাকলে পর্যটনের জন্য আলাদা বাজেট থাকত, সংকট সমাধানের রোডম্যাপ থাকত।

জনগণের ভোট ছাড়া ক্ষমতায় আসা সরকারের কাছে জবাবদিহি চাওয়া যায় না, এটা সত্যি। কিন্তু ইতিহাস মনে রাখে। ২০০১-০৬ এর অন্ধকার বাংলাদেশ মনে রেখেছিল। এই অন্ধকারও মনে থাকবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ